৩৪.১% শুল্ক থেকে কি মিলবে স্বস্তি? অনিশ্চয়তায় অর্ডার সংকট ও রপ্তানি খাত – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৯:১৬ অপরাহ্ণ

৩৪.১% শুল্ক থেকে কি মিলবে স্বস্তি? অনিশ্চয়তায় অর্ডার সংকট ও রপ্তানি খাত

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৯:১৬ 4 ভিউ
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে পূর্বে আরোপিত শুল্ক কার্যত বাতিল হলেও ট্রাম্প পরবর্তীতে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল বা স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য যেমন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, তেমনি কিছু নতুন সুযোগও তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার হওয়ায় নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে অনুকূল শর্ত আদায়ের সুযোগও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

মাশরুর রিয়াজ বলেন, আদালতের রায়ে আগের পাল্টা শুল্ক বাতিল হলেও নতুন নির্বাহী আদেশ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তার মতে, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামো পুরোপুরি বাতিল করার পরিবর্তে যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে নতুন করে দর-কষাকষিতে যাওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করা বাংলাদেশের জন্য সহজ নয়। তাই কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমেই সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থাগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদি কোনো শুল্ক কাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে থাকে, তবে তা বাংলাদেশের জন্য

ইতিবাচক হতে পারে। আর তা না হলে সরকারের পক্ষ থেকে পুনরালোচনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, কারণ আগের সব শর্ত বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল না। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো শর্ত আদায়ের একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, বৈশ্বিকভাবে সমান হারে শুল্ক আরোপের ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে শুল্ক ব্যবধান কিছুটা কমেছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে শুল্ক কাঠামো ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে মার্কিন আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন অর্ডার দেওয়া ও মূল্য নির্ধারণে তারা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির প্রবণতা বাড়তে পারে, যা উৎপাদন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাংলাদেশ আবার

প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের রায়ের ফলে পাল্টা শুল্কের কাঠামো অনেকটা সমান অবস্থায় এসেছে। তবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার হতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমদানি করা মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর ইতিবাচক প্রভাবও অব্যাহত থাকতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন গণহারে শুল্ক আরোপ করার পর বিশ্ববাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়। বিভিন্ন দেশ পরবর্তীতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে চুক্তি করে। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত শুল্ক ২০ শতাংশে স্থির হয় এবং পরবর্তী আলোচনায় তা

আরও ১ শতাংশ কমে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪.১ শতাংশে। তবে মার্কিন তুলা ব্যবহার করলে শুল্ক শূন্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়, অন্যথায় আগের হার বহাল থাকে। সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ের ফলে সেই চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আগের সরকারের সময়ে করা চুক্তি এখন অনিশ্চয়তায়। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সুবিধা পায়নি। তাই নতুন সরকারের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসে শর্তগুলো স্পষ্ট করা। পাল্টা শুল্ক বাতিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আমদানি শুল্ক বাবদ বিপুল অর্থ আদায় হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। শুল্ক ফেরতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে

ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের রপ্তানি ৮০০ কোটি ডলারের বেশি হলেও আমদানি তুলনামূলক কম, ফলে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন সামনে এনেছিল। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান ও কৃষিপণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই চুক্তির শর্ত নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্তোষ ছিল না। তাদের মতে, চুক্তির বেশির ভাগ ধারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক ছিল। সব মিলিয়ে, নতুন পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে ঝুঁকি ও সম্ভাবনা—দুটোই তৈরি করেছে। শুল্ক কাঠামো ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে স্পষ্টতা আসার পরই প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে রপ্তানিকারকদের সতর্ক ও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ

দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঙালীর দ্রোহের ভাষা, প্রতিবাদী হুঙ্কার, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর শিষ্টাচারের কি কুৎসিত অবনতি! জেলায় জেলায় বাড়ছে আ.লীগের কর্মসূচি, নেতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা শব্দ ও বয়ানের রাজনীতি: বয়েলিং ফ্রগ সিনড্রোম বহুমুখী সংকটের মুখে বাংলাদেশের পোশাক খাত: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ৩৪.১% শুল্ক থেকে কি মিলবে স্বস্তি? অনিশ্চয়তায় অর্ডার সংকট ও রপ্তানি খাত আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় মেট্রোরেলের নতুন দুই রুটে, প্রশ্নবিদ্ধ দরপত্র প্রক্রিয়া সারা দেশে শহীদ দিবসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর ভারতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা, বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৮ ড. খলিলুর রহমান: পর্দার আড়ালের এক ভয়ঙ্কর ‘কিংমেকার’ ১৯৭১ শেষ হয়নি, ডালিম-ফারুকের রিলে রেস থামেনি, শুধু দৌড়বিদ বদলেছে টানা ১৮ মাস ধরে তালাবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয় লাশের মিছিল থামছেই না — আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নৃশংস খুন অব্যাহত.. ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন বিশটা লাশের বিনিময়ে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাবেন টুকু কানসাটের কসাই মন্ত্রী, তারেকের গণতন্ত্রে স্বাগতম! Unattended Ballot Boxes: New Questions in Bangladesh’s 2026 Election আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অবদান বিজয়গাথা: বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের “অসম চুক্তি” কার স্বার্থে ‘সেভেন সিস্টার্সে’ হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক অপরাধ, ছাত্রদের দিয়ে কিংস পার্টি করালেন: ঢাবি শিক্ষক একুশের বিশ্বজয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি ও শেখ হাসিনার ভূমিকা যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক : যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না