*নির্বাচনী চাপে দায়িত্ব পালনের ফলে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু: ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যু ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
     ১১:১১ অপরাহ্ণ

*নির্বাচনী চাপে দায়িত্ব পালনের ফলে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যু: ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যু ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:১১ 49 ভিউ
নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস আরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পারিবারিক ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ফেরদৌস আরা গত এক মাস ধরেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি (উইথড্রয়াল) চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করেছিলেন। তবে তাঁর সেই অনুরোধ অগ্রাহ্য করে তাঁকে অপমান করা হয়েছিলো বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অসুস্থতার কারণে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের কাছেও চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে

‘নির্বাচনী দায়িত্ব’ দেখিয়ে তাঁকে কোনো ছুটি দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁকে মাঠপর্যায়ের কাজে সম্পৃক্ত থাকতে বাধ্য করা হয়। সোমবার ফেরদৌস আরার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন তিনি হঠাৎ বমি করার পর অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফেরদৌস আরা বিসিএস (প্রশাসন) ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরে হলেও জন্ম ঢাকায়।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়, ফেরদৌস আরার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত। শোকবার্তায় তাঁকে একজন কর্তব্যপরায়ণ, সৎ, দক্ষ ও সদালাপী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, যাঁকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল বলা হচ্ছে, তাঁকে বাঁচানোর দায়িত্ব কি রাষ্ট্র ঠিকভাবে পালন করেছে? অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে বলেন, “মাথাব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে হার্ট অ্যাটাক হয়।” এদিকে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, অসুস্থ

কর্মকর্তাদের মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, ফেরদৌস আরার মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়—এটি প্রশাসনিক অনমনীয়তা ও অমানবিক সিদ্ধান্তের ফল। সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনকালীন দায়িত্বের নামে চিকিৎসাধীন কর্মকর্তাদের মাঠে নামতে বাধ্য করা প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী। তাঁদের ভাষ্য, এই ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্র এক জন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তাকে হারাল। ফেরদৌস আরাকে আজ কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তাঁর শ্বশুরবাড়িতে দাফন করার কথা রয়েছে। ফেরদৌস আরার মৃত্যু প্রশাসনিক ব্যবস্থার সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন রেখে গিয়েছে। অসুস্থ কর্মকর্তাদের চিকিৎসার অধিকার কি নির্বাচনী চাপের কাছে তুচ্ছ? এই মৃত্যু কি কেবল “কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট”, নাকি প্রশাসনিক অবহেলার পরিণতি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অমীমাংসিত। এই ঘটনার

মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়ে কঠোর ভাষার আরেকটি বক্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম এক মতবিনিময় সভায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে বলেন, “যারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তারা মরার প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন”—এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি করেছে। সমালোচকদের মতে, এমন বক্তব্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর মানসিকতা তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, দায়িত্বের সীমা ও মানবিক বিবেচনা—সবকিছুকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে জনপ্রশাসনের এই নির্মম অবস্থান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রক্তঝরা ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চিরন্তন প্রেরণা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন বৈধতা পেতে শর্ত, ইউনুসের দেশবিরোধী চুক্তি বাস্তবায়ন আবার শুরু হলো বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক কর্মসূচি-চাঁদাবাজি! যাদের কাছে একুশ বিপজ্জনক: যে সংগঠন বায়ান্নেও ছিল না, একাত্তরেও ছিল না হলফনামায় ২ কোটি থাকলেও এক হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান! ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র ভাষা আন্দোলন ছিল না ১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কার্যালয়ে আগুন দেওয়ায় আ’লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ভাষার মাসে ভাষার মিনারে রাজাকারের জয়গান : শহীদ মিনার এখন কার? ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি শেখ মুজিবঃ ছাত্রনেতা থেকে জননেতা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এ বায়ান্নর বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটালাম – শেখ মুজিবের শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘জামায়াতের হাত থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ’: সাংবাদিক নুরুল কবির হলফনামায় সম্পদ ২ কোটি, হাজার কোটি টাকার ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের নামে আলী রীয়াজের বিরুদ্ধে ২৩০০ কোটি টাকা লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগ ড. ইউনূসকে ‘সবচেয়ে বড় রাজাকার’ আখ্যা সাংবাদিক পান্নার, পাঠ্যপুস্তকে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা সরকারের ‘কম্প্রোমাইজ’, থাকতে পারে আমেরিকার চাপ: সাংবাদিক মাহবুব কামাল