ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
রামিসা হত্যা থেকে সার্বিক সহিংসতা: ‘প্যান্ডেমিক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে কি সমাজের হিংস্রতা?
ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং মরদেহ বিকৃত করার ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, শোক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার একটি বৃহত্তর চিত্রের অংশ। তাদের ভাষায়, দেশে সহিংসতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেকটা ‘প্যান্ডেমিক পর্যায়ের সামাজিক সংকট’-এর রূপ নিয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকালে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা দেখতে
পান তার মা। অভিযুক্ত সোহেল রানা ও রামিসার পরিবার পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করত। দীর্ঘ সময় দরজায় সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষ থেকে শিশুটির মরদেহ এবং বাথরুম থেকে দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান সহিংসতার আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন
ঘটনায় ১১৫ শিশু নিহত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৮৯০ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ৫১৯ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ১৯৫ জন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৮১ জন, গণপিটুনিতে ১৫৩ জন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহিংসতার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধপ্রবণতা নয়, বরং গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট কাজ করছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য
ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন বলেন, প্রতিশোধ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা সমাজে ক্রমেই স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদনজগৎ কিংবা রাজনৈতিক বাস্তবতায় অপরাধী বা সহিংস ব্যক্তিদের অনেক সময় নায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা অন্যদের মধ্যেও ক্ষমতার অপব্যবহারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। তার মতে, অনেক অপরাধী নিজের হীনমন্যতা বা হতাশা ঢাকতে নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে বিকৃত মানসিক তৃপ্তি খোঁজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, দীর্ঘদিনের সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা মানুষের সহনশীলতা কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা মানুষের
মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা, অর্থ ও ক্ষমতার বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা মানুষের মধ্যে সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে। মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মনিরা রহমান সতর্ক করে বলেন, সমাজে সহিংসতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বা ‘নরমালাইজড’ হয়ে উঠছে। তার মতে, অপরাধের কার্যকর বিচার না হলে এবং সামাজিক প্রতিরোধ দুর্বল থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে এসব ঘটনাকে দৈনন্দিন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে। এই নীরব গ্রহণযোগ্যতা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম ইয়াসিন আরাফাত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষ যে মাত্রার
সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে, তাতে ভয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা অনেকাংশে কমে গেছে। দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিও অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করেছে। ফলে অনেকেই মনে করে, অর্থ বা প্রভাব থাকলে আইনের শাস্তি এড়ানো সম্ভব। রুশ মনোবিজ্ঞানী উরি ব্রোনফেনব্রেনারের ‘ইকোলজিক্যাল সিস্টেম থিওরি’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো—সব স্তরে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলে সমাজে সহিংসতা বাড়ে। তাই কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। অপরাধ বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম। তার মতে, একটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে ২৫ থেকে ৩০ বছর
পর্যন্ত সময় লেগে যাওয়ায় অপরাধীরা দ্রুত শাস্তির বার্তা পায় না। ফলে শাস্তির ভয়ও কমে যায়। আলোচিত অনেক মামলায় দ্রুত রায় হলেও তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগায় সমাজে কাঙ্ক্ষিত প্রতিরোধমূলক প্রভাব তৈরি হয় না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। ফউজুল আজিমের মতে, বিচারিক আদালত থেকে শুরু করে আপিল বিভাগ পর্যন্ত পুরো বিচারপ্রক্রিয়া তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে ড. তৌহিদুল হক ও মনিরা রহমান মনে করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার না করলে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য হ্রাস, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতা উসকে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রামিসার মতো মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি সমাজের গভীরে জমে থাকা সহিংসতা, বৈষম্য, বিচারহীনতা ও মূল্যবোধের সংকটের বহিঃপ্রকাশ। এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত সামাজিক, আইনি ও নীতিগত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
পান তার মা। অভিযুক্ত সোহেল রানা ও রামিসার পরিবার পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করত। দীর্ঘ সময় দরজায় সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষ থেকে শিশুটির মরদেহ এবং বাথরুম থেকে দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান সহিংসতার আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন
ঘটনায় ১১৫ শিশু নিহত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৮৯০ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ৫১৯ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ১৯৫ জন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৮১ জন, গণপিটুনিতে ১৫৩ জন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহিংসতার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধপ্রবণতা নয়, বরং গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট কাজ করছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য
ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন বলেন, প্রতিশোধ ও ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা সমাজে ক্রমেই স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদনজগৎ কিংবা রাজনৈতিক বাস্তবতায় অপরাধী বা সহিংস ব্যক্তিদের অনেক সময় নায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা অন্যদের মধ্যেও ক্ষমতার অপব্যবহারের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। তার মতে, অনেক অপরাধী নিজের হীনমন্যতা বা হতাশা ঢাকতে নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে বিকৃত মানসিক তৃপ্তি খোঁজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, দীর্ঘদিনের সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা মানুষের সহনশীলতা কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা মানুষের
মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা, অর্থ ও ক্ষমতার বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা মানুষের মধ্যে সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে। মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মনিরা রহমান সতর্ক করে বলেন, সমাজে সহিংসতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বা ‘নরমালাইজড’ হয়ে উঠছে। তার মতে, অপরাধের কার্যকর বিচার না হলে এবং সামাজিক প্রতিরোধ দুর্বল থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে এসব ঘটনাকে দৈনন্দিন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে। এই নীরব গ্রহণযোগ্যতা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম ইয়াসিন আরাফাত। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষ যে মাত্রার
সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে, তাতে ভয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা অনেকাংশে কমে গেছে। দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিও অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করেছে। ফলে অনেকেই মনে করে, অর্থ বা প্রভাব থাকলে আইনের শাস্তি এড়ানো সম্ভব। রুশ মনোবিজ্ঞানী উরি ব্রোনফেনব্রেনারের ‘ইকোলজিক্যাল সিস্টেম থিওরি’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো—সব স্তরে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলে সমাজে সহিংসতা বাড়ে। তাই কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। অপরাধ বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম। তার মতে, একটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে ২৫ থেকে ৩০ বছর
পর্যন্ত সময় লেগে যাওয়ায় অপরাধীরা দ্রুত শাস্তির বার্তা পায় না। ফলে শাস্তির ভয়ও কমে যায়। আলোচিত অনেক মামলায় দ্রুত রায় হলেও তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগায় সমাজে কাঙ্ক্ষিত প্রতিরোধমূলক প্রভাব তৈরি হয় না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। ফউজুল আজিমের মতে, বিচারিক আদালত থেকে শুরু করে আপিল বিভাগ পর্যন্ত পুরো বিচারপ্রক্রিয়া তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে ড. তৌহিদুল হক ও মনিরা রহমান মনে করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার না করলে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য হ্রাস, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতা উসকে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রামিসার মতো মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি সমাজের গভীরে জমে থাকা সহিংসতা, বৈষম্য, বিচারহীনতা ও মূল্যবোধের সংকটের বহিঃপ্রকাশ। এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত সামাজিক, আইনি ও নীতিগত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।



