ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে এলো আরও ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল
‘মা মাটি মোহনা বিদেশিদের দেব না’ স্লোগানে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ
রায় বহাল, ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে
আওয়ামী লীগের মিছিল মানেই পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য রমরমা!
নয় মাসের ব্যবধানে তিনগুণ বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার
যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে চুক্তি করল তিন দেশ
‘ভাতের জন্য সাগরে গেছিলো, সাত মাস হয়ে গেলো বুকের মানিক এখনও আসে না’
৭ মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ || নিখোঁজ শিশুর অঙ্গ পাচার, ৭ মাস পর মাহফিলে ভিক্ষা করতে এসে বাবার সঙ্গে দেখা
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিখোঁজ হওয়ার সাত মাস পর এক পায়ে ভর দিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। ভিক্ষাবৃত্তি ও অঙ্গ পাচারকারী চক্রের হাতে পড়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা এই শিশুর করুণ পরিণতি বর্তমানে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ছেলে রায়হান। হেফজখানায় পড়ালেখা করা চঞ্চল এই শিশুটিকে ৭ মাস আগে তার বাবা ১০০ টাকা দিয়ে চুল কাটতে পাঠান। কিন্তু রায়হান চুল না কেটে কক্সবাজার চলে যায়। সেখানে কিছু ছেলের সঙ্গে পরিচয় হলে ট্রেনের ছাদে চড়ে সে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়।
কমলাপুর থেকে একটি চক্র তাকে অপহরণ করে চারপাশে
বাগান ঘেরা একটি ঘরে আটকে রাখে। রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও অনেক ছেলে-মেয়ে বন্দি অবস্থায় ছিল। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে দেখে তার ডান পা নেই। চক্রের সদস্যরা তাকে জানায় যে সে নাকি ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছে। এরপর থেকেই প্রতিদিন হুইলচেয়ারে বসিয়ে তাকে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো এবং ভিক্ষার টাকা প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমা রাখা হতো। চক্রটি পরিচালনার পেছনে ‘সালমা’ নামের এক নারীসহ কয়েকজন যুক্ত ছিল বলে রায়হান জানায়। তার ডান পা কাটার পাশাপাশি পেটের ডান পাশে ও পিঠে তাজা অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ দাগ থাকায় পরিবার ও স্থানীয়দের সন্দেহ— ভিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি তার দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর রাত
সাড়ে ১২টার দিকে ঐতিহ্যবাহী চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় চেনা এক শিশুকে এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নবী। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রায়হানের বাবাকে খবর দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সন্তানকে পঙ্গু অবস্থায় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অটোরিকশাচালক বাবা নাজিম উদ্দিন ও সৎমা ফয়জুন্নেসা। স্বজনরা বর্বরোচিত এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবা ঢাকার অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গিয়ে চরম অসহায়ত্বের মুখোমুখি হয়েছেন। লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ জানায়— ঘটনাটি কমলাপুর এলাকার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানাতেই মামলা করতে হবে। তবে আর্থিক অক্ষমতার কারণে ঢাকায় গিয়ে মামলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শিশুটি নিখোঁজের পর পরিবার থেকে কোনো জিডি করা হয়নি। ঘটনার স্থান কমলাপুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) তথ্যমতে, পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫,৭১৭ জন শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩,৬৭৯ জন উদ্ধার হলেও এখনও ২,০৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে, যাদের বেশিরভাগের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছর। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নিখোঁজের এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শিশু পাচার প্রতিরোধে ‘মুন অ্যালার্ট’-এর মতো জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা এবং জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির জোর
দাবি তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বাগান ঘেরা একটি ঘরে আটকে রাখে। রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও অনেক ছেলে-মেয়ে বন্দি অবস্থায় ছিল। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে দেখে তার ডান পা নেই। চক্রের সদস্যরা তাকে জানায় যে সে নাকি ট্রেন দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছে। এরপর থেকেই প্রতিদিন হুইলচেয়ারে বসিয়ে তাকে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো এবং ভিক্ষার টাকা প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমা রাখা হতো। চক্রটি পরিচালনার পেছনে ‘সালমা’ নামের এক নারীসহ কয়েকজন যুক্ত ছিল বলে রায়হান জানায়। তার ডান পা কাটার পাশাপাশি পেটের ডান পাশে ও পিঠে তাজা অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ দাগ থাকায় পরিবার ও স্থানীয়দের সন্দেহ— ভিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি তার দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর রাত
সাড়ে ১২টার দিকে ঐতিহ্যবাহী চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় চেনা এক শিশুকে এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নবী। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রায়হানের বাবাকে খবর দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সন্তানকে পঙ্গু অবস্থায় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অটোরিকশাচালক বাবা নাজিম উদ্দিন ও সৎমা ফয়জুন্নেসা। স্বজনরা বর্বরোচিত এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবা ঢাকার অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গিয়ে চরম অসহায়ত্বের মুখোমুখি হয়েছেন। লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ জানায়— ঘটনাটি কমলাপুর এলাকার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানাতেই মামলা করতে হবে। তবে আর্থিক অক্ষমতার কারণে ঢাকায় গিয়ে মামলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শিশুটি নিখোঁজের পর পরিবার থেকে কোনো জিডি করা হয়নি। ঘটনার স্থান কমলাপুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) তথ্যমতে, পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫,৭১৭ জন শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩,৬৭৯ জন উদ্ধার হলেও এখনও ২,০৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে, যাদের বেশিরভাগের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছর। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নিখোঁজের এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শিশু পাচার প্রতিরোধে ‘মুন অ্যালার্ট’-এর মতো জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা এবং জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির জোর
দাবি তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।



