‘ভাতের জন্য সাগরে গেছিলো, সাত মাস হয়ে গেলো বুকের মানিক এখনও আসে না’ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘ভাতের জন্য সাগরে গেছিলো, সাত মাস হয়ে গেলো বুকের মানিক এখনও আসে না’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
‘ভাতের জন্য, সংসারের জন্য সাগরে মাছ ধরতে গেছে। যাওয়ার সময় বলেছিল- মা, আমরা আসব, তোমরা দোয়া করিও। কিন্তু ছয়-সাত মাস হয়ে গেল, বুকের মানিকরা আর আসে না। এখন শুধু পথের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার বুকের মানিকদের ঘরে ফিরিয়ে দিন।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা এলাকার কোহিনূর বেগম। তার দুই ছেলে তামজিদ ও তাহমিদ সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমার বাহিনীর হাতে আটক হন বলে পরিবারের দাবি। সম্প্রতি ছোট ছেলে তাহমিদ দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো মিয়ানমারের কারাগারে বন্দী বড় ছেলে তামজিদ। শুধু কোহিনূর বেগম নন, দীর্ঘদিন ধরে স্বজনদের বন্দিত্বে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন রামগতি ও কমলনগরের আরও আট জেলের পরিবার।

উপার্জনক্ষম মানুষগুলো বন্দী থাকায় অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। কেউ খাবারের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন, কেউ আবার সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোহিনূর বেগম ছেলের ছবি হাতে নিয়ে বলেন, তার দুই ছেলে গত রমজানের ঈদের পরদিন সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন জেলেকে কক্সবাজারের সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে মিয়ানমার বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। ধারদেনা করে ছোট ছেলে তাহমিদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলেও বড় ছেলে এখনো বন্দী। ‘সেখানে অনেক কষ্টে ছিলাম’ দীর্ঘ বন্দিত্বের পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন কোহিনূর বেগমের ছোট ছেলে তাহমিদ। দেশে ফেরার পর মিয়ানমারে থাকার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এখনো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। তাহমিদ বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে

পড়ে আমরা মিয়ানমারের দিকে চলে যাই। পরে মিয়ানমার বাহিনী আমাদের আটক করে। সেখানে অনেক কষ্টে ছিলাম। আমার বয়স কম হওয়ায় পরে আমাকে স্থানীয় একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়। এরপর দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরেছি। কিন্তু আমার ভাইসহ যারা সেখানে আছে, তাদের কথা মনে হলে খুব কষ্ট হয়। তাদেরও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’ তাহমিদের দেশে ফেরার আনন্দও যেন ম্লান হয়ে গেছে পরিবারের কাছে। কারণ, তার বড় ভাই তামজিদসহ আরও কয়েকজন জেলে এখনো বন্দী। শেষবার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন তামজিদ, বলেন তাহমিদ। তিন সন্তান নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় একই এলাকার জেলে জাবের হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগমের সংসারেও নেমে এসেছে

অনিশ্চয়তা। তিন সন্তান নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় দিন কাটছে তার। সংসারের খরচ চালাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হচ্ছে তাকে। রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ঈদের কয়েক দিন পর সাগরে মাছ ধরতে গেছে। যাওয়ার পর থেকে আর কোনো খোঁজ পাইতেছি না। আজ প্রায় সাত মাস হয়ে যাচ্ছে। কোথায় আছে, কীভাবে আছে—কিছুই জানি না। আমার তিন সন্তান। ওরা প্রতিদিন বলে- মা, আমার আব্বুকে এনে দাও। আমি কীভাবে সংসার চালাব, কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার দেব, বুঝতে পারি না। একবেলা খেলে আরেক বেলা খাবারের চিন্তা করতে হয়। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন- আমার স্বামীকে আমার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দিন।’ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, থানায় জিডি পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত

২৩ মার্চ ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ট্রলারে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের ১৬ জন মাঝি-মাল্লা ও জেলে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। পরদিন থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ২৮ মার্চ মহেশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ট্রলারটির মালিক মিজানুর রহমান। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের বন্দী জেলেরা হলেন- আমজাদ হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল, সোনালী গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন, চরপোড়াগাছা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. নিরব, শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. রাকিব হোসেন, মো. আবুল কালামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, চর গজারিয়া এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মো. মেজবাহ উদ্দিন, একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো. তামজিদ, চর

গাজীর দক্ষিণ টুমচর গ্রামের নূর উদ্দিনের ছেলে মো. লিটন এবং কমলনগরের চর জগবন্ধু এলাকার মৃত আনিছুল হকের ছেলে মো. অজি উল্যাহ। রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, বন্দী জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বন্দী জেলেদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘এআই মানুষকে ধ্বংস করতে পারে’: কেন থামছে না প্রযুক্তির দৌড় গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায় চেম্বার আদালতেও বহাল গৃহকর্মী তানিয়ার শরীরজুড়ে খুন্তির ছ্যাঁকা, মাথায় গুরুতর আঘাত, পচন ধরেছে দুই পায়ে নয় মাসের ব্যবধানে তিনগুণ বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার হাতিয়ার সেই বিদ্যালয়ে আবারও ঝাঁজালো গন্ধ, অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ মেডিকেলের নতুন ভবনে আগুন, আতঙ্কে আহত কয়েকজন যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে চুক্তি করল তিন দেশ ‘ভাতের জন্য সাগরে গেছিলো, সাত মাস হয়ে গেলো বুকের মানিক এখনও আসে না’ ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি প্রশাসন ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের মহা লুটপাট-অর্থ পাচারের খতিয়ান ক্রমশ প্রকাশ্যে BRICS থেকে দূরত্ব: বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ কি বিসর্জনের পথে? সাইবার সুরক্ষা আইন ফের সংশোধনের পথে: গুজব-অপতথ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব নারী এশিয়া কাপের ফাইনালেও চ্যাম্পিয়ন ভারত ও নকভির ট্রফি নাটক ম্যানচেস্টার ডার্বিতে হলান্ডের গোল ভুল ছিল, স্বীকার করল প্রফেশনাল গেম রেফারিজ শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের আওয়ামী লীগের প্রতি অভিযোগ আছে, প্রত্যাশাও অনেক: এবার আর কোন ছাড় দিতে রাজি না ৩ মাস মোহাম্মদপুরের নেই লাইনের গ্যাস: “জুলাই জ্বালিয়ে ভাত রাঁধব?” ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে উড়ে গেল বাংলাদেশ, হারের নতুন রেকর্ড আয়কর রিটার্ন জমায় যে ৫ ভুল করলে পড়তে হবে প্রশ্নের মুখে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হচ্ছে কেন?