দিল্লির ‘লেডি ডন’ কে এই জয়া খান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
     ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

দিল্লির ‘লেডি ডন’ কে এই জয়া খান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ | ১১:৫৬ 110 ভিউ
বছরের পর বছর ধরে ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘লেডি ডন’ খ্যাত জয়া খানকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। ভারতের দিল্লির উত্তর-পূর্ব এলাকার ওয়েলকাম অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাকে ২৭০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করা হয়। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এই হেরোইন উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর থেকে আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অপরাধ জগতের রানি ৩৩ বছর বয়সি জয়া খান বহুদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন। তবে এতদিন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রমাণ মেলেনি। তিনি তার কুখ্যাত গ্যাংস্টার স্বামী হাশিম বাবা’র অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। হাশিম বাবা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এই হাশিম বাবার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচারসহ বহু মামলা রয়েছে। জয়া তার তৃতীয় স্ত্রী।

২০১৭ সালে হাশিমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এর আগে তিনি অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। সেই ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরই তিনি হাশিম বাবার সংস্পর্শে আসেন। তারা দুজনেই দিল্লির উত্তর-পূর্ব এলাকায় প্রতিবেশী ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের সম্পর্কের শুরু। ডনের ছায়ায় গ্যাং পরিচালনা হাশিম বাবা কারাগারে যাওয়ার পর জয়া তার পুরো গ্যাং পরিচালনার দায়িত্ব নেন। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সূত্রে জানা গেছে, তিনি দাউদ ইব্রাহিমের বোন হাসিনা পারকারের মতো পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তার কাজের মধ্যে ছিল চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও আর্থিক লেনদেন সামলানো। জয়া খান সামাজিকভাবে নিজেকে সাধারণ অপরাধীদের মতো তুলে ধরতেন না। বরং তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, দামি পোশাক পরতেন,

পার্টিতে যেতেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জনপ্রিয়তাও ছিল অনেক বেশি। তিনি নিয়মিত তিহার জেলে স্বামী হাশিম বাবার সঙ্গে দেখা করতেন এবং সেখানে কোডেড ভাষায় তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করতেন। পুলিশের দাবি, তিনি গোপনে হাশিমের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তার নির্দেশে পুরো গ্যাং পরিচালনা করতেন। গ্রেফতার এবং অপরাধমূলক সংযোগ দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও দিল্লি পুলিশ জয়াকে ধরতে পারেনি। তবে সম্প্রতি স্পেশাল সেলের একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি নাদির শাহ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন। নাদির শাহ দক্ষিণ দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ-১ এলাকার এক জিম মালিক ছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি গুলিতে নিহত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল

সেল জয়াকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। পারিবারিক ইতিহাস জয়ার পরিবারের সঙ্গেও অপরাধ জগতের যোগসূত্র রয়েছে। তার মা ২০২৪ সালে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে মুক্ত। তার বাবাও মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জয়া মূলত দিল্লির উসমানপুর এলাকায় অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালাতেন এবং সবসময় ৪-৫ জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করতেন। এই দেহরক্ষীরা তার স্বামী হাশিম বাবার বিশ্বস্ত অনুচর। দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বহুদিন ধরেই অপরাধ চক্রের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে চেনু গ্যাং, হাশিম বাবা গ্যাং, নাসির পহেলওয়ান গ্যাং-এর মতো অপরাধী সংগঠন সক্রিয়। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হাশিম বাবার নাম মূলত গত বছর নাদির শাহ হত্যাকাণ্ডের সময়েই উঠে আসে। তখন তিনি

তিহার জেলে বন্দি ছিলেন এবং তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি এই হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ সময় তিনি লরেন্স বিষ্ণোই-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। এই লরেন্স বিষ্ণোই আবার পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যা ও বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়ির সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত। পুলিশের মতে, ২০২১ সালে কারাগারে থাকার সময় হাশিম বাবা ও লরেন্স বিষ্ণোই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গোপন মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জেলের ভেতর থেকেই তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যান। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে আতঙ্কের সমাপ্তি! এদিকে লেডি ডন জয়া খানের গ্রেফতারের ফলে দিল্লির অপরাধ জগতে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে পুলিশ মনে করছে, এখনো তার স্বামী হাশিম বাবার গ্যাং

পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়নি। তবে জয়ার গ্রেফতার এই অপরাধচক্রকে কতটা দুর্বল করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।সূত্র: এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
এলপিজি গ্যাস সংকট সহসাই কাটছেনা লোক দেখানো নিলামে গ্রামীণফোনকেই “৭০০ মেগাহার্টজের গোল্ডেন স্পেকট্রাম” দেওয়া হচ্ছে ‘নো বোট, নো ভোট’ স্লোগানে নির্বাচন বয়কটে নামছে আওয়ামী লীগ তরুণদের আন্দোলনে ক্ষমতায় আসা ইউনূসের কর্মসংস্থান ও চাকরী নিয়ে বাস্তবতাবিহীন নিষ্ঠুর রসিকতা বৈধতাহীন সরকারের অধীনে অর্থনৈতিক বিপর্যয় : সর্বনিম্ন বিনিয়োগে ডুবছে বাংলাদেশ মৌলবাদের অন্ধকারে যখন সংস্কৃতি গলা টিপে ধরা—তখনও বাংলাদেশ বেঁচে থাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায়…. সবাইকে পৌষ পার্বণ ও মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা। ১৬ বছরে যা হয়নি, ১৭ মাসেই সব ভেঙে পড়লো কিভাবে? রপ্তানি খাতে বড় পতন, সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি: দুর্নীতির মচ্ছবে ব্যাস্ত ইউনুস সরকারের বিশেষ সহকারী আবারো কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: মামলা ছাড়া আটক হুমায়ূন কবির, মৃত্যুর মিছিলে আরেকটি নাম চট্টগ্রাম বন্দরে শিবির–এনসিপি কোটায় নিয়োগ: ৯ জনকে পদায়ন নিজেদের নেওয়া ব্যাংক ঋণের চাপে অথৈ সমুদ্রে ইউনূস সরকার, অজানা গন্তব্যে অর্থনীতি ব্যালট বাক্স নয়, লাশের হিসাবই যখন বাস্তবতা এবার নিশানা বাঙালির পৌষ সংক্রান্তি : হাজার বছরের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি মুছে বর্বর ধর্মরাষ্ট্রের স্বপ্ন রক্তের দাগ মুছবে কে? নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে গেছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চাইতে নেমে ড. ইউনূস প্রমাণ করলেন—তিনি আর প্রধান উপদেষ্টা নন, তিনি একটি পক্ষের সক্রিয় কর্মী আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন কঠিন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে বিতর্কিত নিয়োগ নয়জন জুলাই সন্ত্রাসীকে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হ্যাঁ কিংবা না কোনো শব্দেই আমরা আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যেন কথা না বলি।কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফাঁদটাই হলো আমাদের মুখ খুলিয়ে দেওয়া। ইউনুস থেকে মাচাদো: নোবেল শান্তি পুরস্কার কি সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে?