ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এনএসসিকে ‘হুমকি’ দিয়ে আরও বিপাকে বুলবুল
ঈদযাত্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া, দুই দশকের রেকর্ড ভাঙছে এবারের নৈরাজ্য: আদায় হবে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজটে চরম ভোগান্তি ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের
ঈদযাত্রায় বাড়তি নয়, কম ভাড়া নিচ্ছে বাস: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
দুই মহাসড়কে যাত্রীর চাপ, স্থবির যানবাহন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ পোস্ট শেয়ার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা বরখাস্ত
গোপালগঞ্জের সন্তান- হেমায়েত বাহিনীর ক্যাপ্টেন হেমায়েত বীর বিক্রম, যাঁর নামে কলজে শুকিয়ে যেত পাকিস্তানিদের
রোহিঙ্গাদের জন্য তুর্কি সংস্থার দেয়া যাকাতের অর্থে জামায়াত-শিবিরের জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার পার্টি, তুমুল সমালোচনা
তুরস্কের আধা-সরকারি দাতব্য সংস্থা তুর্কিয়ে দিয়ানেত ভাকফি (Türkiye Diyanet Vakfı – TDV)-এর অনুদান ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাসহ কিছু দরিদ্র মানুষের জন্য টিডিভি’র পক্ষ থেকে যাকাতের অর্থ পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দকৃত সেই অর্থ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুপ্ত সংগঠন শিবিরের শাখাগুলো জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিলে ব্যবহার করছে। ইফতার পার্টির নামে জামায়াত-শিবির মূলত নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে সবসময়।
এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— গরীব দুস্থদের জন্য পাঠানো যাকাতের অর্থ কি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হচ্ছে?
চলতি রমজান মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের উদ্যোগে বড় পরিসরে ইফতার
আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে ‘তুরস্কের উপহার’ বা টিডিভির লোগো সম্বলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে বলে ছবি ও পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে বাংলাদেশে পাঠানো এই যাকাতের অর্থ মূলত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের (যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী) জন্য খাবার কেনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টদের পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ইফতারেও এই অর্থ ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। ইসলামী বিধান অনুসারে যাকাত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট হকদার (অতি দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ইত্যাদি)দের জন্য বরাদ্দ। অভিযোগকারীরা বলছেন, এভাবে যাকাতের অর্থের ব্যবহার ধর্মীয় নিয়ম লঙ্ঘনের পাশাপাশি দাতাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ
না করে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম এটা তুরস্ক সরকারের শুভেচ্ছা উপহার। যদি জানতাম এটা রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো যাকাতের টাকা, তাহলে কেউ খেতাম না।” বাংলাদেশে টিডিভির কার্যক্রম টিডিভি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক প্রেসিডেন্সির অধীনে কাজ করে এবং বিশ্বের ১৪৯টি দেশে যাকাত, সদকা ও অন্যান্য অনুদান বিতরণ করে। বাংলাদেশে তাদের ফোকাস মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে—খাদ্য প্যাকেজ, ইফতার সামগ্রী, আশ্রয় পুনর্নির্মাণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ (সেলাই, সাবান উৎপাদন) ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে কুতুপালং ক্যাম্পে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছে তারা। রমজানে তারা বিভিন্ন দেশে ইফতার ও খাদ্য সহায়তা দেয়, কিন্তু বাংলাদেশে তা প্রধানত ক্যাম্পকেন্দ্রিক। টিডিভি সারা বিশ্বে (১৪৯টি দেশে) ২০২৫ সালে যাকাত থেকে মোট ২.১৫২ বিলিয়ন তুর্কি লিরা বা ৪৮৬ মিলিয়ন
ডলার সংগ্রহ করেছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে সহায়তা করেছে। জামায়াত-শিবিরের প্রতিক্রিয়া ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন গুপ্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিত শিবির ও যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো এ অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টিডিভি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রতিবেদনে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম রোহিঙ্গা সহায়তামুখী দেখা যায়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইফতারের উল্লেখ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশি দাতব্য তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা দাতা দেশের মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমছে বলে জাতিসংঘের সতর্কতার মধ্যে এমন বিতর্ক আরও গুরুতর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দাতা সংস্থার
উচিত বিষয়টির স্বাধীন তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা এবং ভবিষ্যতে অনুদানের ব্যবহারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। যাকাতের মতো পবিত্র তহবিল যেন শুধুমাত্র প্রকৃত হকদারদের কাছেই পৌঁছায়—এটাই সবার প্রত্যাশা।
আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে ‘তুরস্কের উপহার’ বা টিডিভির লোগো সম্বলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে বলে ছবি ও পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে বাংলাদেশে পাঠানো এই যাকাতের অর্থ মূলত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের (যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী) জন্য খাবার কেনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্টদের পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ইফতারেও এই অর্থ ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। ইসলামী বিধান অনুসারে যাকাত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট হকদার (অতি দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ইত্যাদি)দের জন্য বরাদ্দ। অভিযোগকারীরা বলছেন, এভাবে যাকাতের অর্থের ব্যবহার ধর্মীয় নিয়ম লঙ্ঘনের পাশাপাশি দাতাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ
না করে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম এটা তুরস্ক সরকারের শুভেচ্ছা উপহার। যদি জানতাম এটা রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো যাকাতের টাকা, তাহলে কেউ খেতাম না।” বাংলাদেশে টিডিভির কার্যক্রম টিডিভি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক প্রেসিডেন্সির অধীনে কাজ করে এবং বিশ্বের ১৪৯টি দেশে যাকাত, সদকা ও অন্যান্য অনুদান বিতরণ করে। বাংলাদেশে তাদের ফোকাস মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে—খাদ্য প্যাকেজ, ইফতার সামগ্রী, আশ্রয় পুনর্নির্মাণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ (সেলাই, সাবান উৎপাদন) ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে কুতুপালং ক্যাম্পে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছে তারা। রমজানে তারা বিভিন্ন দেশে ইফতার ও খাদ্য সহায়তা দেয়, কিন্তু বাংলাদেশে তা প্রধানত ক্যাম্পকেন্দ্রিক। টিডিভি সারা বিশ্বে (১৪৯টি দেশে) ২০২৫ সালে যাকাত থেকে মোট ২.১৫২ বিলিয়ন তুর্কি লিরা বা ৪৮৬ মিলিয়ন
ডলার সংগ্রহ করেছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে সহায়তা করেছে। জামায়াত-শিবিরের প্রতিক্রিয়া ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন গুপ্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিত শিবির ও যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো এ অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টিডিভি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রতিবেদনে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম রোহিঙ্গা সহায়তামুখী দেখা যায়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইফতারের উল্লেখ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিদেশি দাতব্য তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা দাতা দেশের মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমছে বলে জাতিসংঘের সতর্কতার মধ্যে এমন বিতর্ক আরও গুরুতর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দাতা সংস্থার
উচিত বিষয়টির স্বাধীন তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা এবং ভবিষ্যতে অনুদানের ব্যবহারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। যাকাতের মতো পবিত্র তহবিল যেন শুধুমাত্র প্রকৃত হকদারদের কাছেই পৌঁছায়—এটাই সবার প্রত্যাশা।



