ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি ক্রয়
ডলারের দরপতনে প্রভাব স্বর্ণের দামে
যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ
স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল কত
বাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশে যুক্তরাজ্য, মিলবে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত সহায়তা
ভুয়া সফটওয়্যারে শেয়ারবাজার থেকে ৬৫০ কোটি টাকার মহালুট! ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর আমানত লুটে উধাও ৭ হাউজ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল, দেশে আরও বাড়বে
সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার
দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষায় বন্ডের আওতায় সুতা আমদানি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর পরিবর্তে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে সুতা খালাস করতে হবে। এ সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী’ ও ‘সময়োপযোগী’ আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ স্পিনিং মিল মালিকরা। সোমবার এনবিআরের জারিকৃত আদেশে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানি করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক-করের সমপরিমাণ অর্থ নিঃশর্ত ও অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টি কাস্টমসে জমা দিতে হবে। খালাসকৃত সুতা দিয়ে প্রস্তুতকৃত পণ্য সম্পূর্ণ রপ্তানি হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্তযোগ্য হবে।
এ বিষয়ে বিটিএমএর সাবেক পরিচালক
ইঞ্জিনিয়ার রাজিব হায়দার বলেন, গত ৩ বছরে অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চলছে সেগুলো সক্ষমতার অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারছে না। মিল আংশিক বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার টেক্সটাইল শিল্পের ক্ষত অনুধাবন করতে পেরে সাহসী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এ সিদ্ধান্তের কারণে টেক্সটাইল শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি আরও বলেন, শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করতে না পেরে গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির যে শর্ত রয়েছে, তা পূরণ করতে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক
ভূমিকা রাখতে পারে। এ সিদ্ধান্তের ফলে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস-দুই শিল্পই উপকৃত হবে। বন্ডের অপব্যবহারও বহুলাংশে কমে যাবে। সাধারণ স্পিনিং মিল মালিকরা বলছেন, বন্ড সুবিধার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতার চাহিদা ও দেশীয় মিলগুলোর সক্ষমতার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল হবে, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বাড়বে। ব্যাংক ব্যবস্থায় বিদ্যমান খেলাপি ঋণ কমবে। তার মতে, দেশে উৎপাদিত সুতা ব্যবহারে তৈরি পোশাক শিল্পের স্থানীয় মূল্য সংযোজন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সুতা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস হবে। পাশাপাশি
এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম ৪০-৬০ শতাংশ মূল্য সংযোজন এবং ক্ষেত্র বিশেষে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট উৎপাদন কার্মক্রম নিশ্চিত করতে সরকারে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি বা অপসারণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। যা প্রকারান্তরে সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। জানা গেছে, এর আগেও ব্যাংক গ্যারান্টিতে শিল্পের কাঁচামাল খালাসের অনুমতি দেয় এনবিআর। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্সবিহীন রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতাসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে একই সুবিধা বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে এ ব্যবস্থার কারণে সুতা আমদানি বা রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাংলাদেশ টেক্সটাইল
মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্যমতে, বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা। স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলো সুতা ও কাপড়ের চাহিদার পুরোটাই জোগান দিতে সক্ষম। বর্তমানে বছরে ৪০০ কোটি কেজি সুতার চাহিদা রয়েছে, এর বিপরীতে স্পিনিং মিলগুলোর ক্যাপাসিটি রয়েছে ৩৯৭ কোটি কেজি। অর্থাৎ সুতার উৎপাদন ঘাটতি মাত্র ৩ কোটি কেজি। অন্যদিকে কাপড়ের চাহিদা রয়েছে ৩৭০ কোটি কেজি, এর বিপরীতে টেক্সটাইল মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৩২৫ কোটি কেজি। অর্থাৎ কাপড়ের উৎপাদন ঘাটতি আছে ৪৫ কোটি কেজি। আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৩ কোটি কেজি সুতা ঘাটতির বিপরীতে আমদানি হয়েছে ১২১ কোটি কেজি। আর ৪৫ কোটি কেজি ঘাটতির বিপরীতে কাপড় আমদানি হয়েছে ১০৮ কোটি
কেজি। সুতা বেশির ভাগ আমদানি হয়েছে ভারত থেকে এবং কাপড় চীন থেকে। গত ৩ বছরে ধারাবাহিকভাবে কটন সুতা আমদানি বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯৩ দশমিক ৫ কোটি ডলারে ২২ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪৯ কোটি ডলারে ৪৫ দশমিক ৫ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়েছে। একই ভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭৯ কোটি ডলারে ৫৫ দশমিক ৬ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার রাজিব হায়দার বলেন, গত ৩ বছরে অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চলছে সেগুলো সক্ষমতার অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারছে না। মিল আংশিক বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার টেক্সটাইল শিল্পের ক্ষত অনুধাবন করতে পেরে সাহসী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। এ সিদ্ধান্তের কারণে টেক্সটাইল শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি আরও বলেন, শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করতে না পেরে গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির যে শর্ত রয়েছে, তা পূরণ করতে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক
ভূমিকা রাখতে পারে। এ সিদ্ধান্তের ফলে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস-দুই শিল্পই উপকৃত হবে। বন্ডের অপব্যবহারও বহুলাংশে কমে যাবে। সাধারণ স্পিনিং মিল মালিকরা বলছেন, বন্ড সুবিধার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতার চাহিদা ও দেশীয় মিলগুলোর সক্ষমতার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল হবে, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বাড়বে। ব্যাংক ব্যবস্থায় বিদ্যমান খেলাপি ঋণ কমবে। তার মতে, দেশে উৎপাদিত সুতা ব্যবহারে তৈরি পোশাক শিল্পের স্থানীয় মূল্য সংযোজন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সুতা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হ্রাস হবে। পাশাপাশি
এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম ৪০-৬০ শতাংশ মূল্য সংযোজন এবং ক্ষেত্র বিশেষে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট উৎপাদন কার্মক্রম নিশ্চিত করতে সরকারে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি বা অপসারণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। যা প্রকারান্তরে সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। জানা গেছে, এর আগেও ব্যাংক গ্যারান্টিতে শিল্পের কাঁচামাল খালাসের অনুমতি দেয় এনবিআর। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্সবিহীন রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতাসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে একই সুবিধা বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে এ ব্যবস্থার কারণে সুতা আমদানি বা রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাংলাদেশ টেক্সটাইল
মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্যমতে, বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা। স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলো সুতা ও কাপড়ের চাহিদার পুরোটাই জোগান দিতে সক্ষম। বর্তমানে বছরে ৪০০ কোটি কেজি সুতার চাহিদা রয়েছে, এর বিপরীতে স্পিনিং মিলগুলোর ক্যাপাসিটি রয়েছে ৩৯৭ কোটি কেজি। অর্থাৎ সুতার উৎপাদন ঘাটতি মাত্র ৩ কোটি কেজি। অন্যদিকে কাপড়ের চাহিদা রয়েছে ৩৭০ কোটি কেজি, এর বিপরীতে টেক্সটাইল মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৩২৫ কোটি কেজি। অর্থাৎ কাপড়ের উৎপাদন ঘাটতি আছে ৪৫ কোটি কেজি। আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৩ কোটি কেজি সুতা ঘাটতির বিপরীতে আমদানি হয়েছে ১২১ কোটি কেজি। আর ৪৫ কোটি কেজি ঘাটতির বিপরীতে কাপড় আমদানি হয়েছে ১০৮ কোটি
কেজি। সুতা বেশির ভাগ আমদানি হয়েছে ভারত থেকে এবং কাপড় চীন থেকে। গত ৩ বছরে ধারাবাহিকভাবে কটন সুতা আমদানি বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯৩ দশমিক ৫ কোটি ডলারে ২২ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪৯ কোটি ডলারে ৪৫ দশমিক ৫ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়েছে। একই ভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭৯ কোটি ডলারে ৫৫ দশমিক ৬ কোটি কেজি সুতা আমদানি হয়েছে।



