ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ঢাকার অশান্ত রাজপথ : যে অরাজকতার মূল কারণ বসে আছে যমুনায়
গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভোট?
দখলদার ইউনুসের মেটিক্যুলাস ডিজাইনের নির্বাচনের আসল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে দেশকে জঙ্গিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে পুরোপুরি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা।
ম্যাজিশিয়ান ইউনুস! যা ধরে, তাই ভ্যানিস হয়ে যায়! এবার ভোটের পালা!
নির্বাচন বর্জনই নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাবধান!
ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট : অবৈধ ইউনুস সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়নামা
লাশের পাহাড় আর কতো উঁচু হলে ইউনুসের চোখে পড়বে?
রাজধানীতে গত এক বছরে ছয়শত তেতাল্লিশটি বেওয়ারিশ লাশ। প্রতিদিন গড়ে দুইজন। নদীতে, ডোবায়, রাস্তায়, খালে। কারো নাম নেই, ঠিকানা নেই, শোক করার মানুষ নেই। একটা দেশ যখন এভাবে তার মানুষদের হারাতে থাকে, তখন সেই দেশের মৃত্যু শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশ এখন সেই মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আছে। দেশটাই যেন বেওয়ারিশ হয়ে গেছে।
জুলাইয়ে যে দাঙ্গা লাগিয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তার পেছনে কাদের টাকা ছিল, কোন শক্তির মদদ ছিল, সেসব কথা এখন আর গোপন নয়। বিদেশি অর্থ, ইসলামি জঙ্গিদের সহায়তা, আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে যে অবৈধ ক্ষমতা দখল হয়েছে, তার ফলাফল এখন চোখের সামনে। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে যে অসরকার
ক্ষমতায় বসেছে, তারা শুধু অথর্বই নয়, সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। দেশে এখন কোনো নিয়ম নেই, নীতি নেই। যার যা ইচ্ছা তাই করছে। ২০২৪ সালে যেখানে পাঁচশত সত্তরটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ছয়শত তেতাল্লিশ হয়েছে। তেয়াত্তরটি বেশি। শুধু সংখ্যা বাড়েনি, বেড়েছে নৃশংসতাও। নারায়ণগঞ্জের নদী থেকে গত বছর চারশত চল্লিশটি মরদেহ উঠেছে, যার একশত একচল্লিশ জনের পরিচয় এখনো মেলেনি। নদীগুলো এখন অপরাধীদের ডাম্পিং স্টেশন। হত্যা করে লাশ ফেলে দাও পানিতে, কেউ খুঁজবে না, কেউ জিজ্ঞেস করবে না। পুলিশ বলছে, তারা লাশ উদ্ধার করে। পচে যাওয়া লাশের আঙুলের ছাপ নেওয়া যায় না। ভবঘুরেদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তাই পরিচয় মেলানো মুশকিল। কিন্তু
এটা কি যথেষ্ট ব্যাখ্যা? ছয়শত তেতাল্লিশটা মানুষের লাশ, যাদের কেউ খোঁজ করল না, কেউ দাবি করল না, এটা কি শুধুই পুলিশের অক্ষমতা? নাকি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাঙন? সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫, ষোলো মাসে চার হাজার সাতশত বত্রিশটি হত্যা মামলা। প্রতি মাসে আড়াই হাজার অপমৃত্যুর মামলা। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এগুলো একটা দেশের ভেঙে পড়ার গল্প। কিন্তু এই গল্পের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। জাতিসংঘ কোথায়? সেই জাতিসংঘ যারা মানবাধিকারের ধুয়া তুলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তারা এখন কোথায়? ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যারা গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের পাহারাদার, তাদের চোখে এই ছয়শত তেতাল্লিশটা লাশ পড়ছে না? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো কি এখন ছুটিতে? আল
জাজিরা, যারা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা ঘটনায় তৎপর, তাদের ক্যামেরা কি বাংলাদেশের দিকে ঘোরে না? যমুনা টেলিভিশন, যারা এক সময় প্রতিটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, তাদের মাইক কি বন্ধ হয়ে গেছে? আর দেশের ভেতরে? চেতনার দন্ড দাঁড় করিয়ে রাখা সুশীল সমাজ কোথায়? তাদের চোখ কি এখন অন্ধ হয়ে গেছে? একটাও সংবাদ সম্মেলন নেই, একটাও বিবৃতি নেই, এমনকি কাগজে কলমে একটা রিপোর্ট পর্যন্ত নেই। মানবাধিকার কর্মীরা, যারা এক সময় প্রতিটা ছোট অন্যায়েও গলা ফাটাতেন, তারা এখন পুরোপুরি নীরব। এই নীরবতা কি শুধু ভয়? নাকি সুবিধাবাদ? নাকি এটা পরিকল্পিত উদাসীনতা? যে অবৈধ ক্ষমতা এখন দেশ চালাচ্ছে, তাদের প্রতি কি এই নীরবতা একধরনের সমর্থন নয়? আঞ্জুমান মুফিদুল
ইসলাম প্রতিদিন লাশ দাফন করে যাচ্ছে। তাদের কোনো দোষ নেই। তারা মানবিক কাজ করছে। কিন্তু যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৃত্যুর পরও পরিচয় দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্র আসলে মৃত রাষ্ট্র। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত লাশের সংখ্যা বেড়েছে। জুলাইয়ে সত্তর, অক্টোবরে বাহাত্তর। এই মাসগুলোতে দেশে কী ঘটছিল, সেটা সবাই জানে। ক্ষমতা দখলের আগে আর পরে যে অস্থিরতা, সেই অস্থিরতার শিকার এই লাশগুলো। ইউনুসের অ-সরকার মুখ ফিরিয়ে আছে। তারা অর্থনীতি নিয়ে ব্যস্ত, সংস্কার নিয়ে কথা বলে, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে টালবাহানা করে। কিন্তু এই ছয়শত তেতাল্লিশটা লাশ নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই। কোনো জবাবদিহি নেই। কোনো দায় নেই। মানবাধিকার সাংস্কৃতিক সংগঠন বলছে, শুধু লাশ
উদ্ধার করে দায়িত্ব শেষ হয় না। পরিচয় খুঁজে বের করা, হত্যাকারীদের ধরা, বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু এই রাষ্ট্রের এখন কোনো কর্তব্যবোধ নেই। কারণ যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছে, তাদের কাছে জনগণের জীবনমৃত্যু কোনো বিষয় নয়। ২০১০ থেকে ২০২৪, পনেরো বছরে চৌদ্দ হাজার আটশত ছিয়াত্তরটি বেওয়ারিশ লাশ। এই সংখ্যা একটা ছোট শহরের জনসংখ্যার সমান। একটা পুরো শহর হারিয়ে গেছে, কেউ খোঁজ রাখেনি। এই চৌদ্দ হাজার পরিবার, যাদের হয়তো কখনো জানাই হয়নি তাদের প্রিয়জন কোথায় গেল। এটা শুধু আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, এটা মানবিকতার মৃত্যু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন ঠিকই বলেছেন, উন্নত দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ডেটাবেস আছে, সবার পরিচয় নথিভুক্ত। তাই লাশ শনাক্ত
করা সহজ। আমাদের দেশে সেই ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এটা কি শুধুই প্রযুক্তির অভাব? নাকি রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব? যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতে পারে, তারা কি একটা কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করতে পারে না? পারে, কিন্তু চায় না। কারণ চাইলে দায়িত্ব নিতে হয়, জবাবদিহি করতে হয়। আর এই অবৈধ ক্ষমতায় বসে থাকা মানুষগুলোর কাছে দায়িত্ব আর জবাবদিহি কোনো শব্দই নয়। পল্লবীর ডোবায় একটা লাশ ভাসছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন। পরিচয় মেলেনি। তুরাগ লেকে আরেকটা। অর্ধগলিত। এরা কে ছিল? কোথা থেকে এসেছিল? কেন মারা গেল? কে মেরেছে? কেউ জানে না। কেউ জানতে চায় না। একটা দেশে যখন মানুষের মৃত্যু এভাবে অর্থহীন হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে সেই দেশের আত্মা মরে গেছে। বাংলাদেশ এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে। একটা বেওয়ারিশ দেশ, যেখানে মানুষের জীবনেরও কোনো দাম নেই। যেখানে ক্ষমতায় আছে একদল অবৈধ দখলদার, যাদের কাছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন সব ফাঁকা বুলি। আর আন্তর্জাতিক মহল? তারা চুপ। কারণ এই ক্যু তাদের মদদেই হয়েছে। তাদের টাকায়, তাদের পরিকল্পনায়। তাই এখন তারা চোখ বন্ধ করে আছে। মানবাধিকারের যে মুখোশ তারা পরে থাকে, সেটা এখন খুলে গেছে। বাংলাদেশের ছয়শত তেতাল্লিশটা বেওয়ারিশ লাশ তাদের কাছে কোনো সমস্যা নয়। কারণ এই লাশগুলো তাদের স্বার্থবিরোধী নয়। এই নীরবতা, এই উদাসীনতা, এই প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতা সব মিলিয়ে যে ছবি তৈরি হচ্ছে, সেটা একটা মৃত দেশের ছবি। একটা দেশ যেখানে মানুষ মরে যাচ্ছে, কেউ খোঁজ রাখছে না। একটা দেশ যেখানে অবৈধ ক্ষমতা চলছে, কেউ প্রশ্ন করছে না। একটা দেশ যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বৈত নীতি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে, কেউ লজ্জা পাচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন মৃত্যু উপত্যকা। আর এই উপত্যকার প্রতিটা লাশের জন্য দায়ী তারা, যারা জুলাইয়ে ক্ষমতা দখল করেছে, যারা এখন অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছে, এবং সবচেয়ে বড় কথা, যারা আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই সব কিছু নীরবে দেখছে।
ক্ষমতায় বসেছে, তারা শুধু অথর্বই নয়, সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। দেশে এখন কোনো নিয়ম নেই, নীতি নেই। যার যা ইচ্ছা তাই করছে। ২০২৪ সালে যেখানে পাঁচশত সত্তরটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ছয়শত তেতাল্লিশ হয়েছে। তেয়াত্তরটি বেশি। শুধু সংখ্যা বাড়েনি, বেড়েছে নৃশংসতাও। নারায়ণগঞ্জের নদী থেকে গত বছর চারশত চল্লিশটি মরদেহ উঠেছে, যার একশত একচল্লিশ জনের পরিচয় এখনো মেলেনি। নদীগুলো এখন অপরাধীদের ডাম্পিং স্টেশন। হত্যা করে লাশ ফেলে দাও পানিতে, কেউ খুঁজবে না, কেউ জিজ্ঞেস করবে না। পুলিশ বলছে, তারা লাশ উদ্ধার করে। পচে যাওয়া লাশের আঙুলের ছাপ নেওয়া যায় না। ভবঘুরেদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তাই পরিচয় মেলানো মুশকিল। কিন্তু
এটা কি যথেষ্ট ব্যাখ্যা? ছয়শত তেতাল্লিশটা মানুষের লাশ, যাদের কেউ খোঁজ করল না, কেউ দাবি করল না, এটা কি শুধুই পুলিশের অক্ষমতা? নাকি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাঙন? সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫, ষোলো মাসে চার হাজার সাতশত বত্রিশটি হত্যা মামলা। প্রতি মাসে আড়াই হাজার অপমৃত্যুর মামলা। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এগুলো একটা দেশের ভেঙে পড়ার গল্প। কিন্তু এই গল্পের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। জাতিসংঘ কোথায়? সেই জাতিসংঘ যারা মানবাধিকারের ধুয়া তুলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তারা এখন কোথায়? ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যারা গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের পাহারাদার, তাদের চোখে এই ছয়শত তেতাল্লিশটা লাশ পড়ছে না? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো কি এখন ছুটিতে? আল
জাজিরা, যারা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা ঘটনায় তৎপর, তাদের ক্যামেরা কি বাংলাদেশের দিকে ঘোরে না? যমুনা টেলিভিশন, যারা এক সময় প্রতিটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, তাদের মাইক কি বন্ধ হয়ে গেছে? আর দেশের ভেতরে? চেতনার দন্ড দাঁড় করিয়ে রাখা সুশীল সমাজ কোথায়? তাদের চোখ কি এখন অন্ধ হয়ে গেছে? একটাও সংবাদ সম্মেলন নেই, একটাও বিবৃতি নেই, এমনকি কাগজে কলমে একটা রিপোর্ট পর্যন্ত নেই। মানবাধিকার কর্মীরা, যারা এক সময় প্রতিটা ছোট অন্যায়েও গলা ফাটাতেন, তারা এখন পুরোপুরি নীরব। এই নীরবতা কি শুধু ভয়? নাকি সুবিধাবাদ? নাকি এটা পরিকল্পিত উদাসীনতা? যে অবৈধ ক্ষমতা এখন দেশ চালাচ্ছে, তাদের প্রতি কি এই নীরবতা একধরনের সমর্থন নয়? আঞ্জুমান মুফিদুল
ইসলাম প্রতিদিন লাশ দাফন করে যাচ্ছে। তাদের কোনো দোষ নেই। তারা মানবিক কাজ করছে। কিন্তু যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৃত্যুর পরও পরিচয় দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্র আসলে মৃত রাষ্ট্র। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত লাশের সংখ্যা বেড়েছে। জুলাইয়ে সত্তর, অক্টোবরে বাহাত্তর। এই মাসগুলোতে দেশে কী ঘটছিল, সেটা সবাই জানে। ক্ষমতা দখলের আগে আর পরে যে অস্থিরতা, সেই অস্থিরতার শিকার এই লাশগুলো। ইউনুসের অ-সরকার মুখ ফিরিয়ে আছে। তারা অর্থনীতি নিয়ে ব্যস্ত, সংস্কার নিয়ে কথা বলে, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে টালবাহানা করে। কিন্তু এই ছয়শত তেতাল্লিশটা লাশ নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই। কোনো জবাবদিহি নেই। কোনো দায় নেই। মানবাধিকার সাংস্কৃতিক সংগঠন বলছে, শুধু লাশ
উদ্ধার করে দায়িত্ব শেষ হয় না। পরিচয় খুঁজে বের করা, হত্যাকারীদের ধরা, বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু এই রাষ্ট্রের এখন কোনো কর্তব্যবোধ নেই। কারণ যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছে, তাদের কাছে জনগণের জীবনমৃত্যু কোনো বিষয় নয়। ২০১০ থেকে ২০২৪, পনেরো বছরে চৌদ্দ হাজার আটশত ছিয়াত্তরটি বেওয়ারিশ লাশ। এই সংখ্যা একটা ছোট শহরের জনসংখ্যার সমান। একটা পুরো শহর হারিয়ে গেছে, কেউ খোঁজ রাখেনি। এই চৌদ্দ হাজার পরিবার, যাদের হয়তো কখনো জানাই হয়নি তাদের প্রিয়জন কোথায় গেল। এটা শুধু আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, এটা মানবিকতার মৃত্যু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন ঠিকই বলেছেন, উন্নত দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ডেটাবেস আছে, সবার পরিচয় নথিভুক্ত। তাই লাশ শনাক্ত
করা সহজ। আমাদের দেশে সেই ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এটা কি শুধুই প্রযুক্তির অভাব? নাকি রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব? যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতে পারে, তারা কি একটা কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করতে পারে না? পারে, কিন্তু চায় না। কারণ চাইলে দায়িত্ব নিতে হয়, জবাবদিহি করতে হয়। আর এই অবৈধ ক্ষমতায় বসে থাকা মানুষগুলোর কাছে দায়িত্ব আর জবাবদিহি কোনো শব্দই নয়। পল্লবীর ডোবায় একটা লাশ ভাসছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন। পরিচয় মেলেনি। তুরাগ লেকে আরেকটা। অর্ধগলিত। এরা কে ছিল? কোথা থেকে এসেছিল? কেন মারা গেল? কে মেরেছে? কেউ জানে না। কেউ জানতে চায় না। একটা দেশে যখন মানুষের মৃত্যু এভাবে অর্থহীন হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে সেই দেশের আত্মা মরে গেছে। বাংলাদেশ এখন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে। একটা বেওয়ারিশ দেশ, যেখানে মানুষের জীবনেরও কোনো দাম নেই। যেখানে ক্ষমতায় আছে একদল অবৈধ দখলদার, যাদের কাছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন সব ফাঁকা বুলি। আর আন্তর্জাতিক মহল? তারা চুপ। কারণ এই ক্যু তাদের মদদেই হয়েছে। তাদের টাকায়, তাদের পরিকল্পনায়। তাই এখন তারা চোখ বন্ধ করে আছে। মানবাধিকারের যে মুখোশ তারা পরে থাকে, সেটা এখন খুলে গেছে। বাংলাদেশের ছয়শত তেতাল্লিশটা বেওয়ারিশ লাশ তাদের কাছে কোনো সমস্যা নয়। কারণ এই লাশগুলো তাদের স্বার্থবিরোধী নয়। এই নীরবতা, এই উদাসীনতা, এই প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতা সব মিলিয়ে যে ছবি তৈরি হচ্ছে, সেটা একটা মৃত দেশের ছবি। একটা দেশ যেখানে মানুষ মরে যাচ্ছে, কেউ খোঁজ রাখছে না। একটা দেশ যেখানে অবৈধ ক্ষমতা চলছে, কেউ প্রশ্ন করছে না। একটা দেশ যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বৈত নীতি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে, কেউ লজ্জা পাচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন মৃত্যু উপত্যকা। আর এই উপত্যকার প্রতিটা লাশের জন্য দায়ী তারা, যারা জুলাইয়ে ক্ষমতা দখল করেছে, যারা এখন অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছে, এবং সবচেয়ে বড় কথা, যারা আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই সব কিছু নীরবে দেখছে।



