ধর্ম অবমাননা’র গুজবে সংখ্যালঘু নিধন: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মব জাস্টিসের ভয়াবহ বিস্তার – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

ধর্ম অবমাননা’র গুজবে সংখ্যালঘু নিধন: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মব জাস্টিসের ভয়াবহ বিস্তার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
বাংলাদেশে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ এখন আর নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের একটি পরিকল্পিত ও প্রতিষ্ঠিত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, মব জাস্টিস এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ছকে এই হামলাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ফেসবুক পোস্ট বা গুজবের ওপর ভিত্তি করে মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষ জড়ো করে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ পরবর্তীতে তদন্তে অধিকাংশ অভিযোগই ভুয়া প্রমাণিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাবনার বনগ্রাম থেকে শুরু করে রামু, নাসিরনগর, শাল্লা এবং সর্বশেষ ময়মনসিংহের ভালুকা—প্রতিটি ঘটনায় চিত্রনাট্য প্রায় একই। রামুতে বৌদ্ধ বিহার পোড়ানো হয়েছিল

একটি এডিট করা ছবির অজুহাতে। নাসিরনগরে হামলার কারণ ছিল এমন একটি পোস্ট, যা অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই দেননি। শাল্লায় রাজনৈতিক সমালোচনাকে ‘ধর্ম অবমাননা’ সাজিয়ে গ্রাম লুট করা হয়েছিল। প্রতিটি ঘটনার পর রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তৎপর হলেও মূল অপরাধীদের বিচারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যারা মাইকিং করে, লিফলেট ছেপে হাজারো মানুষ জড়ো করে হামলা চালিয়েছে, তারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। অন্যদিকে, ঝুমন দাসের মতো ভুক্তভোগীদের মাসের পর মাস কারাগারে কাটাতে হয়েছে। এই ‘নির্বাচিত বিচার’ ব্যবস্থায় হামলাকারীরা জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা এবং লাশ গাছে বেঁধে পুড়িয়ে

ফেলার ঘটনাটি মব জাস্টিসের ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য সাক্ষী ছাড়াই ধর্ম অবমাননার ধুয়া তুলে ঠান্ডা মাথায় এই লিঞ্চিং সংঘটিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ‘উন্মত্ত জনতা’র কাজ নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কুমিলল্লা ও পীরগঞ্জের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা এমন নৃশংসতা দেখানোর সাহস পাচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে ইউনুস সরকারের শাসনামলে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রকাশ্য উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা। অভিযোগ উঠছে, প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিকভাবে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। ভোট, মিছিল ও সামাজিক সমর্থনের ক্ষেত্রে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে

নির্দিষ্ট ইসলামী দল বা তাদের সহযোগীদের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের নীরবতাকে ‘পরোক্ষ সম্মতি’ হিসেবে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করছেন, সরকার যদি এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সময়কাল ইতিহাসে ‘সংখ্যালঘু নিধনের অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্র কি আদৌ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী? ধর্ম অবমাননার গুজবে মব সংগঠিত করাকে কেন রাষ্ট্রদ্রোহ বা সন্ত্রাসী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবি, কেবল মৌলবাদী রাজনীতির নির্মূল এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। নিরপেক্ষতার নামে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা সাম্প্রদায়িক শক্তিকেই শক্তিশালী করছে। এই মব জাস্টিস ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে দ্রুত ও

দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঝরল ৩২টি প্রাণ: পাহাড়ধস ও ভাঙা বেড়িবাঁধে বাঁশখালীর এক লাখ মানুষের নির্ঘুম রাত ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত শহিদ মিনারের চারপাশ ঘিরে শৌচাগার নির্মাণ ২৯৭ জনের প্রকল্পে কাজ করেন ৫০ জন, বাকিরা ভুয়া! সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক হরিলুট মব-মামলা-নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামের পানিবন্দী মানুষের মাঝে ছাত্রলীগের খাবার বিতরণ দুর্নীতি ও ব্যর্থতায় জর্জরিত পাকিস্তানি সিটি প্রকল্পকে অনুসরণের পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিংস-অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষের নিজেদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইলেন ফিফার রেফারিং প্রধান ফ্রান্সের শৈল্পিকতা বনাম মরক্কোর দৃঢ়তা তীব্র জ্বালানি সংকটে আরও কয়েকশ কারখানা বন্ধের পথে ৭ বছর আগে কেনা জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা, তদন্তে সরকারি জমি দখলের প্রমাণ মেলেনি চাঁদার দাবিতে জমির মালিককে হত্যার হুমকি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করলেন জামায়াত নেতা ২১ মাস পর জামিন, জেলগেট থেকে আবার গ্রেপ্তার: বাবার জানাজায় যেতে দেওয়া হয়নি ছাত্রলীগ নেতা সজিবকে অর্থনীতিতে এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার বাংলাদেশ এখন উগান্ডা-ঘানারও পেছনে, বৈদেশিক বিনিয়োগে চরম খরা অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এনপিএল খাতে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধার নতুন আবেদনের ২০০টি ভুয়া, ৬০০টির তথ্য বিকৃতিসহ মিলেছে অনিয়ম-অসংগতি ‘ইসলামিক রিপাবলিক অভ জাপান আমাদের ওপর ১১১টি মিসাইল ছুড়েছে’, বললেন ট্রাম্প ১৫ রোগীকে হত্যার দায়ে জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন, আরও হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ন্যাটো সম্মেলনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি কানাডা-ইউরোপের কুষ্টিয়ায় হাসপাতালের ওটি থেকে রোগীর এক পা গায়েব!