৬ সৌর প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম: টিআইবি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

৬ সৌর প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম: টিআইবি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
গত ১৫ বছরে ৬টি সৌর প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ কার্যালয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ তথ্য জানিয়েছে। ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির কর্মকর্তা নেওয়াজুল মওলা ও আশনা ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌর প্রকল্প (সরকারি), সৌর প্রকল্প (আইপিপি) সংশ্লিষ্ট ৬টি খাতে অতিরিক্ত প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও গবেষণার আওতাভুক্ত

৬টি প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে; যা গড়ে দেড় গুণেরও বেশি। এই প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনের চেয়ে ২ হাজার ৯২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। হিসাব কষে দেখা গেছে, ৬টি প্রকল্পে ৪ হাজার ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও ব্যয় করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে, সরকারি প্রকল্প সরকারি জমিতে স্থাপিত হলেও (ভূমি অধিগ্রহণ ও ইজারার বিষয় না থাকা স্বত্ত্বেও) প্রতি মেগাওয়াট ইউনিট স্থাপনে ব্যয় ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য সৌর প্রকল্পের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে

ব্যয়বহুল। টিআইবি গবেষণার আওতাভুক্ত বিদ্যুৎখাতের ৫টি প্রকল্পে শুধু ভূমি ক্রয় এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানে ২৪৯ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকার দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুৎখাতে বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রক্রিয়াগত অস্পষ্টতা রেখে বিদেশি বিনিয়োগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বাতিল করা হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর প্রণোদনা, শুল্ক ছাড়, ভ্যাট ছাড়, বিমায় প্রণোদনা যথেষ্ট কম বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয় টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে। গবেষকরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের ৩ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩১টি আনসলিসিটেড নবায়নযোগ্য

জ্বালানি প্রকল্পের ‘লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই)’ বাতিল করেছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১৫টি প্রকল্পের জমি কেনা ও কর প্রদানসহ অফেরতযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। ৪টি প্রকল্পে বিদেশি কোম্পানির সরাসরি বিনিয়োগ আছে, যার ২টিতে শতভাগ মালিকানা বিদেশি কোম্পানির হাতে রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি রয়েছে। নতুন করে ৫৫টি প্যাকেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি প্যাকেজে শুধু একটি করে দরপত্র পাওয়া গেছে এবং ১৩টি প্যাকেজে কোনো দরপত্র পাওয়া যায়নি। তাই নতুন দরপত্রে ‘রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি’ না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি সীমিত হয়ে গেছে। টিআইবি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘গ্রিন ফাইন্যান্সিং’ এর আওতায় নবায়নযোগ্য খাতের জন্য আলাদা একটি স্কিম থাকলেও

দীর্ঘ ও জটিল আবেদন প্রক্রিয়াসহ নানাবিধ কারণে ব্যস্তবিক ব্যবহার খুবই সীমিত। গবেষণায় বলা হয়, দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামো (বিস্তৃত এলাকা) ব্যবহার করে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিনিয়োগের ঘাটতি থাকায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা যেমন এডিবি ও বিশ্বব্যাংক সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়েছে। এতে সরকারি খাতের ভূমিকা সীমিত হয়ে গেছে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বেসরকারি খাত, বিশেষ করে আইপিপিভিত্তিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হলেও এ খাতে তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে আকর্ষণীয় প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরি করেনি সরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ এ

নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের রূপরেখা তৈরি না করার কথা বলে টিআইবি। টিআইবি বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৯৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা) প্রয়োজন হবে। ২০৩০ সালের পর থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৭ হাজার ২৮০ কোটি টাকা) প্রয়োজন হবে। কিন্তু অর্থায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা নেই সরকারের। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতের মহাপরিকল্পনায় নীতি সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও দুর্নীতি দৃশ্যমান। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে প্রাধান্য না দেওয়া, জীবাশ্ম জ্বালানিতে অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা

বজায় থাকলে ২০৫০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে যাবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা প্রায় ৯৫ শতাংশ, বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ৪ শতাংশের বেশি নয়। অর্থাৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সব সময় অবহেলিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফা কমল স্বর্ণের দাম যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন সারা দেশে কখন কোথায় ঈদের জামাত তিন আরব দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে ইরান কলকাতায় বিজেপির প্রার্থী হতে চান আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিত চিকিৎসকের মা সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন কিউবায় আলো ফেরাতে সাহসী পদক্ষেপ রাশিয়ার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি একটুও কমাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ঝড় তোলার অপেক্ষায় শাকিবের ‘প্রিন্স’ সিনেমার গান ‘পরী’ যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা দেশজুড়ে চলছে ‘জামায়াতি মুক্তকরণ’: তারেক সরকারের পদক্ষেপে ইউনূসতন্ত্রের জামায়াতিকরণের অবসান? ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও হরমুজে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কম: শুধু ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ চলছে এনএসসিকে ‘হুমকি’ দিয়ে আরও বিপাকে বুলবুল প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল মালয়েশিয়ার: একই ধরনের চুক্তি করা বাংলাদেশ কী করবে? ঈদযাত্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া, দুই দশকের রেকর্ড ভাঙছে এবারের নৈরাজ্য: আদায় হবে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজটে চরম ভোগান্তি ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ফেনীতে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি কর্মীর রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর ও অর্থ লুটপাট যুবদলকর্মীদের ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগ, শাস্তি চেয়ে বিক্ষোভ রোহিঙ্গাদের জন্য তুর্কি সংস্থার দেয়া যাকাতের অর্থে জামায়াত-শিবিরের জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার পার্টি, তুমুল সমালোচনা