ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের
সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি
জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও
তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয়
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল
‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য
সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৮ শিশু
দেশে সম্প্রতি শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত সাড়ে চার মাসে সারা দেশে অন্তত ১১৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কেবল গত দুই সপ্তাহেই অন্তত চারটি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে শিশুদের সুরক্ষাজনিত উদ্বেগ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সমাজবিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকরা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো দায়বদ্ধ না হলে শিশুর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তাদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি কেবল রাষ্ট্রীয় কর্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে সমাজের নৈতিক অস্তিত্বও সরাসরি জড়িত।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা একটি স্বতন্ত্র
শিশু সুরক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা মনে করেন, শুধু আদালতে বিচার নয়, সামাজিকভাবে ধর্ষকদের চিহ্নিত করে দেওয়াটাও এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আইনি সুরক্ষা থাকলেও বাস্তবতা উদ্বেগজনক বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতিতে শিশুদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন বিকাশকে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন রোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই আইনি কাঠামো ও অঙ্গীকারের বিপরীতে মাঠের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সর্বশেষ পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে
কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে আরও অন্তত ৪৬ জন শিশু। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭টি শিশুকে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই প্রতিটি সংখ্যা একটি থেমে যাওয়া শৈশব, একটি ভেঙে পড়া পরিবার — যা একটি আতঙ্কগ্রস্ত সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ: অপরাধ করাটা সহজ হয়ে গেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, বিদেশে অনেক সময় যাদের এই ধরনের বিকৃত মানসিকতা রয়েছে, তাদের সমাজে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ব্যবস্থা নেই। ফলে শিশুরা ক্রমশ একটি অনিরাপদ পরিবেশে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে মৃত্যু এখন অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনায়
পরিণত হয়েছে, যেন এটা কোনো গুরুত্বের বিষয়ই নয়। এই মানসিকতা সমাজের গভীরে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে যে, বিশেষত অপরাধপ্রবণ মানুষদের কাছে অপরাধ করাটা এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানী: রাজনৈতিক এজেন্ডায় শিশু সুরক্ষা কখনো গুরুত্ব পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান মনে করেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে একটি স্বতন্ত্র চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যে কমিশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশু সুরক্ষায় সহায়তা করবে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। তিনি সরাসরি বলেন, এই বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় কখনোই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ইউনিসেফের একটি শিশু অধিকার ইশতেহারে
দেশের ১২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করে। তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ফারজানা রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রমে এবং রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি আদৌ কতটুকু ধারণ করে। রাষ্ট্রের সভ্যতার পরীক্ষা গবেষকরা বলছেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নাগরিক হলো শিশু। এই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে যে রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রই সত্যিকার অর্থে সভ্য বলে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য। তাই শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটিকে কেবল আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে না দেখে, এটিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার এখনই সময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিশু সুরক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা মনে করেন, শুধু আদালতে বিচার নয়, সামাজিকভাবে ধর্ষকদের চিহ্নিত করে দেওয়াটাও এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আইনি সুরক্ষা থাকলেও বাস্তবতা উদ্বেগজনক বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতিতে শিশুদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন বিকাশকে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন রোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই আইনি কাঠামো ও অঙ্গীকারের বিপরীতে মাঠের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সর্বশেষ পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে
কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে আরও অন্তত ৪৬ জন শিশু। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭টি শিশুকে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই প্রতিটি সংখ্যা একটি থেমে যাওয়া শৈশব, একটি ভেঙে পড়া পরিবার — যা একটি আতঙ্কগ্রস্ত সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ: অপরাধ করাটা সহজ হয়ে গেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, বিদেশে অনেক সময় যাদের এই ধরনের বিকৃত মানসিকতা রয়েছে, তাদের সমাজে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ব্যবস্থা নেই। ফলে শিশুরা ক্রমশ একটি অনিরাপদ পরিবেশে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে মৃত্যু এখন অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনায়
পরিণত হয়েছে, যেন এটা কোনো গুরুত্বের বিষয়ই নয়। এই মানসিকতা সমাজের গভীরে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে যে, বিশেষত অপরাধপ্রবণ মানুষদের কাছে অপরাধ করাটা এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানী: রাজনৈতিক এজেন্ডায় শিশু সুরক্ষা কখনো গুরুত্ব পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান মনে করেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে একটি স্বতন্ত্র চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যে কমিশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশু সুরক্ষায় সহায়তা করবে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। তিনি সরাসরি বলেন, এই বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় কখনোই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ইউনিসেফের একটি শিশু অধিকার ইশতেহারে
দেশের ১২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করে। তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ফারজানা রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রমে এবং রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি আদৌ কতটুকু ধারণ করে। রাষ্ট্রের সভ্যতার পরীক্ষা গবেষকরা বলছেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নাগরিক হলো শিশু। এই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে যে রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রই সত্যিকার অর্থে সভ্য বলে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য। তাই শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটিকে কেবল আইনি বা প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে না দেখে, এটিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার এখনই সময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



