অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এনপিএল খাতে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ July, ২০২৬

অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এনপিএল খাতে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ July, ২০২৬ |
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পর বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন–এনপিএল)-এর হার বাংলাদেশে। দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। সার্ক দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ। ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা নিয়ে এতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সর্বশেষ ব্যাংকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৭.৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণের হার নিয়ে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এরপরই ৩২.২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পর রয়েছে চাদ ৩১.৫১ শতাংশ এবং গিনি ৩১.১৫ শতাংশ। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমানো নিয়ে

আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেশনে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়ে ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৬ থেকে ১৫ গুণ বেশি। ভারতে খেলাপি ঋণের হার ২.২ শতাংশ। এ ছাড়া ভুটানে এ হার ৪.৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ৫.৫ শতাংশ, নেপালে ৫.৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৮ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৬.৫ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান বাংলাদেশের

ঋণ শৃঙ্খলা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার গুরুতর অবনতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যাংকার ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়া, নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা এবং কার্যকর আইনি প্রয়োগের অভাবই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। সরকারি এক উপস্থাপনায় দেখা যায়, দেশের ব্যাংক খাতে বর্তমানে মোট ঋণের স্থিতি ১৮ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.২৬ শতাংশ। পুনঃতফসিল করা ঋণ ও স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টস যুক্ত করলে ব্যাংক খাতের ঝুঁকির মাত্রা আরও বেশি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণ স্থিতির প্রায় ৬১

শতাংশ। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকৃত ঋণের বাইরেও ব্যাপক পরিশোধ বা রিপেমেন্ট ঝুঁকির ইঙ্গিত মিলছে। ব্যাংকাররা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ অনুমোদনের কারণে ঋণমান দুর্বল হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতার পরিবর্তে সম্পর্ক ও প্রভাবের ভিত্তিতে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল ও সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের গবেষণাতেও দুর্বল প্রতিষ্ঠান, তথ্যের অসমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে বাংলাদেশে ঋণ পরিবেশের অবনতির বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্পোরেট সুশাসনের দুর্বলতা, হিসাব-নিকাশে কৃত্রিমতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেও নিয়মিত খেলাপিরা সময়মতো ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ঋণ আদায় ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। মূলধন পর্যাপ্ততার দিক থেকেও দেশের ব্যাংক খাত ঋণাত্মক অবস্থানে নেমে গেছে।

২০২৫ সালের শেষে ব্যাংক খাতের মূলধন থেকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের অনুপাত বা সিআরএআর দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে, যা এক বছর আগেও ছিল ৩.০৮ শতাংশ। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তীব্র মূলধন ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। সিআরএআর হলো ব্যাংকের সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সূচক। এতে ব্যাংকের মূলধনকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম সিআরএআর ১২.৫ শতাংশ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাত উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে সিআরএআর ঋণাত্মক হলেও পাকিস্তানের ব্যাংক খাতে এ অনুপাত ২০.৮ শতাংশ। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় সিআরএআর ১৯.৪ শতাংশ এবং ভারতে

১৭.২ শতাংশ, যা এসব দেশের ব্যাংক খাতের তুলনামূলক শক্তিশালী মূলধন অবস্থান ও আর্থিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ১৯টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ খেলাপি ঋণ সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোকে বেশি প্রভিশন রাখতে হচ্ছে, মামলা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে এবং মুনাফা কমছে। এর ফলে উৎপাদনশীল খাতে নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। ব্যাংকের সম্পদের মান খারাপ হতে থাকলে তাদের মূলধনও দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয় এবং শেষ

পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ যখন ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে, তখন শক্তিশালী সুশাসন ও নিয়ন্ত্রক তদারকির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উন্নত অর্থনীতি খেলাপি ঋণের হার অত্যন্ত কম রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণের হার তাইওয়ানে, মাত্র ০.১ শতাংশ। এরপর বেলজিয়াম, সুইডেন ও এস্তোনিয়ায় এ হার ০.৩ শতাংশ করে। নরওয়েতে খেলাপি ঋণের হার ০.৪ শতাংশ এবং কানাডায় ০.৭ শতাংশ। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী তদারকি, বিচক্ষণ ঋণমানদণ্ড এবং কার্যকর আইনি কাঠামো থাকলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—এসব দেশের অভিজ্ঞতা অন্তত সেটিই ইঙ্গিত করে। এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা ধারাবাহিকভাবে মূলধন সুরক্ষিত রেখে তাদের ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, “এর সম্পূর্ণ বিপরীতে বাংলাদেশে বড় ধরনের বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশী অর্থনীতিগুলো কঠোর সামষ্টিক বিচক্ষণতামূলক শৃঙ্খলার মাধ্যমে তাদের ব্যাংক খাতকে সুরক্ষা দিয়েছে; আর আমাদের ব্যাংক খাত বারবার কর্পোরেট ও ঋণজনিত ধাক্কার চাপ বহন করে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, “ঋণাত্মক সিআরএআর স্পষ্টভাবে দেখায়, নিয়ন্ত্রণহীন খেলাপি ঋণ এবং ধারাবাহিক প্রভিশন ঘাটতি পুরো ব্যাংক খাতের মূলধন ভিত্তি ক্ষয় করেছে। এ অবস্থায় সাময়িক ছাড় নয়, অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।” বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, “২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা শুরু করেছে। ঋণ শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে বকেয়া থাকার সময়সীমা ছয় মাস থেকে কমিয়ে তিন মাস করায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।” “এ ছাড়া ২০২৫ সালের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চালু করা পুনঃতফসিল সুবিধাও অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেছে,” বলেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ১৮ মাসের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিদ্যমান নিয়মভিত্তিক প্রভিশনিং ব্যবস্থা থেকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ডের আওতায় এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস বা সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতি কাঠামোয় রূপান্তর। ২০২৭ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস হলো সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতি আগাম হিসাব করার একটি উন্নত পদ্ধতি। প্রচলিত ইনকার্ড লস মডেলে ক্ষতি কেবল সংঘটিত হওয়ার পরই হিসাব করা হয়। সংস্কারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরকার ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে নতুন ঋণ আদালত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের লক্ষ্যে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বা দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়নের প্রস্তুতিও চলছে। গভর্নর বলেন, “শেষ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে তাদের ব্যালান্স শিটে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ধরে রাখার পরিবর্তে এর একটি অংশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হবে।” তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বারবার ঋণ পুনঃতফসিলের প্রবণতা ঠেকাতে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের