মব হামলায় ক্যাম্পাসছাড়া, পাননি প্রশাসনের সহায়তা: ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসীনের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ September, ২০২৬

মব হামলায় ক্যাম্পাসছাড়া, পাননি প্রশাসনের সহায়তা: ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসীনের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ September, ২০২৬ |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মবের হামলা ও হুমকির মুখে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এ. আর. তাহসীন জাহান। ২০২৩ সালের বিএসএস (অনার্স) পরীক্ষায় নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়” দাবি করে তাহসীন জাহান ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাহসীন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত ও কঠোর পরিশ্রমের পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি

হিসেবে পুরস্কারটি পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করেননি। নিজের একাডেমিক ফলাফলের তথ্য তুলে ধরে তাহসীন জানান, ২০২৩ সালের বিএসএস (অনার্স) পরীক্ষায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে ৪-এর মধ্যে ৩.৯৫ সিজিপিএ অর্জন করেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে একই প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি ভার্সন থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করে তাহসীন বলেন, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের হামলার শিকার হন। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই তিনি হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, মবের হামলার

আশঙ্কায় একপর্যায়ে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি। তাঁকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাহসীন বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তাঁর বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন তিনি। যেসব শিক্ষক তাঁকে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাহসীন বলেন, তাঁর অর্জনের পেছনে তাঁদের অবদান রয়েছে এবং সেই কৃতিত্ব তাঁদের প্রাপ্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে

শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাহসীনের অভিযোগ, প্রশাসন নীরব থাকার পাশাপাশি মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার পতনের পর দেশে যদি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়া হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না। পোস্টে তাহসীন আরও বলেন, কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর দায়ও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডিনস অ্যাওয়ার্ড

প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে কোনো পুরস্কারকে ছোট করা হিসেবে দেখছেন না তাহসীন। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার হারানো সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি, সেই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে তিনি পারেন না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের