মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জাহাজ ভাড়া ও লজিস্টিক ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী, সংকটে বৈদেশিক বাণিজ্য – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জাহাজ ভাড়া ও লজিস্টিক ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী, সংকটে বৈদেশিক বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ এপ্রিল, ২০২৬ |
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক শিপিং খাতে অস্থিরতা তীব্র হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি অভিঘাত পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিতে। ঝুঁকি এড়াতে অনেক জাহাজ নিরাপদ জলসীমায় অপেক্ষা করছে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প রুটে চলাচল করছে। ফলে পরিবহন সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। একই সঙ্গে তেলের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় বাংকার ফুয়েলের দাম বেড়েছে এবং বীমা প্রিমিয়ামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে কার্যরত শিপিং লাইনগুলো কনটেইনার ডিটেনশন চার্জ ৭-১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন রুটে জরুরি জ্বালানি সারচার্জ (ইএফএস) আরোপ করেছে। ফলে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, সম্মিলিতভাবে

এসব কারণে লজিস্টিক ব্যয় প্রায় ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে জাহাজ ভাড়া ও সংশ্লিষ্ট খরচ উচ্চ পর্যায়েই থাকবে। এর ফলে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচ থেকে বেড়ে প্রায় ১১৮ ডলারে উঠেছে। একই সঙ্গে বীমা প্রিমিয়াম ৫০-৬০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।” ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন সারচার্জ আরোপের প্রভাব ইতোমধ্যেই ফ্রেইট রেটে পড়েছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তা রকিবুল আলম চৌধুরী

জানান, সাংহাই থেকে ২০ ফুট কনটেইনার আমদানির খরচ ফেব্রুয়ারির ১,৫০০ ডলার থেকে মার্চে বেড়ে ১,৯০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ভাড়া ২,৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ২,৯০০ ডলার হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই শিপিং ব্যয় প্রায় ২৬-২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন-বাংলাদেশ রুট দেশের পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানিকৃত ১৮ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল কাঁচামালের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। ফলে এই রুটে ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন ব্যয়কে প্রভাবিত করছে। জাহাজ ভাড়া, জ্বালানি ও আনুষঙ্গিক খরচ একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় অনেক আমদানিকারক এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ নীতি অনুসরণ করছেন। বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল

বশর চৌধুরী বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমরা আমদানি স্থগিত রেখেছি। ভাড়া প্রতি টনে ২০-২৫ ডলার বেড়েছে, একই সঙ্গে পণ্যের দামও বাড়ছে। এই অবস্থায় আপাতত বাজারের বাইরে আছি।” রপ্তানিকারকদের মতে, বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ সীমিত। বিজিএমইএ পরিচালক আবু তৈয়ব বলেন, “ক্রেতারা বাড়তি ফ্রেইট বা ডিটেনশন চার্জ বহন করবে না। ফলে এই খরচ আমাদেরই নিতে হচ্ছে, এতে মুনাফা কমছে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে।” একটি শীর্ষ শিপিং লাইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিটেনশন চার্জ পরিস্থিতিভিত্তিক সমন্বয় করা হয়। তিনি বলেন, “বাংকার জ্বালানি ও বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিচালন খরচ বেড়েছে। শুধু একটি কোম্পানি নয়, প্রায়

সব শিপিং লাইনই একই কারণে চার্জ সমন্বয় করছে।” খাতসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ বাড়ায় সময়মতো কনটেইনার ছাড় না হলে অতিরিক্ত জরিমানার ঝুঁকি বাড়ছে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে বিলম্ব, বন্দরের জট বা অভ্যন্তরীণ পরিবহন সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীদের এখন আরও দক্ষ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন পড়ছে। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ-এর সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এপ্রিল মাস থেকেই এর পূর্ণ প্রভাব দৃশ্যমান হবে। ইতোমধ্যে জ্বালানি সারচার্জ বৈশ্বিক ফ্রেইট কস্ট বাড়িয়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করেছে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অংশ, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিহিংসামূলক নীতি তা নষ্ট করছে: আজিজ খান রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ থেকে এখন বিশ্বের তীব্র খাদ্য সংকটের শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ টিটিপির নিশানায় বাংলাদেশ: সারাদেশে ‘রেড অ্যালার্ট বহুমুখী সংকটে শিল্পখাত, টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে সিমেন্টসহ উৎপাদন খাত হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করল বাংলাদেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকার ছবি তুলে বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই বিশ্বকাপ মিসের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন শুরুর লক্ষ্য লিটনের রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর দুর্নীতির আখড়া ডিএনসিসি: বাজারদরের ৬ গুণ বেশি দামে পণ্য ক্রয়, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ দিতে বারবার দরপত্র বাতিল, শর্ত বদল ডিএনসিসির ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম: বাজেয়াপ্ত পে-অর্ডারের সাড়ে ৭ কোটি টাকা উত্তোলন, জানে না কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬ সফল করতে নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভা — সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রগতির দৃঢ় অঙ্গীকার শিক্ষক লাঞ্ছনার কালো অধ্যায় ও একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধের দলিল তেলের লাইনে মৃত্যু—এটা কি শুধু একটি দুর্ঘটনা, নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি? বিদ্যুৎ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ – বিএনপি সরকার ঘুমে ছয় শিক্ষকের মৃত্যু, একটি ঘটনারও বিচার হয়নি মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণ করা আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক ফারুকীর নাশতায় প্রতিদিন খরচ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা” গণঅভ্যুত্থান নয়, ৫ আগস্ট ছিল সুপরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’: পুরো সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য