সীমান্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি, ঢাকায় ইউনুসের নাকে তেল দিয়ে ঘুম! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
     ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

সীমান্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি, ঢাকায় ইউনুসের নাকে তেল দিয়ে ঘুম!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০:৩৮ 33 ভিউ
কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তে এখন যা চলছে তা দেখে মনে হয় বাংলাদেশের কোনো সরকার নেই। আরাকান আর্মির ড্রোন বাংলাদেশের আকাশসীমায় ঢুকে নজরদারি চালাচ্ছে, শত শত বাংলাদেশি যুবক মিয়ানমারে গিয়ে যুদ্ধ করে অস্ত্র নিয়ে ফিরছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, আর ঢাকায় বসে মুহাম্মদ ইউনুস কী করছেন? কোনো জবাব নেই। এই লোকটা ক্ষমতায় এসেছিল বিদেশি মদদে, জঙ্গিদের সহায়তায় আর সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে যে দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। সুপরিকল্পিত একটা ষড়যন্ত্র ছিল, যার লক্ষ্য ছিল নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা। আর সেই ষড়যন্ত্রের সুবিধাভোগী হিসেবে ক্ষমতায় বসেছেন ইউনুস। কিন্তু দেশ চালানোর কোনো যোগ্যতা বা আগ্রহ

যে তার নেই, সেটা এখন স্পষ্ট। গোয়েন্দা সংস্থার যে গোপন প্রতিবেদন বেরিয়েছে, সেখানে লেখা আছে শত শত বাংলাদেশি পাহাড়ি যুবক আরাকান আর্মির হয়ে যুদ্ধ করছে। এরা প্রশিক্ষণ নিয়ে, আধুনিক অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশে ফিরছে। এই তথ্যটা পড়ে যে কোনো স্বাভাবিক সরকারের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা। কারণ এই যুবকরা যদি দেশে ফিরে কোনো মিলিশিয়া দল বানায়, অথবা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়, তাহলে কী হবে? পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হবে? নাকি এই অস্ত্রধারীরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে নতুন ধরনের সন্ত্রাস শুরু করবে? কিন্তু এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো কেউ নেই ঢাকায়। আরাকান আর্মি এখন শুধু একটা গেরিলা দল নয়, তারা ড্রোন

দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এর মানে হলো তাদের হাতে এখন আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি আছে। আর এই ড্রোনগুলো যে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ঢুকে নজরদারি চালাচ্ছে, সেটাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বিমান প্রতিরক্ষা কোথায়? সীমান্তরক্ষী বাহিনী কী করছে? অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি কেনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? নাকি ইউনুস সরকার এই বিষয়ে কিছুই জানে না? রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ক্যাম্পে এখন প্রায় প্রতিদিন গোলাগুলি হচ্ছে, অপহরণ হচ্ছে, মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা সশস্ত্র দলগুলোর হাতে জিম্মি। আরসা, এআরএ, ইসলামিক আল-মাহাজ এসব সংগঠন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে, আবার আরাকান আর্মির সাথেও লড়ছে। আর এই সব কিছুর মাঝখানে বাংলাদেশ সরকার একদম নিশ্চুপ।

ক্যাম্পে কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, সিসিটিভি নেই, পর্যাপ্ত পুলিশিং নেই। যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সিসিটিভি স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, সেটা এখন জানুয়ারি ২০২৬। মানে ইউনুস ক্ষমতায় এসে দেড় বছরেরও বেশি সময় পার করে ফেলেছেন, কিন্তু এমন মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার হলো মাদক চোরাচালান। প্রতিবেদনে স্পষ্ট লেখা আছে যে আরাকান আর্মির যুদ্ধ-অর্থনীতির প্রধান উৎস হলো বাংলাদেশে পাচার করা ইয়াবা। মিয়ানমার থেকে মাদক আসছে, বাংলাদেশ থেকে খাদ্য আর নিত্যপণ্য যাচ্ছে। এই যে একটা পুরো অবৈধ অর্থনীতি চলছে, যার টাকায় একটা বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী শক্তিশালী হচ্ছে, সেটা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেই। বরং মনে হচ্ছে এই পুরো চোরাচালান নেটওয়ার্কটা অবাধে

চলছে। কারণ টেকনাফ-কক্সবাজার এলাকায় যে ডাকাত দলগুলো সক্রিয়, তারা এই মাদক পাচারের সাথে জড়িত। আর এরা এতটাই বেপরোয়া যে প্রকাশ্যে একে অপরকে গুলি করছে, ছুরিকাঘাত করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা যা বলছেন, তা শুনলে গা শিউরে ওঠার কথা। কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন বলেছেন যে প্রশিক্ষিত যুবকরা মিলিশিয়া বা চরমপন্থি নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরকার সামসুদ্দিন বলেছেন যুদ্ধফেরত এই যুবকদের পুনর্বাসন আর নজরদারি দুটোই দরকার, নইলে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু এই যুবকদের কোনো তালিকা আছে কি? তাদের ট্র্যাক করা হচ্ছে কি? তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে কি? কিছুই হচ্ছে না। আসল সত্য হলো ইউনুস সরকারের কাছে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তারা ক্ষমতায় এসেছে একটা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে নয়। তাদের কোনো গণভিত্তি নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা জানে যে জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাব দিতে হবে না। এই সরকার টিকে আছে বিদেশি শক্তির মদদে আর সেনাবাহিনীর সমর্থনে। তাই দেশের সীমান্তে কী হচ্ছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কী হচ্ছে, মাদক পাচার হচ্ছে কি না, সশস্ত্র যুবকরা ফিরে আসছে কি না, এসব নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনুসের কাজ ছিল এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার সাথে সাথে জরুরি বৈঠক ডাকা, সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা, ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যুদ্ধফেরত যুবকদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

চালু করা, মাদক চোরাচালান বন্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু করা। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। প্রতিবেদন হয়তো ফাইলে পড়ে আছে, আর ইউনুস ব্যস্ত আছেন বিদেশি দাতাদের সাথে বৈঠক করে ঋণ নিয়ে। যে সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে, তাদের কাছে দেশের নিরাপত্তা বলে কিছু থাকে না। তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে ক্ষমতায় টিকে থাকা। ইউনুস সরকার ঠিক তাই করছে। দেশের সীমান্ত অরক্ষিত, রোহিঙ্গা ক্যাম্প অস্থিতিশীল, মাদক পাচার বেড়েছে, সশস্ত্র যুবকরা দেশে ফিরছে, কিন্তু সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক মাস চলতে থাকে, তাহলে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। ড্রোন হামলা, সশস্ত্র সংঘর্ষ, অপহরণ, মাদক ব্যবসা সবকিছু মিলে এলাকাটা একটা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে। আর সেই যুদ্ধক্ষেত্রের আগুন ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। কিন্তু ইউনুস সরকার তখনও হয়তো বিদেশি সফরে ব্যস্ত থাকবে, অথবা ক্ষুদ্রঋণের সফলতা নিয়ে বক্তৃতা দিতে থাকবে। দেশ ধ্বংস হোক বা না হোক, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শেখ মুজিবঃ ছাত্রনেতা থেকে জননেতা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ বায়ান্নর বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটালাম – শেখ মুজিবের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘জামায়াতের হাত থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ’: সাংবাদিক নুরুল কবির হলফনামায় সম্পদ ২ কোটি, হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের নামে আলী রীয়াজের বিরুদ্ধে ২৩০০ কোটি টাকা লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগ ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা সরকারের ‘কম্প্রোমাইজ’, থাকতে পারে আমেরিকার চাপ: সাংবাদিক মাহবুব কামাল অমর একুশে ব্যাপক বিভ্রাটে ইউটিউব, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে বাধা, মহাসড়ক অবরোধ ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ আরব আমিরাতে ৮২৩ খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ভেনেজুয়েলায় শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির সম্ভাবনা দ্যা হান্ড্রেডের নিলামে বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার, সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে মোস্তাফিজ ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে বাংলাদেশের জনসংখ্যার তিন গুণ আবেদন!