বিএনপির স্মৃতিশক্তি বড় অদ্ভুত, নিজের ঘোষিত সন্ত্রাসীকেই চিনতে পারে না! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬

বিএনপির স্মৃতিশক্তি বড় অদ্ভুত, নিজের ঘোষিত সন্ত্রাসীকেই চিনতে পারে না!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬ |
খোরশেদ আলম রাসু। ঢাকার অপরাধ জগতে যার পরিচিতি “ফ্রিডম রাসু” নামে। ১৯৮৮ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় যার নাম উঠে এসেছিল। হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলার আসামি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার নিজেই যাকে দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় রেখেছিল, ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। সেই রাসু এখন বিএনপির “ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা।” এটা কোনো গল্প না। এটা ২০২৬ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন খান দলীয় প্যাডে চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে রাসুকে গোপালগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই না, যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা এই “শীর্ষ সন্ত্রাসীকে” আইনত

গ্রেপ্তার করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে সেই চিঠিতে। অর্থাৎ আইন মানতে যারা পেশাদারিত্ব দেখিয়েছিলেন, তারাই এখন অপরাধী। আর বাংলাদেশের পুলিশের ওয়েবসাইটে এখনও “ওয়ান্টেড পারসন” হিসেবে নাম থাকা রাসু এখন নির্যাতিত নেতা। একটু পেছনে তাকানো দরকার। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে যে ২৩ জনের তালিকা বানিয়েছিল, সেই তালিকায় রাসুর নাম ছিল। ২০০২ সালে সেই বিএনপি সরকারের আমলেই কারাবন্দি হন তিনি। কারাগারে থেকেও তার চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি বলে তখনকার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে। ২০০৩ সালে মালিবাগে ডিবির দুই কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায়ও তার নাম এসেছিল। প্রায় ২৩ বছর কারাগারে কাটিয়ে বের হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,

তিনি মগবাজার এলাকায় নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এই মানুষটাকেই এখন বিএনপি তার দলীয় পরিচয় দিয়ে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রশ্নটা শুধু বিএনপির নৈতিক অবস্থান নিয়ে না। প্রশ্নটা হলো, এই দেশে একটা রাজনৈতিক দলের প্যাডে চিঠি দিলে কি পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা একজন মানুষ “নির্যাতিত নেতা” হয়ে যায়? যদি তাই হয়, তাহলে রাষ্ট্রের আইন বলে আর কিছু আছে কি? তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাটাও এখানে কম আলোচনার দাবি রাখে না। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের ব্যাপক বয়কটের মধ্যে, কার্যত পাতানো একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে ক্ষমতার সাজসজ্জা হয়েছে, সেই সরকারের আমলে এরকম একটি ঘটনা ঘটছে অথচ

কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া নেই প্রশাসনের তরফ থেকে। কোনাবাড়ি থানার ওসি বলছেন সিদ্ধান্ত নেবেন সিনিয়র কর্মকর্তারা। সহকারী পুলিশ কমিশনার বলছেন তদন্ত শুরু হলে জানানো হবে। এই “দেখা যাবে” সংস্কৃতিটাই আসলে বলে দিচ্ছে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলে দেশে আইনের প্রয়োগ কতটা নমনীয় হয়ে পড়ে। বিএনপির নেতারা যখন বলেন তারা গণতন্ত্র চান, আইনের শাসন চান, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ে এই ঘটনার কথা। নিজেদের সরকারের আমলে যাকে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ঘোষণা করা হয়েছিল, পুরস্কার দিয়ে ধরতে চাওয়া হয়েছিল, সেই মানুষটাকে দলীয় পরিচয়পত্র দিয়ে পুলিশের কাছে সুপারিশ পাঠানোর মধ্যে গণতন্ত্র বা আইনের শাসনের কোন সংজ্ঞাটা মেলে, সেটা বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্যিই কঠিন। রাজনীতিতে সুবিধাবাদ নতুন কিছু না।

দলে দলে অপরাধীরা রাজনৈতিক ছায়া নেয়, এটাও বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের চিত্র। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে, এত প্রকাশ্যে, দলীয় লেটারহেডে সই দিয়ে একজন ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীকে “নির্যাতিত নেতা” বানানোর এই সাহসটা কোথা থেকে আসে? এই সাহস আসে জবাবদিহিতার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি থেকে। এই সাহস আসে এই বিশ্বাস থেকে যে, বিএনপি করলে সত্যিই সাত খুন মাফ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, আটক ২৭ বাংলাদেশি মার্চে কমল মূল্যস্ফীতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ করে সংসদে বিল পাশ স্ত্রীকে ‘পাগল’ সাজাতে জালিয়াতি, আ.লীগ নেতা হাবিবকে গ্রেফতারে পরোয়ানা ২ ডিআইজিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি কেন ইরান যুদ্ধের চরম মূল্য দিচ্ছে ইউরোপ ও এশিয়ার মার্কিন মিত্ররা? তৃতীয় দফায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রিমান্ডে খাদ্য ও ওষুধ সংকটে পড়তে পারে কোটি মানুষ হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরান-ওমান বৈঠক শুরু এবার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা হিরো আলমের চন্দনাইশে অলির বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল: তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের বৈধতা নাকি সংবিধান অকার্যকরের প্রচেষ্টা? বিসিবি পরিচালকদের পদত্যাগের মিছিল, মধ্যরাতে সরে গেলেন আরও দুজন গণভোট না মানলে মোনাফেক হয়ে যাবে, জামায়াত নেতা শিশির মনিরের নয়া ‘ফতোয়া’ মার্কিন গ্রিন কার্ড বাতিল করে কাসেম সোলেইমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার থানায় ঢুকে ৯ পুলিশ সদস্যকে প্রহার, প্রধান আসামিসহ জামায়াতের আরও দুই নেতা গ্রেপ্তার বকেয়া বেতনের দাবিতে নাসা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ মির্জা ফখরুল: কিছু অশুভ শক্তি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের সংকট, জ্বালানির অভাবে সমুদ্রে যেতে পারছে না মাছ ধরার ট্রলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গোপন চুক্তি নেই, তবে কিছু বিষয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না