শান্ত, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই: নাজিফা তুষি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

শান্ত, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই: নাজিফা তুষি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৩৮ 15 ভিউ
নাজিফা তুষি। অভিনেত্রী ও মডেল। গেল বছরের একেবারে শেষে এসে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত ‘রইদ’ সিনেমার ট্রেলার। সেই রেশ এখনও বিদ্যমান। এ ছাড়া এ বছর মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত একাধিক সিনেমা। নতুন বছরের কাজ ও নানা পরিকল্পনা নিয়েই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। নতুন বছর শুরু হলো। এই বছরে আপনার পরিকল্পনা কী? গত বছর যে কাজগুলো করেছি, সেগুলোর কয়েকটি এ বছর দর্শকের সামনে আসবে। সেগুলোর দিকেই আপাতত মনোযোগ। পাশাপাশি নতুন কিছু কাজের প্রস্তাবও আসতে পারে। তবে আলাদা করে কোনো পরিকল্পনা করি না। সময় যেমন নিয়ে যায়, সেভাবেই চলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। তবে কাজের ক্ষেত্রে কেবল হিসাব করে চলি। নতুন বছরে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? আমি

একটি শান্ত, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেখানে শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার স্বাধীনতা থাকবে, মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জায়গা থেকে কাজ করতে পারবে– যেমনটা আমরা সবাই কল্পনা করি। বছরের শেষ দিকে আপনার অভিনীত ‘রইদ’ ছবির ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। ‘সাধুর বউ’ চরিত্রটি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলছে– কেমন লাগছে? খুব ভালো লাগছে। ট্রেলারের অল্প অংশ দেখেই দর্শক যেভাবে চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছেন, তা আমার জন্য আনন্দের। আশা করছি, পুরো সিনেমা দেখার পর তাদের ভালো লাগা আরও বাড়বে। সিনেমাটির জন্য পুরো টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সাধুর বউয়ের চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি কতটা কঠিন ছিল? এ ধরনের চরিত্র জীবনে খুব কম আসে। ২০২৩ সাল থেকেই প্রস্তুতি শুরু করি। চরিত্রটির ডিমেনশিয়া

রয়েছে, তাই বিষয়টি বুঝতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল ও পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়মিত যেতাম। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি, রোগীদের আচরণ কাছ থেকে দেখেছি। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। শারীরিক রূপান্তরও তো বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল ... আমাদের দেশে প্রসথেটিকসের সুযোগ সীমিত, আর অতিরিক্ত মেকআপে অভিনয়ের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। তাই চরিত্রটির মতো হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ছয় মাস শ্যাম্পু ব্যবহার করিনি, নিজের কাপড় পরিনি। সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় কিনে নিজেই ধুয়ে পরতাম। রোদে পোড়া চেহারা, তেলমাখা চুল, ধুলাবালি– এসবই ছিল আমার প্রস্তুতির অংশ। এই রূপান্তরটা মানসিক ও শারীরিকভাবে খুব কঠিন ছিল। শুটিং লোকেশনও তো বেশ দুর্গম ছিল… সিলেটের সাদা পাথরের পেছনে সীমান্তবর্তী এক চরে

শুটিং হয়েছে। সাত মাস ধরে সেখানে সেট তৈরি করা হয়েছে– বাড়ি বানানো, গাছ লাগানো, মাটি ফেলা। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে থেকেছি, খেয়েছি। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সিনেমাটা সম্ভব হতো না। নির্মাতা সুমন ভাই বিশ্বাস করেন, জায়গা ও মানুষের সঙ্গে মিশলেই গল্পটা জীবন্ত হয়। প্রচারের আলোয় কম দেখা যায় আপনাকে। এতে করে কি পিছিয়ে পড়ছেন না? হয়তো কিছুটা পিছিয়েছি। শুধু পর্দায় বেশি থাকলেই জনপ্রিয় হতে হবে–এটা আমি বিশ্বাস করি না। ‘হাওয়া’ দিয়েই দর্শক আমাকে চিনেছে। কম কাজ করেও টিকে থাকা যায়– আমি সেটার উদাহরণ। ব্যক্তি নাজিফা তুষি আর অভিনেত্রী নাজিফা তুষির মধ্যে মিল-অমিল কেমন? আমি ব্যক্তিগত জীবনেও হিসাব করে চলি। হুট করে সিদ্ধান্ত নিই না। ক্যারিয়ারেও সেটার

প্রভাব পড়েছে। শুরু থেকেই বেছে কাজ করেছি। শুধু সংখ্যার জন্য কোনো প্রজেক্টে জড়াইনি। দর্শক গ্রহণ না করলে কাজ করে লাভ কী? ম্যারাথন গতিতে চলার অভ্যাসটা কখন থেকে হলো? ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। তখন গতানুগতিক প্রেমের গল্পে নায়কের পাশে থাকার চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসত। তথাকথিত নায়িকা হতে চাইনি। ভালো চরিত্রের অপেক্ষা করেছি। ঝুঁকি নিয়েছি, ধৈর্য ধরেছি। ‘হাওয়া’ সেই ধৈর্যেরই ফল। নায়িকা নয়– আপনি সবসময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছেন। কেন? শুধু গ্ল্যামার দিয়ে পরিচিত হতে চাইনি। জানতাম, এই পথে হারিয়েও যেতে পারি। কিন্তু বিশ্বাস ছিল– মন দিয়ে কাজ করলে কেউ হারায় না। এটা কোনো দৌড় নয়, এটা দীর্ঘ পথচলা। কম কাজ করার কারণে আর্থিক চাপ আসে না? চাপ আসে, অস্বীকার

করব না। কিন্তু সেটা মেনেই চলতে হয়। আমি অভিনয় করতে এসেছি, শিল্পচর্চা করতে এসেছি– শুধু অর্থের পেছনে ছুটতে নয়। কোয়ালিটির প্রতি বিশ্বাস রাখলে সম্মান আর অর্থ দুটোই একদিন আসে। নতুন কাজের মধ্যে ‘রঙ্গমালা’ নিয়ে আগ্রহের জায়গাটা কী? পিরিয়ডিক গল্পের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। ‘রঙ্গমালা’ অষ্টাদশ শতকের নোয়াখালীর গল্প। আমি নিজেও নোয়াখালীর মেয়ে। কম দর্শকের কথা জেনেও কাজটি করছি, কারণ অভিজ্ঞতাটা আলাদা। ‘আন্ধার’ সিনেমাটি নিয়েও জানতে চাই– রায়হান রাফী পরিচালিত এই সিনেমায় আমি ‘নাদিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করেছি। শুটিং শেষ, সম্ভবত এ বছরই মুক্তি পাবে। ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের অবস্থান নিয়ে আপনার ভাবনা কী? আমাদের নারী শিল্পীরা খুব মেধাবী ও পরিশ্রমী। তবে ভালো চরিত্রের অভাব রয়েছে। পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে জায়গাটা

আরও শক্ত হবে। যোগ্যতা থাকলে কাউকে আটকে রাখা যায় না। সামনের পরিকল্পনা? ‘রইদ’-এর আন্তর্জাতিক সফরের অপেক্ষা, মুক্তির অপেক্ষা। ‘রঙ্গমালা’র বাকি শুটিং আছে, একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তির অপেক্ষায়। আরও একটি নতুন কাজের প্রস্তুতিও চলছে। সব মিলিয়ে কাজের মধ্যেই থাকতে চাই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রাউটার সংযোগ দুর্বল হয় যে কারণে চট্টগ্রামে সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, চাঁদা দাবির অভিযোগ ইরানের শাসন কি পতনের দ্বারপ্রান্তে তামিমের নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ দল ঘোষণা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন: ইনকিলাব মঞ্চ প্রশাসন মনে হয় বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর জেরে কিশোর সায়র হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ প্রথমবার রূপালি পর্দায় এ আর রহমান, দেখা যাবে ভিন্ন চরিত্রে শান্ত, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই: নাজিফা তুষি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সমাধিসৌধে কিম জং-উনের মেয়ে তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস বিএনপির উদ্দেশে যা বললেন রুমিন ফারহানা নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় নিয়ে বিতর্ক, যে ব্যাখ্যা দিল এনসিপি একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই আল্লাহকে সাক্ষী রেখে যে ঘোষণা দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ বাবার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি টাকা এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসউদের তিন ক্যাটাগরির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প দেশকে অন্ধকার থেকে বাঁচান’: ২০২৬-এর নতুন বছরে ঐক্যের ডাক শেখ হাসিনার