সহস্র বছরের জ্ঞানের বাতিঘর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ আগস্ট, ২০২৫
     ৫:১৩ অপরাহ্ণ

সহস্র বছরের জ্ঞানের বাতিঘর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ আগস্ট, ২০২৫ | ৫:১৩ 121 ভিউ
কায়রোর আকাশে ভোরের আলো ফুটতেই মিনারের গায়ে এসে পড়ে সোনালি রোদ। নীল নদের হাওয়া ভেসে আসে পুরনো গলিঘুঁজির ভেতর দিয়ে। সেই পুরনো শহরের বুকে দাঁড়িয়ে আছে এক অমর প্রতিষ্ঠান—আল-আজহার। এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং সময়ের বুকে খোদাই হয়ে থাকা সহস্র বছরের এক মহাকাব্য, যেখানে মিলেমিশে আছে জ্ঞানের সাধনা, সংস্কৃতির উত্তরাধিকার ও সভ্যতার ইতিহাস। ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমীয় খলিফা আল-মু‘ইজ লি-দীনিল্লাহ নতুন রাজধানী কায়রো গড়ে তোলেন। তার নির্দেশে নির্মিত হয় এক শ্বেতপাথরের মসজিদ, নাম রাখা হয় ‘আল-আজহার’ অর্থাৎ উজ্জ্বলতম, নির্মলতম। নামের উৎস নবী মুহাম্মদ সা.–এর কন্যা ফাতিমা আল-জাহরা, যার পবিত্র মর্যাদা ও উজ্জ্বলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়াল এই স্থাপনা। প্রথমে এটি ছিল

শুধু উপাসনার স্থান; কিন্তু অচিরেই মসজিদের আঙিনায় শুরু হয় পাঠদান। ৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের—যা আজ বিশ্বের প্রাচীনতম চলমান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। শুরুতে এখানে পাঠদান হতো কুরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ ও বালাগাত। ক্রমে যুক্ত হয় দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র ও গণিত—সবই ইসলামী নৈতিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। একসময় যখন ইউরোপ ডুবে ছিল মধ্যযুগের অন্ধকারে, তখন আল-আযহারের প্রাঙ্গণ থেকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ত আন্দালুসিয়ার পথে, হয়ে পৌঁছাত ইউরোপের নবজাগরণের দ্বারে। আফ্রিকার মরুভূমি থেকে এশিয়ার সাগরপাড় পর্যন্ত, সুদূর মালয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে মরক্কোর অন্তরীপ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ছুটে আসত এই বিদ্যাপীঠে। ইতিহাসের ঝড়ঝাপটা থামাতে পারেনি আল-আজহারকে। ফাতেমীয় শাসনের পতনের পর

আইয়ুবী রাজবংশ ক্ষমতায় এসে শিয়া প্রভাব হ্রাস করলেও এর আলোকরশ্মি নিভে যায়নি। বরং মমলুক যুগে এবং পরবর্তীতে উসমানীয় শাসনে আল-আজহার হয়ে ওঠে সমগ্র ইসলামী বিশ্বের জ্ঞান, ফতোয়া ও নৈতিক দিকনির্দেশনার সর্বোচ্চ কেন্দ্র। এখান থেকে নির্ধারিত হতো ধর্মীয় মতবাদ, সামাজিক দিকনির্দেশনা, এমনকি রাজনৈতিক অবস্থানও। এর টিকে থাকার অন্যতম রহস্য ছিল ওয়াকফ—দান ও ট্রাস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবসায়ী, শাসক ও সাধারণ মানুষ সম্পদ দান করেছেন আল-আজহারে, যা একে দিয়েছে রাজনৈতিক চাপ থেকে স্বাধীনতা এবং জ্ঞানচর্চার অবিচল শক্তি। এই স্বনির্ভরতা একে করেছে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং জ্ঞানের সার্বভৌম দুর্গ। প্রাচীন আল-আজহারের পাঠদানের দৃশ্য ছিল অনন্য। শিক্ষক বসতেন মসজিদের স্তম্ভের পাশে,

শিক্ষার্থীরা গোল হয়ে তার চারপাশে। পাঠ চলত পাণ্ডুলিপি হাতে, আলোচনার মাধ্যমে। পরীক্ষা ছিল মৌখিক, আর সনদ মানে ছিল শিক্ষকের অনুমোদন—যা শুধু জ্ঞানের স্বীকৃতি নয়, নৈতিক আস্থারও প্রতীক। আজকের আল-আজহার বিশাল পরিসরে বিস্তৃত। ইসলামী জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি এখানে সমান গুরুত্বে পড়ানো হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞান। এর অধীনে রয়েছে হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। আন্তর্জাতিক পরিসরে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও নৈতিক দিকনির্দেশনায় আল-আজহারের বক্তব্য আজও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী বলে বিবেচিত। আল-আজহারের আঙিনায় দাঁড়ালে মনে হয় সময় থমকে গেছে। মিনারের ছায়া পড়ে প্রাচীন ইটের গায়ে, লাইব্রেরির ধুলোমাখা পাণ্ডুলিপি ফিসফিস করে সহস্র বছরের গল্প বলে। এখানে হাঁটলে অনুভব

করা যায় নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের এক বিশাল মেলবন্ধন। রাজা-বাদশাহ এসেছে, গেছে; সাম্রাজ্য উঠেছে, ভেঙে পড়েছে; মানচিত্র রক্তে রঙিন হয়েছে—কিন্তু আল-আজহারের প্রদীপ কখনও নিভে যায়নি। তার আলো এখনও জ্বলে, জ্বালায় মন ও বুদ্ধির প্রদীপ, আর প্রতিদিন নতুন প্রজন্মকে ডেকে নেয় সত্য ও জ্ঞানের পথে। যতদিন মানুষ থাকবে অনুসন্ধানী, ততদিন কায়রোর এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হয়ে থাকবে মানব সভ্যতার অবিনাশী আলোকস্তম্ভ। লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রপ্তানি খাতে বড় পতন, সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি: দুর্নীতির মচ্ছবে ব্যাস্ত ইউনুস সরকারের বিশেষ সহকারী আবারো কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: মামলা ছাড়া আটক হুমায়ূন কবির, মৃত্যুর মিছিলে আরেকটি নাম চট্টগ্রাম বন্দরে শিবির–এনসিপি কোটায় নিয়োগ: ৯ জনকে পদায়ন নিজেদের নেওয়া ব্যাংক ঋণের চাপে অথৈ সমুদ্রে ইউনূস সরকার, অজানা গন্তব্যে অর্থনীতি ব্যালট বাক্স নয়, লাশের হিসাবই যখন বাস্তবতা এবার নিশানা বাঙালির পৌষ সংক্রান্তি : হাজার বছরের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি মুছে বর্বর ধর্মরাষ্ট্রের স্বপ্ন রক্তের দাগ মুছবে কে? নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে গেছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চাইতে নেমে ড. ইউনূস প্রমাণ করলেন—তিনি আর প্রধান উপদেষ্টা নন, তিনি একটি পক্ষের সক্রিয় কর্মী আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন কঠিন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে বিতর্কিত নিয়োগ নয়জন জুলাই সন্ত্রাসীকে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হ্যাঁ কিংবা না কোনো শব্দেই আমরা আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যেন কথা না বলি।কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফাঁদটাই হলো আমাদের মুখ খুলিয়ে দেওয়া। ইউনুস থেকে মাচাদো: নোবেল শান্তি পুরস্কার কি সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে? কুপিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, ৫ পুলিশ হাসপাতালে জাহাজ কেনার বাকি ২ মাস ঋণ চুক্তিতে ব্যর্থ সরকার ২০২৫ সালে সড়কে মৃত্যু ১০০৮ শিশুর বায়ুদূষণে শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার খবর কী সরকারি সিদ্ধান্তে নিজের মতামতের গুরুত্ব নেই মনে করে ৭৩% মানুষ আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া রাজধানীতে আজ কোথায় কী