ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, লুটপাট ও মব ভায়োলেন্স: শতাধিক অভিযোগে বহিষ্কার সায়মন
কার হাতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর? এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধানের নাম
আওয়ামী লীগহীন রাজনীতিতে বিপন্ন নারী স্বাধীনতা: জামায়াতের ঘৃণ্য আস্ফালন ও ‘হ্যাক’ নাটক
৮৫৮ কোটি টাকা টোল আদায়, তবু দেড় বছর ধরে পদ্মা সেতুর কিস্তি ‘বকেয়া’
শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই সুযোগ দিক, আওয়ামী লীগ এক চান্সে জিতে যাবে’—ভাইরাল ভিডিওতে নারীর মন্তব্য
‘জুলাই জাদুঘর’ পরিদর্শন: প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কূটনীতিকদের উপস্থিতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ
শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই সুযোগ দিক, আওয়ামী লীগ এক চান্সে জিতে যাবে’—ভাইরাল ভিডিওতে নারীর মন্তব্য
বোয়িং ডিল ও টার্মিনাল দখল: বশিরের কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটে ধ্বংসের মুখে বিমান
বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পর্ষদ পুনর্গঠন, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে জাপানিদের হঠানো কিংবা ট্রাভেল এজেন্সি আইনের পরিবর্তন—গত কয়েক মাসে দেশের এভিয়েশন খাতে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই যেন একে অপরের সঙ্গে জড়িত। আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও এর নেপথ্যে বড় ধরনের নকশা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি এখন ‘ব্যক্তি স্বার্থের’ কবলে। অভিযোগের তীর সরাসরি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ বশিরউদ্দীনের দিকে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে তিনি কি নিজের ব্যবসায়িক পথ সুগম করছেন? এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল
কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়। বরং এটি একটি পরিকল্পিত চেইন, যার লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল। ‘বাংলা আউটলুক’-এ প্রকাশিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এভিয়েশন খাতের সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার দ্বৈত ভূমিকা (ব্যবসায়ী ও উপদেষ্টা) নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিমানের বহর বাড়াতে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিতে তাড়াহুড়ো এবং বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের স্বার্থ বা বিমানের লাভ-ক্ষতির চেয়ে এখানে ‘কমিশন’ বাণিজ্যের
বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বাজার যাচাই না করেই একপেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে জাপানিদের বিদায়? হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে (থার্ড টার্মিনাল) আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল সরকারের। সে লক্ষ্যে জাপানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রক্রিয়া বাতিলের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, জাপানিদের বাদ দিয়ে দেশীয় একটি অদক্ষ সিন্ডিকেট বা উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই কাজ পাইয়ে দেওয়ার নীলনকশা তৈরি হয়েছে। এতে হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের সেবার মান শুরুতেই হোঁচট খাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। বিমানের বোর্ড ও বেবিচকের ওপর
চাপ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) এবং চেয়ারম্যানশিপে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ ও পেশাদারদের সরিয়ে সেখানে উপদেষ্টার অনুগতদের বসানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, বিমানের যেকোনো কেনাকাটা বা নীতিগত সিদ্ধান্তে যেন কোনো বাধা না আসে। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা থাকলেও তারা এখন মন্ত্রণালয়ের প্রবল চাপের মুখে। বিশেষ করে এয়ারপোর্টের মূল্যবান জমি ও সম্পত্তি লিজিং দেওয়ার ক্ষেত্রে বেবিচককে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আইন বদল ও ব্যক্তিগত ব্যবসা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো ট্রাভেল এজেন্সি আইন পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত এয়ারলাইন্স ব্যবসার পথ সুগম করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপদেষ্টা নিজে একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় তিনি
এমনভাবে নীতি পরিবর্তন করছেন, যাতে ভবিষ্যতে তার নিজস্ব বা বেনামি এয়ারলাইন্স ব্যবসা একচেটিয়া সুবিধা পায়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে নিজের ব্যবসার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করার এমন নজির এভিয়েশন খাতে বিরল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর হতে পারে না। যখন রেগুলেটর নিজেই প্লেয়ার হয়ে যান, তখন সাধারণ যাত্রী বা রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ বোয়িং ডিল থেকে শুরু করে এয়ারপোর্টের মাটি ইজারা দেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে এভিয়েশন খাতটি এখন গভীর সংকটের মুখে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই অপব্যবহার রোধ করা না গেলে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়। বরং এটি একটি পরিকল্পিত চেইন, যার লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল। ‘বাংলা আউটলুক’-এ প্রকাশিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এভিয়েশন খাতের সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার দ্বৈত ভূমিকা (ব্যবসায়ী ও উপদেষ্টা) নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিমানের বহর বাড়াতে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিতে তাড়াহুড়ো এবং বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের স্বার্থ বা বিমানের লাভ-ক্ষতির চেয়ে এখানে ‘কমিশন’ বাণিজ্যের
বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বাজার যাচাই না করেই একপেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে জাপানিদের বিদায়? হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে (থার্ড টার্মিনাল) আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল সরকারের। সে লক্ষ্যে জাপানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রক্রিয়া বাতিলের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, জাপানিদের বাদ দিয়ে দেশীয় একটি অদক্ষ সিন্ডিকেট বা উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই কাজ পাইয়ে দেওয়ার নীলনকশা তৈরি হয়েছে। এতে হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের সেবার মান শুরুতেই হোঁচট খাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। বিমানের বোর্ড ও বেবিচকের ওপর
চাপ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) এবং চেয়ারম্যানশিপে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ ও পেশাদারদের সরিয়ে সেখানে উপদেষ্টার অনুগতদের বসানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, বিমানের যেকোনো কেনাকাটা বা নীতিগত সিদ্ধান্তে যেন কোনো বাধা না আসে। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা থাকলেও তারা এখন মন্ত্রণালয়ের প্রবল চাপের মুখে। বিশেষ করে এয়ারপোর্টের মূল্যবান জমি ও সম্পত্তি লিজিং দেওয়ার ক্ষেত্রে বেবিচককে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আইন বদল ও ব্যক্তিগত ব্যবসা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো ট্রাভেল এজেন্সি আইন পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত এয়ারলাইন্স ব্যবসার পথ সুগম করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপদেষ্টা নিজে একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় তিনি
এমনভাবে নীতি পরিবর্তন করছেন, যাতে ভবিষ্যতে তার নিজস্ব বা বেনামি এয়ারলাইন্স ব্যবসা একচেটিয়া সুবিধা পায়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে নিজের ব্যবসার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করার এমন নজির এভিয়েশন খাতে বিরল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর হতে পারে না। যখন রেগুলেটর নিজেই প্লেয়ার হয়ে যান, তখন সাধারণ যাত্রী বা রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ বোয়িং ডিল থেকে শুরু করে এয়ারপোর্টের মাটি ইজারা দেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে এভিয়েশন খাতটি এখন গভীর সংকটের মুখে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই অপব্যবহার রোধ করা না গেলে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।



