ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গণভোট: বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা
কারা ফটকের পাঁচ মিনিট……
রঙ বদলের মানুষেরা!
হ্যাঁ কিংবা না কোনো শব্দেই আমরা আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যেন কথা না বলি।কারণ এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফাঁদটাই হলো আমাদের মুখ খুলিয়ে দেওয়া।
ইউনুস থেকে মাচাদো: নোবেল শান্তি পুরস্কার কি সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে?
পিতার নামে শপথ নেওয়ার দিন আজ
নৈতিকতা, মানবিকতা ও রাজপথ: আওয়ামী লীগের অবিনাশী চেতনার তিন স্তম্ভ
মতামত || উভলিঙ্গ নির্বাচন
হরিনারায়ণ দাস : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান প্রচণ্ড ভারতবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সরকারকে পাকিস্তানের সঙ্গে পারমাণবিক বোমার চুক্তি করার আহ্বান জানিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি আরেকটা মারত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, জিয়া যতদিন জীবিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী ছিল বিএনপির রাজনীতির স্তম্ভ। কেন বলেছেন তা যুক্তি সহকারে তিনি বিশ্লেষণও করেছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন। ১১ টি সেক্টরের ১ টির সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। আবার এই ১১ টি সেক্টরের সৈন্যদের নিয়ে ৩ টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। তার একটির নাম দেয়া হয়েছিল তার নামে জেড
ফোর্স। তিনি এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে ক্যান্টনমেন্টে বসে যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, সেই দলটিই আজকের বিএনপি। পশ্চিম পাকিস্তানে বড়ো হওয়া এই জিয়া ভালো করে বাংলা বলতে পারতেন না। সাধারণের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। তাই জনসমর্থন একটা বড়ো চিন্তার বিষয় ছিল তার জন্য। তিনি জানতেন বঙ্গবন্ধুর লাশের উপর দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষের ভোট পাওয়া অসম্ভব। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিমলীগ, জামায়েত ও তীব্র ভারতবিরোধী চৈনিক বামদের কাছে টেনে নেন। তাদের নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপি। স্বাধীনতার বিরোধিতা-সহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল জামায়েতের প্রধান গোলাম আযম-সহ ৪২ জন রাজনৈতিক
ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর গোলাম আযম পাকিস্তান হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে যায়। জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৮ সালে দেশে ফিরে আসেন। সঙ্গে জামায়েত রাজনীতি করার অনুমতি পায়। কিন্তু জিয়া বা এরশাদ কেউ তাকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার সাহস করেনি। ১৯৯৪ সালে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন। এমন এক বিতর্কিত দেশবিরোধীর পুত্রকে ১৯৭৯ সালে সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন জিয়া। খালেদা জিয়া তাকে পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি দেন। খালেদা জামাতের দুই স্বস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী নেতাকে মন্ত্রী বানান। মোট কথা বিএনপি জামায়েত নামের এই কাল সাপকে পেলে পুষে বড়ো করেছে। অন্তত ২৫ বছর তারা এক রাজনৈতিক মোর্চায় ছিল। আজ গোলাম
আযমের সেই পুত্র আবদুল্লাহিল আমান আযমী সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে আছেন। তার কাছে সেনাপ্রধান পর্যন্ত করজোড়ে নিবেদন করেন। আয়নাঘর নাটকের সবচেয়ে বড়ো অভিনেতা এখন তিনি। মোট কথা, জামায়েত ও বিএনপি মূলত বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভিন্ন সত্ত্বা। যতদিন আওয়ামীলীগ আছে তাদের অস্তিত্ব আছে। তার মূলত নিজেদের অর্জনে নয়, আওয়ামীলীগের ব্যর্থতায় প্রকাশিত হয়ে উঠে। মজার ব্যাপার এই ভাতৃপ্রতিম সংগঠন দুটি আজ নির্বাচনের মাঠে একে অপরের মুখোমুখি। একদল আরেকদলকে কথায় কথায় আক্রমণ করছে। দৃশ্যটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেশ রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। কালকেও যাদের ছিল গভীর প্রণয়, আজ তারা একে অপরের জাতশত্রু। অনেকে বলছেন এটা আসলে লোক দেখানো নাটক। তাদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে সমঝোতা হয়ে
গেছে। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা আবার বিপরীত সাক্ষ্য দেয়। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর জামায়েতের উত্থানের সবচেয়ে বড়ো নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে জামায়েতের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রশিবিরের ভূমিধ্বস বিজয়। বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে শিবিরের এই বিজয় পায়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ উপচার্য ইন্টারিম গভর্নমেন্টের বিদায়ের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জামায়েতের প্রধানকে ৫০ লক্ষ টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে জামায়েতের নেতাকর্মীরা টাকা বিলাতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীর হাতে পাকড়াও হচ্ছে। ফলে ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু ভালো ঠেকছে না। যাই হোক, কালকে নির্বাচনে তিনটি ফলাফল হতে পারে। ১. বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়, ২. জামায়েতের নিরঙ্কুশ বিজয়,
৩. কোয়ালিশন সরকার। তবে ফলাফল যাই হোক, পরিণাম কিন্তু একটাই: বাংলাদেশে উগ্র ডানপন্থার উত্থান। বাংলাদেশে ওয়াহিবিজম তথা পাকিস্তান-সৌদী আরবের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য আরো বেশি ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে উঠবে। কেন এই কথা বলছি; বিএনপির বিপুল জনপ্রিয়তা থাকলেও, দলটি মূলত উদ্দেশ্যবিহীন একটা সংগঠন। এরা সস্তা জনপ্রিয়তার ভেলায় ভেসে ক্ষমতায় আসে। পূর্বে দুবার ক্ষমতায় এসেছিল ভারতবিরোধিতার জিকির তুলে। অবশ্য তারা ক্ষমতায় গেলে ভারতকে বেশ সমীহ করেই চলে। এবার বিএনপির আগেই ভারতবিরোধিতার মাঠ জাময়েত ও তার ছায়া সংগঠন এনসিপি দখল করে নিয়েছিল। ফলে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের ধুয়ো তুলতে হয়েছিল। কিন্তু তারা যে মুক্তিযুদ্ধ ‘ওউন’ করে না, তা তারা ২০০১-২০০৬-এ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেখিয়ে
দিয়েছিল। বিএনপির মূল শক্তি মূলত একবারে গ্রাম ইউনিয়ন পর্যায় ছড়িয়ে থাকা তাদের সংগঠন। এই সংগঠনের কর্মীদের যদি জিজ্ঞেস করেন তোমরা কেন দলটি কর? তারাই একটাই কথা বলবে শহিদ জিয়ার আদর্শ। শহিদ জিয়ার আদর্শটা কি তা আর বলতে পারবে না। তারা প্রকৃতপক্ষে দল করে অবাধে চাঁদাবাজি করার জন্য। গ্রামের হাট মাঠ থেকে শুরু করে খাস জমি দখল- এই তাদের লক্ষ্য। অবশ্য একই উদ্দেশ্যে আরেকটি বড়ো দল আওয়ামীলীগের লোকজন রাজনীতি করে। বাংলাদেশে পটপরিবর্তনের পর যে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়, তা মূলত এই চাঁদাবাজির মাঠ দখলের জন্য। এ ক্ষেত্রে জামায়েত একটু পিছিয়ে। কারণ তাদের সংগঠন এতো বিস্তৃত হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই চাঁদাবাজরা পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তারেক জিয়ার মতো অনভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের পক্ষে এদের নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর কোনভাবে যদি জামায়েত ক্ষমতায় যায়, তারা প্রথমেই চেষ্টা করবে এই চাঁদাবাজির চেইন ভেঙে দিতে। কারণ তাদের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি করে চলতে হয় না। তাদের আদর্শিক ভিত্তি আছে। তারা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো একটা সরকার গঠন করতে চায়। সে জন্য গত ৫০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের টাকায় তারা বিশাল এক অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছে। তাদের কর্মী কম হলেও, তারা নিবেদিত। কারণ একে তারা ধর্মীয়ভাবে মোটিভেটেড, সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত। চাঁদাবাজির এই চেইন ভেঙে দিলে বিএনপি নামের সংগঠন আপনা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাদের এমন কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই যে এর টানে কেউ দল আকড়ে পড়ে থাকবে। ফলে এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কে হাত পড়লে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাবে। আর কোয়ালিশন হলে দুই দলের ভাগাভাগি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হবে দাঙ্গা হাঙ্গামা। ফলে ফলাফল যাই হোক, পরিণাম অস্থিরতা। এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ একটু ভিন্ন। জামায়েতকে আদর্শিকভাবে ঠেকানোর মতো মেনিফেস্টো ও লোকবল আছে এই দলটির। আবার বিএনপির চাঁদবাজদের ঠেকানোর মতো চাঁদাবাজ তাদেরও আছে। অর্থাৎ দুই ফ্রন্টে তাদের খেলোয়াড় আছে। বাংলাদেশের রাজনীতি আসলে দু শিবিরে বিভক্ত। একদিকে আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে আওয়ামীলীগবিরোধীরা। তাই এই নির্বাচনকে বলা যায় উভয়লিঙ্গ। এক শিবিরের (পড়ুন লিঙ্গের) লোকজন নিজেরা নিজেরা একেক লিঙ্গের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রমণক্রিয়ায় ব্যস্ত। তারা ভাবছে তাদের রগরগে যৌনদৃশ্য দেখে সারা দুনিয়া পুলকিত হচ্ছে। কিন্তু আদতে যা হচ্ছে, স্রেফ এক রুচিহীন যৌন-বিনোদন। এতে কারো কোন আগ্রহ নেই।
ফোর্স। তিনি এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে ক্যান্টনমেন্টে বসে যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, সেই দলটিই আজকের বিএনপি। পশ্চিম পাকিস্তানে বড়ো হওয়া এই জিয়া ভালো করে বাংলা বলতে পারতেন না। সাধারণের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। তাই জনসমর্থন একটা বড়ো চিন্তার বিষয় ছিল তার জন্য। তিনি জানতেন বঙ্গবন্ধুর লাশের উপর দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষের ভোট পাওয়া অসম্ভব। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিমলীগ, জামায়েত ও তীব্র ভারতবিরোধী চৈনিক বামদের কাছে টেনে নেন। তাদের নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপি। স্বাধীনতার বিরোধিতা-সহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল জামায়েতের প্রধান গোলাম আযম-সহ ৪২ জন রাজনৈতিক
ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর গোলাম আযম পাকিস্তান হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে যায়। জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৮ সালে দেশে ফিরে আসেন। সঙ্গে জামায়েত রাজনীতি করার অনুমতি পায়। কিন্তু জিয়া বা এরশাদ কেউ তাকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার সাহস করেনি। ১৯৯৪ সালে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন। এমন এক বিতর্কিত দেশবিরোধীর পুত্রকে ১৯৭৯ সালে সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন জিয়া। খালেদা জিয়া তাকে পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি দেন। খালেদা জামাতের দুই স্বস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী নেতাকে মন্ত্রী বানান। মোট কথা বিএনপি জামায়েত নামের এই কাল সাপকে পেলে পুষে বড়ো করেছে। অন্তত ২৫ বছর তারা এক রাজনৈতিক মোর্চায় ছিল। আজ গোলাম
আযমের সেই পুত্র আবদুল্লাহিল আমান আযমী সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে আছেন। তার কাছে সেনাপ্রধান পর্যন্ত করজোড়ে নিবেদন করেন। আয়নাঘর নাটকের সবচেয়ে বড়ো অভিনেতা এখন তিনি। মোট কথা, জামায়েত ও বিএনপি মূলত বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভিন্ন সত্ত্বা। যতদিন আওয়ামীলীগ আছে তাদের অস্তিত্ব আছে। তার মূলত নিজেদের অর্জনে নয়, আওয়ামীলীগের ব্যর্থতায় প্রকাশিত হয়ে উঠে। মজার ব্যাপার এই ভাতৃপ্রতিম সংগঠন দুটি আজ নির্বাচনের মাঠে একে অপরের মুখোমুখি। একদল আরেকদলকে কথায় কথায় আক্রমণ করছে। দৃশ্যটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেশ রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। কালকেও যাদের ছিল গভীর প্রণয়, আজ তারা একে অপরের জাতশত্রু। অনেকে বলছেন এটা আসলে লোক দেখানো নাটক। তাদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে সমঝোতা হয়ে
গেছে। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা আবার বিপরীত সাক্ষ্য দেয়। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর জামায়েতের উত্থানের সবচেয়ে বড়ো নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে জামায়েতের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রশিবিরের ভূমিধ্বস বিজয়। বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে শিবিরের এই বিজয় পায়। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ উপচার্য ইন্টারিম গভর্নমেন্টের বিদায়ের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জামায়েতের প্রধানকে ৫০ লক্ষ টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে জামায়েতের নেতাকর্মীরা টাকা বিলাতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীর হাতে পাকড়াও হচ্ছে। ফলে ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু ভালো ঠেকছে না। যাই হোক, কালকে নির্বাচনে তিনটি ফলাফল হতে পারে। ১. বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়, ২. জামায়েতের নিরঙ্কুশ বিজয়,
৩. কোয়ালিশন সরকার। তবে ফলাফল যাই হোক, পরিণাম কিন্তু একটাই: বাংলাদেশে উগ্র ডানপন্থার উত্থান। বাংলাদেশে ওয়াহিবিজম তথা পাকিস্তান-সৌদী আরবের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য আরো বেশি ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে উঠবে। কেন এই কথা বলছি; বিএনপির বিপুল জনপ্রিয়তা থাকলেও, দলটি মূলত উদ্দেশ্যবিহীন একটা সংগঠন। এরা সস্তা জনপ্রিয়তার ভেলায় ভেসে ক্ষমতায় আসে। পূর্বে দুবার ক্ষমতায় এসেছিল ভারতবিরোধিতার জিকির তুলে। অবশ্য তারা ক্ষমতায় গেলে ভারতকে বেশ সমীহ করেই চলে। এবার বিএনপির আগেই ভারতবিরোধিতার মাঠ জাময়েত ও তার ছায়া সংগঠন এনসিপি দখল করে নিয়েছিল। ফলে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের ধুয়ো তুলতে হয়েছিল। কিন্তু তারা যে মুক্তিযুদ্ধ ‘ওউন’ করে না, তা তারা ২০০১-২০০৬-এ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেখিয়ে
দিয়েছিল। বিএনপির মূল শক্তি মূলত একবারে গ্রাম ইউনিয়ন পর্যায় ছড়িয়ে থাকা তাদের সংগঠন। এই সংগঠনের কর্মীদের যদি জিজ্ঞেস করেন তোমরা কেন দলটি কর? তারাই একটাই কথা বলবে শহিদ জিয়ার আদর্শ। শহিদ জিয়ার আদর্শটা কি তা আর বলতে পারবে না। তারা প্রকৃতপক্ষে দল করে অবাধে চাঁদাবাজি করার জন্য। গ্রামের হাট মাঠ থেকে শুরু করে খাস জমি দখল- এই তাদের লক্ষ্য। অবশ্য একই উদ্দেশ্যে আরেকটি বড়ো দল আওয়ামীলীগের লোকজন রাজনীতি করে। বাংলাদেশে পটপরিবর্তনের পর যে রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়, তা মূলত এই চাঁদাবাজির মাঠ দখলের জন্য। এ ক্ষেত্রে জামায়েত একটু পিছিয়ে। কারণ তাদের সংগঠন এতো বিস্তৃত হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই চাঁদাবাজরা পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তারেক জিয়ার মতো অনভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের পক্ষে এদের নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর কোনভাবে যদি জামায়েত ক্ষমতায় যায়, তারা প্রথমেই চেষ্টা করবে এই চাঁদাবাজির চেইন ভেঙে দিতে। কারণ তাদের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি করে চলতে হয় না। তাদের আদর্শিক ভিত্তি আছে। তারা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো একটা সরকার গঠন করতে চায়। সে জন্য গত ৫০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের টাকায় তারা বিশাল এক অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছে। তাদের কর্মী কম হলেও, তারা নিবেদিত। কারণ একে তারা ধর্মীয়ভাবে মোটিভেটেড, সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত। চাঁদাবাজির এই চেইন ভেঙে দিলে বিএনপি নামের সংগঠন আপনা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাদের এমন কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই যে এর টানে কেউ দল আকড়ে পড়ে থাকবে। ফলে এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কে হাত পড়লে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাবে। আর কোয়ালিশন হলে দুই দলের ভাগাভাগি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হবে দাঙ্গা হাঙ্গামা। ফলে ফলাফল যাই হোক, পরিণাম অস্থিরতা। এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ একটু ভিন্ন। জামায়েতকে আদর্শিকভাবে ঠেকানোর মতো মেনিফেস্টো ও লোকবল আছে এই দলটির। আবার বিএনপির চাঁদবাজদের ঠেকানোর মতো চাঁদাবাজ তাদেরও আছে। অর্থাৎ দুই ফ্রন্টে তাদের খেলোয়াড় আছে। বাংলাদেশের রাজনীতি আসলে দু শিবিরে বিভক্ত। একদিকে আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে আওয়ামীলীগবিরোধীরা। তাই এই নির্বাচনকে বলা যায় উভয়লিঙ্গ। এক শিবিরের (পড়ুন লিঙ্গের) লোকজন নিজেরা নিজেরা একেক লিঙ্গের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রমণক্রিয়ায় ব্যস্ত। তারা ভাবছে তাদের রগরগে যৌনদৃশ্য দেখে সারা দুনিয়া পুলকিত হচ্ছে। কিন্তু আদতে যা হচ্ছে, স্রেফ এক রুচিহীন যৌন-বিনোদন। এতে কারো কোন আগ্রহ নেই।



