‘নাজুক নিরাপত্তা’: ভারতের কড়া সিদ্ধান্ত—পশ্চিমারা কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

‘নাজুক নিরাপত্তা’: ভারতের কড়া সিদ্ধান্ত—পশ্চিমারা কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি প্রচারণা যতটা “স্বাভাবিক” পরিস্থিতির দাবি করুক, বাস্তবতা বরাবরের মতো ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর ও অনিশ্চিত অবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সেই বাস্তবতার সবচেয়ে খাঁটি ও বিব্রতকর প্রতিফলন হলো ভারতের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত — বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার এবং ঢাকাসহ পাঁচটি মিশনকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ। এই ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত নেওয়া হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত, অভ্যন্তরীন সংঘাত বা চরম নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির দেশগুলোতে — যেমন আফগানিস্তান, ইরাক বা ইউক্রেনের মতো পরিস্থিতিতে। আফগানিস্তানে ২০২১ সালে নেটো ও পশ্চিমা দেশগুলো প্লেন, মিলিটারি ও জরুরি অপারেশন চালিয়ে নন-সহায়ক কর্মী এবং তাদের পরিবারগুলোকে দ্রুত

সরিয়েছে; একইভাবে মার্কিন প্রশাসন ২০২২ সালে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের আশঙ্কায় ইউক্রেন থেকে কূটনীতিকদের পরিবার উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এসব দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা হলে একটাই প্রশ্ন উদয় হয় — বাংলাদেশ তো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশও না, কোথা থেকে এই আতঙ্ক? এটি কোনো কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয় — এটি একটি উচ্চস্বরে উচ্চারিত সতর্কবার্তা এবং রাজনৈতিক বিরূপ সংকেত। কেন এমন? কারণ বাস্তবতা আরও কঠিন: ১. রাজনৈতিক “নির্বাচন” নেই, প্রতিযোগিতা নেই: এখানে এখন নির্বাচন আছে, কিন্তু নেই কোনো বাস্তব প্রতিযোগিতা বা আস্থা। ভোটকেন্দ্রগুলোতে গজিয়ে উঠেছে উত্তেজনা ও বিভাজন, যেখানে বিরোধী মতামতকে দমন করে একাধিক কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে — আইন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নামে। সাধারণ নির্বাচন হওয়ার

বদলে এটি এখন একাধিপত্য রক্ষার লড়াই তে পরিণত হয়েছে। ২. সহিংসতার ছাই ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি: শান্তি আছে বলা হলেও, পরিস্থিতি টিকে আছে শুধুই ভয়ের ভারে। উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা, রাজনৈতিক সহিংসতার সম্ভাবনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নিম্নমানের আস্থা — এসব ভারতসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের মূল। ৩. রাজনীতিতে ‘ভারতবিরোধিতা’ একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রচারণায় ভারতবিরোধী মনোভাব জনসমক্ষে প্রকাশ হচ্ছে — এমনকি কূটনীতিকদের নিরাপত্তাকে প্রহসন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি গভীর ভুল। কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক কুটনীতি ও সম্পর্কের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর ক্ষেত্র; এখানে রাজনৈতিক প্রাপ্তি বা শ্লোগানের ব্যবহারে হস্তক্ষেপ করলে ফল যা হবে, আজ তার স্বাক্ষ্য পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে

নির্দেশক সংকেত ভারতের এই পদক্ষেপ শুধু একটি দেশের সিদ্ধান্ত নয়; এটি পশ্চিমা রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বৈশ্বিক মিডিয়ার জন্যও একটি রেফারেন্স পয়েন্ট। বড় কোনো রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবার প্রত্যাহার করে বা ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ করে, তখন সেটি প্রায়শই অনুসরণীয় নির্দেশিকা হয়ে উঠতে পারে। আজ ভারত নিজের কূটনীতিকদের পরিবার সরাচ্ছে — কি কাল ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত করবে? কি জাতিসংঘ বা পশ্চিমা মিত্র দেশ নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা জারি করবে? — যা কল্পনা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা। বাংলাদেশে কি এই প্রথম? সাধারণ ইতিহাসে দেখা যায়, বাংলাদেশে পূর্বে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরহীন — কখনো পূর্বে কোনো বড় রাষ্ট্র এখানে কূটনীতিকদের পরিবার ধারাবাহিকভাবে সরিয়ে নেবার ঘোষণা দেয়নি।

তাই এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি নীতিগত অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার ক্ষয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত। আস্থা ভেঙে যাচ্ছে এর সবচেয়ে বড় অর্থ হলো—রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ক্ষয় পাচ্ছে। যখন জনগণ নিজের সরকারের প্রতি আস্থা হারায়, তখন সে হয় শক্তির প্রয়োগকারী; আর যখন আন্তর্জাতিক সমাজ আস্থা হারায়, তখন সেই রাষ্ট্র একা পড়ে যায়। ভারতের সিদ্ধান্ত সেই একাকীত্বের প্রথম ধাপ হতে পারে। এখনো সময় আছে — বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার। নির্বাচনকে প্রতিযোগিতা নয়, গণতন্ত্র বানানোর। রাষ্ট্রকে দলের ঊর্ধ্বে তোলার। নইলে যা আসছে, তা আর কেবল একটি নির্বাচন নয় — তা হতে পারে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি অধ্যায়, যেখানে পরিবার সরানো নয় — আস্থা সরিয়ে ফেলা হবে সবচেয়ে বড়

ক্ষতি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে ‘অপ্রয়োজনীয়’ রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এখন সংকটে সরকারের শেষ ভরসা বিএনপি সরকারের এক মাসেই আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ: মানবাধিকার ইস্যুতে তারেক রহমানকে কড়া বার্তা ৯ আন্তর্জাতিক সংস্থার মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু: ইতিহাসের আয়নায় আমাদের পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রতীক জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি-বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী ডিজেলের পর এবার এলো ১৬ হাজার মেট্রিক টন ভারতীয় চাল, নামল মোংলায় রমজানে ফলের বাজার থেকে লুট ৭০০–৮০০ কোটি টাকা রাশিয়ার তেল পাইপলাইন ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ জেলেনস্কির ‘যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব’, রিয়ালের বিপক্ষে ফিরতি লেগের আগে গার্দিওলা শিক্ষক রাজনীতি নাকি শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার রাজনীতি একটি বন্দিত্ব: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের অনিবার্যতা তেল সরবরাহে হরমুজ ঝুঁকি: ৩ লাখ টন ক্রুডের চালান নিয়ে তেহরানের দ্বারস্থ ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন চাল চুরির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলা! আওয়ামী লীগ ফিরবেই, তবে পুরনো নাকি নতুন নেতৃত্বে— এটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন”: মাসুদ কামাল সাতক্ষীরায় মন্দিরে চুরি: স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের টাকা লুট, আতঙ্কে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংস্কারের মুখোশে দমন : অবৈধ ইউনূস সরকারের তেলেসমাতি এবার জেলা পরিষদে নেতা-কর্মী বসিয়ে লুটপাটের প্ল্যান তারেকের রাষ্ট্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর জাতীয় সংসদকে রাজু ভাস্কর্য মনে করছে নির্বোধ হাসনাত আবারো সংকটে জাতি, আবারো তিনিই প্রেরণা মব, মিথ্যা মামলা আর কারাগারে মৃত্যু; এটাই কি বিএনপির “নতুন রাজনীতি”?