রংপুরে আলু চাষ করে কৃষকের মাথায় হাত, কেজিপ্রতি ৫ টাকা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬

রংপুরে আলু চাষ করে কৃষকের মাথায় হাত, কেজিপ্রতি ৫ টাকা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬ |
রংপুর অঞ্চলে আলুর বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে আলুর দাম কেজিপ্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে বাজারে সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই। হিমাগারে সংরক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে আসছে মাত্র প্রায় পাঁচ টাকা, ফলে চাষিদের গুনতে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসান। আলু চাষ করে এখন কৃষকের মাথায় হাত, এমনটাই বলছেন আলু চাষীরা। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় প্রায় ৬৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টন আলু। তবে উৎপাদনের তুলনায় সংরক্ষণ সুবিধা খুবই সীমিত। জেলায় রয়েছে মাত্র ৪০টি হিমাগার, যার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার

টন। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের চার ভাগের এক ভাগেরও কম আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। জেলার সদর উপজেলা, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার হিমাগারগুলোতে বর্তমানে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭৪৭ টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বের করা হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫৯৪ টন, যা মোট মজুদের চার ভাগের এক ভাগেরও কম। বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু বের করার প্রবণতাও কম। এদিকে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন মৌসুমের আলু চাষ শুরু হওয়ার কথা।

মাত্র দুই মাসের মধ্যে সেই আলু বাজারে চলে আসবে। ফলে হিমাগারে থাকা বিপুল পরিমাণ আলু সময়মতো বিক্রি না হলে তা পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চাষিদের হিসাব অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ টাকা। বস্তা, পরিবহন ও হিমাগারে সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩০ টাকারও বেশি। অথচ বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে। হিমাগারের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকে মাত্র পাঁচ টাকার মতো। রংপুর বিভাগের আট জেলায় এ বছর প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন

হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯২ টন। কিন্তু বিভাগের ১১৬টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৯ হাজার ৬৯২ টন আলু। ফলে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ সংকট ও দরপতনের কারণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, শুধু হিমাগারে সংরক্ষিত আলুতেই এবার প্রায় ১ হাজার ৯৯৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। রংপুরের বিভিন্ন হিমাগার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে আলু প্রকারভেদে ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতা কম থাকায় হিমাগারগুলোতে তেমন কর্মচাঞ্চল্য নেই; অধিকাংশ শেডই প্রায় ফাঁকা। রংপুরের আলু ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা জানান, তিনি প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ব্যয়ে চার একর জমিতে আলু

চাষ করেছিলেন। এতে উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকায় তিনি ৭০০ বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। তিনি বলেন, “গত মাসে বাধ্য হয়ে ১২ টাকা দরে ৩০০ বস্তা আলু বিক্রি করেছি। কিন্তু হিমাগারের ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেটে নেওয়ার পর হাতে এসেছে মাত্র ৫ টাকা ২৫ পয়সা। এতে বড় লোকসান হয়েছে।” একই চিত্র দেখা গেছে রংপুরের এনএন হিমাগারেও। সেখানে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত বের হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার বস্তা। তারাগঞ্জ উপজেলার কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “এক কেজি আলু উৎপাদন করতে আমাদের খরচ প্রায় ২০ টাকা। বস্তা,

পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তা ৩০ টাকার বেশি হয়ে যায়। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৭–৮ টাকা দরে। হিমাগারের খরচ কেটে দিলে হাতে থাকে মাত্র ৫ টাকা। তাহলে সরকার কোথায় ২২ টাকায় আলু কিনছে?” তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে আলু চাষ থেকে সরে যেতে পারেন। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে যদি রংপুর অঞ্চলে আলু ক্রয় করা হয়, তাহলে কৃষকেরা কিছুটা উপকৃত হবেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিরিক্ত উৎপাদন, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে

প্রতিবছরই আলুর বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। সময়মতো সরকারি ক্রয় ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো না হলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন কৃষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয়