ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শেখ মুজিবঃ ছাত্রনেতা থেকে জননেতা
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ বায়ান্নর বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই
২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটালাম – শেখ মুজিবের
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
‘জামায়াতের হাত থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ’: সাংবাদিক নুরুল কবির
হলফনামায় সম্পদ ২ কোটি, হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান
সংস্কারের আড়ালে ‘ডাকাতি’: নিলাম ছাড়াই গ্রামীণফোনকে ২৫০০ কোটি টাকার উপহার
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে, নামমাত্র মূল্যে রাষ্ট্রের অত্যন্ত মূল্যবান ‘৭০০ মেগাহার্টজ’ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ তুলে দেওয়া হয়েছে গ্রামীণফোনের হাতে। গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটির (বিটিআরসি) এক বৈঠকে নিলাম ছাড়াই ভিত্তিমূল্যে এই বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার্থেই রাষ্ট্রের প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি করে এই ‘সাজানো উপহার’ দেওয়া হয়েছে।
নিলামের নামে প্রহসন ও গোপনীয়তা
বিটিআরসি গত ১৪ জানুয়ারি ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলামের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে কোনো প্রতিযোগিতামূলক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। মাত্র দেড় মাসের তাড়াহুড়ো এবং গোপনীয় প্রক্রিয়ায় এই আয়োজন সম্পন্ন
করা হয়। নিলামে অংশ নিতে গ্রামীণফোন ও রবি আগ্রহ দেখালেও শেষ মুহূর্তে রহস্যজনকভাবে রবি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে মাঠে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে থাকে গ্রামীণফোন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ‘সাজানো নাটক’, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল গ্রামীণফোনকে প্রতিযোগিতাহীনভাবে এই মূল্যবান সম্পদ পাইয়ে দেওয়া। আদালতের রুল জারি থাকা সত্ত্বেও বিচারিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পানির দরে ‘সোনার ডিম’: হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি টেলিকম বিশ্বে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে ‘গোল্ডেন স্পেকট্রাম’ বলা হয় কারণ এটি কম খরচে বিশাল এলাকা এবং দুর্গম স্থানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিতে সক্ষম। অথচ, বিটিআরসি এই মহামূল্যবান তরঙ্গের দাম ধরেছে প্রতি মেগাহার্টজ মাত্র
২৩৭ কোটি টাকা (১৫ বছরের জন্য)। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালে ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ যে দামে বিক্রি হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে মুদ্রাস্ফীতি ও ডাটার চাহিদা বহুগুণ বাড়ার পরও সেই একই দামে ৭০০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সমমানের তরঙ্গ বিক্রি হয়েছে প্রতি মেগাহার্টজ প্রায় ৪৭০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ভারতের অর্ধেক দামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অযৌক্তিক মূল্যহ্রাসের কারণে রাষ্ট্র সরাসরি প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। স্বার্থের সংঘাত ও ক্ষমতার অপব্যবহার এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে নীতিনির্ধারকদের ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত। গ্রামীণফোনের ৩৪.২% শেয়ারের মালিক গ্রামীণ টেলিকম, যা ড. ইউনুসের
নিয়ন্ত্রণাধীন। অভিযোগ রয়েছে, ড. ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেনকে বিটিআরসির কমিশনার পদে নিয়োগ দেন। একইসাথে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ। অভিযোগ উঠেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ‘নিজস্ব লোক’ বসিয়ে ড. ইউনুস তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। যেখানে রেগুলেটর বা নিয়ন্ত্রকের কাজ নিরপেক্ষ থাকা, সেখানে খোদ সুবিধাভোগীর ঘনিষ্ঠভাজনরাই যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, তখন দুর্নীতির বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। টেলিকম বাজারে একচেটিয়া আধিপত্যের অশনিসংকেত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই বরাদ্দের ফলে বাংলাদেশের টেলিকম বাজার পুরোপুরি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যবহারের ফলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক খরচ
কমবে এবং কাভারেজ সক্ষমতা বাকিদের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যাবে। যেহেতু অন্য অপারেটরদের হাতে এই সুবিধা নেই এবং বাজারের অসম প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, তাই এটি গ্রামীণফোনকে একচেটিয়া আধিপত্য বা ‘মনোপলি’ তৈরির সুযোগ করে দেবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ গ্রাহক ও দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব। রাষ্ট্র তার কৌশলগত সম্পদ হারিয়েছে, আর পকেট ভারি হয়েছে বিশেষ একটি গোষ্ঠী ও ব্যক্তির। তথাকথিত ‘রিফর্ম’ বা সংস্কারের আড়ালে এটি টেলিকম খাতের ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘ডাকাতি’ হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।
করা হয়। নিলামে অংশ নিতে গ্রামীণফোন ও রবি আগ্রহ দেখালেও শেষ মুহূর্তে রহস্যজনকভাবে রবি নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে মাঠে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে থাকে গ্রামীণফোন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ‘সাজানো নাটক’, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল গ্রামীণফোনকে প্রতিযোগিতাহীনভাবে এই মূল্যবান সম্পদ পাইয়ে দেওয়া। আদালতের রুল জারি থাকা সত্ত্বেও বিচারিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পানির দরে ‘সোনার ডিম’: হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি টেলিকম বিশ্বে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে ‘গোল্ডেন স্পেকট্রাম’ বলা হয় কারণ এটি কম খরচে বিশাল এলাকা এবং দুর্গম স্থানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিতে সক্ষম। অথচ, বিটিআরসি এই মহামূল্যবান তরঙ্গের দাম ধরেছে প্রতি মেগাহার্টজ মাত্র
২৩৭ কোটি টাকা (১৫ বছরের জন্য)। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালে ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ যে দামে বিক্রি হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে মুদ্রাস্ফীতি ও ডাটার চাহিদা বহুগুণ বাড়ার পরও সেই একই দামে ৭০০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সমমানের তরঙ্গ বিক্রি হয়েছে প্রতি মেগাহার্টজ প্রায় ৪৭০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ভারতের অর্ধেক দামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অযৌক্তিক মূল্যহ্রাসের কারণে রাষ্ট্র সরাসরি প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। স্বার্থের সংঘাত ও ক্ষমতার অপব্যবহার এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে নীতিনির্ধারকদের ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত। গ্রামীণফোনের ৩৪.২% শেয়ারের মালিক গ্রামীণ টেলিকম, যা ড. ইউনুসের
নিয়ন্ত্রণাধীন। অভিযোগ রয়েছে, ড. ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেনকে বিটিআরসির কমিশনার পদে নিয়োগ দেন। একইসাথে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ। অভিযোগ উঠেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ‘নিজস্ব লোক’ বসিয়ে ড. ইউনুস তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। যেখানে রেগুলেটর বা নিয়ন্ত্রকের কাজ নিরপেক্ষ থাকা, সেখানে খোদ সুবিধাভোগীর ঘনিষ্ঠভাজনরাই যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, তখন দুর্নীতির বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। টেলিকম বাজারে একচেটিয়া আধিপত্যের অশনিসংকেত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই বরাদ্দের ফলে বাংলাদেশের টেলিকম বাজার পুরোপুরি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যবহারের ফলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক খরচ
কমবে এবং কাভারেজ সক্ষমতা বাকিদের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যাবে। যেহেতু অন্য অপারেটরদের হাতে এই সুবিধা নেই এবং বাজারের অসম প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, তাই এটি গ্রামীণফোনকে একচেটিয়া আধিপত্য বা ‘মনোপলি’ তৈরির সুযোগ করে দেবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ গ্রাহক ও দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব। রাষ্ট্র তার কৌশলগত সম্পদ হারিয়েছে, আর পকেট ভারি হয়েছে বিশেষ একটি গোষ্ঠী ও ব্যক্তির। তথাকথিত ‘রিফর্ম’ বা সংস্কারের আড়ালে এটি টেলিকম খাতের ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘ডাকাতি’ হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।



