ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের
সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি
জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও
তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয়
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল
‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য
তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতা’ নামের মুখোশ
বাংলাদেশে ‘নিরপেক্ষতা’র নামে যেসব মিথ্যাচার চলে, তা আমাদের জাতিগত লজ্জা। পৃথিবীর আর কোথাও একটি জাতির স্থপতির সঙ্গে একজন সামরিক শাসকের তুলনা হয় না। কিংবা স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসনকারী এবং প্রতিপক্ষ দলের শীর্ষনেতার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো কোনো দলের তুলনা চলে কি না, তা-ও জানি না।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন রাজনৈতিক নেতা। পৃথিবীর কোনো নেতাই নিজেকে শুদ্ধ ও নির্ভুল বলে দাবি করেন না, বঙ্গবন্ধুও করেননি। তাঁর যাবতীয় ভুল ও ব্যর্থতা মেনে নিয়েই স্বীকার করা যায় যে তিনিই এই জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি। কিন্তু আমাদের নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরা সেটা করেন না, কারণ এতে নাকি নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়। তো নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে তাঁরা বলেন,
“বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান দুজনই মহান নেতা, মুক্তিযুদ্ধে দুজনেরই অবদান আছে।” তারপর ‘যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু দেশে ছিলেন না!’—এ কথাটিও যুক্ত করতে ভোলেন না। এসব বুদ্ধিজীবী ভালো করেই জানেন যে তাঁরা মিথ্যাচার করছেন, অসততা করছেন। কিন্তু ওই যে, নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য তাঁদের এসব বলতেই হয়। যেমন ভারতের প্রসঙ্গ এলে তাঁরা বলেন, “ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই তো আমাদের ক্ষতি করেছে!” ভারত আমাদের পানির হিস্যা বুঝিয়ে দেয় না, সীমান্তে মানুষ হত্যা করে—সত্য; কিন্তু সেটাকে তাঁরা পাকিস্তানের গণহত্যা, গণহারে ধর্ষণ, সম্পদের সীমাহীন লুটপাট আর বিলিয়ন ডলারের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার সমকক্ষ বানিয়ে ফেলেন। এই অসৎ নিরপেক্ষতা আমাদের মধ্যে এতটা পোক্ত কেন? এর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হওয়া
দরকার। ধরুন, হাজার হাজার বছর ধরে নারীজাতির ওপর পুরুষ যে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অবিচার চালিয়েছে—কোনো একজন নারীর অসততা দিয়েই তা জাস্টিফাই করে ফেলা যায়। বলা হয়, ‘নারীরাও কম যায় না, তাদেরও দোষ আছে!’ হ্যাঁ, মানুষমাত্রই দোষ-গুণের মিশ্রণ; কিন্তু ওরা কীসের সঙ্গে কী মেলায়, ভাই! আসলে তাদেরকে এসব মেলাতেই হয়। না মেলালে যে নিরপেক্ষতা রক্ষা করা যায় না। যেমন ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের বেলায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সবার আগে খোঁজ নেওয়া হয়, ‘মেয়েটির পরনে কী ছিল!’ পোশাক যাই থাকুক, ওরা ঠিকই হিসাব মিলিয়ে দেবে। বলবে, “মেয়েটার একা বের হওয়া ঠিক হয়নি।” কথা সত্য, মেয়েটার উচিত ছিল সঙ্গে করে কয়েকজন ধর্ষক নিয়ে বের
হওয়া। তারপর ধরুন ‘শাপলা-শাহবাগ’ শব্দবন্ধটি। এই দুটি বিষয় একই বন্ধনীতে আসে কী করে? শাহবাগে মানুষ জড়ো হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে—এ তো মূলত মুক্তিযুদ্ধেরই পরম্পরা। আর শাপলা চত্বরে কী হয়েছিল? তারা সেখানে বলল, শাহবাগে নাকি ধর্ম অবমাননা হয়েছে, সুতরাং ওদের ফাঁসি দাও! তারপর ঢাকার মতিঝিলকে পরিণত করলো একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে। অথচ শাহবাগে হাজার হাজার মানুষের টানা সতেরো দিনের অবস্থানে কোথাও একটা ঢিলও ছোঁড়া হয়নি। গোলাম আযম কয়েকশো গজ দূরে পিজি হাসপাতালে শুয়ে ছিলেন, কেউ সেখানে গিয়ে হাঙ্গামা করেনি। বুয়েটের ছাত্র, মঞ্চের কর্মী দীপকে হত্যা করা হয়েছিল, তবু পাল্টা প্রতিশোধের কথা কেউ ভাবেনি। এর পরও আমাদের বুদ্ধিজীবীরা ‘শাপলা বনাম শাহবাগ’ নামের একটা
অদ্ভুত উত্তেজক বড়ি গিলেই চলেছেন। কেন? কারণ তাঁদের তো নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এ এক অসুস্থ নিরপেক্ষতা, যেখানে মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারের মাঝে নিরপেক্ষ হতে হয়, ধর্ষক আর ধর্ষণের শিকারের মাঝে নিরপেক্ষ হতে হয়, নিরপেক্ষ হতে হয় শাহবাগ আর জঙ্গিবাদের মাঝেও। বাংলাদেশে এরপর যদি কখনো আবার বিপ্লব হয়, এই শ্রেণি তখন উপস্থিত থাকবে সেই পুরোনো দাঁড়িপাল্লা হাতে, অপরাধী আর শিকারকে এক পাল্লায় মেপে নিরপেক্ষ সাজতে। সেদিন এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে নিয়ে বিপ্লবের প্রকল্প কী দাঁড়াবে, তা এখনই ঠিক করা দরকার। নইলে এ দেশের বিশেষ কোনো পরিবর্তন আর কখনোই হবে না।
“বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান দুজনই মহান নেতা, মুক্তিযুদ্ধে দুজনেরই অবদান আছে।” তারপর ‘যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু দেশে ছিলেন না!’—এ কথাটিও যুক্ত করতে ভোলেন না। এসব বুদ্ধিজীবী ভালো করেই জানেন যে তাঁরা মিথ্যাচার করছেন, অসততা করছেন। কিন্তু ওই যে, নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য তাঁদের এসব বলতেই হয়। যেমন ভারতের প্রসঙ্গ এলে তাঁরা বলেন, “ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই তো আমাদের ক্ষতি করেছে!” ভারত আমাদের পানির হিস্যা বুঝিয়ে দেয় না, সীমান্তে মানুষ হত্যা করে—সত্য; কিন্তু সেটাকে তাঁরা পাকিস্তানের গণহত্যা, গণহারে ধর্ষণ, সম্পদের সীমাহীন লুটপাট আর বিলিয়ন ডলারের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার সমকক্ষ বানিয়ে ফেলেন। এই অসৎ নিরপেক্ষতা আমাদের মধ্যে এতটা পোক্ত কেন? এর নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হওয়া
দরকার। ধরুন, হাজার হাজার বছর ধরে নারীজাতির ওপর পুরুষ যে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অবিচার চালিয়েছে—কোনো একজন নারীর অসততা দিয়েই তা জাস্টিফাই করে ফেলা যায়। বলা হয়, ‘নারীরাও কম যায় না, তাদেরও দোষ আছে!’ হ্যাঁ, মানুষমাত্রই দোষ-গুণের মিশ্রণ; কিন্তু ওরা কীসের সঙ্গে কী মেলায়, ভাই! আসলে তাদেরকে এসব মেলাতেই হয়। না মেলালে যে নিরপেক্ষতা রক্ষা করা যায় না। যেমন ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের বেলায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সবার আগে খোঁজ নেওয়া হয়, ‘মেয়েটির পরনে কী ছিল!’ পোশাক যাই থাকুক, ওরা ঠিকই হিসাব মিলিয়ে দেবে। বলবে, “মেয়েটার একা বের হওয়া ঠিক হয়নি।” কথা সত্য, মেয়েটার উচিত ছিল সঙ্গে করে কয়েকজন ধর্ষক নিয়ে বের
হওয়া। তারপর ধরুন ‘শাপলা-শাহবাগ’ শব্দবন্ধটি। এই দুটি বিষয় একই বন্ধনীতে আসে কী করে? শাহবাগে মানুষ জড়ো হয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে—এ তো মূলত মুক্তিযুদ্ধেরই পরম্পরা। আর শাপলা চত্বরে কী হয়েছিল? তারা সেখানে বলল, শাহবাগে নাকি ধর্ম অবমাননা হয়েছে, সুতরাং ওদের ফাঁসি দাও! তারপর ঢাকার মতিঝিলকে পরিণত করলো একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে। অথচ শাহবাগে হাজার হাজার মানুষের টানা সতেরো দিনের অবস্থানে কোথাও একটা ঢিলও ছোঁড়া হয়নি। গোলাম আযম কয়েকশো গজ দূরে পিজি হাসপাতালে শুয়ে ছিলেন, কেউ সেখানে গিয়ে হাঙ্গামা করেনি। বুয়েটের ছাত্র, মঞ্চের কর্মী দীপকে হত্যা করা হয়েছিল, তবু পাল্টা প্রতিশোধের কথা কেউ ভাবেনি। এর পরও আমাদের বুদ্ধিজীবীরা ‘শাপলা বনাম শাহবাগ’ নামের একটা
অদ্ভুত উত্তেজক বড়ি গিলেই চলেছেন। কেন? কারণ তাঁদের তো নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এ এক অসুস্থ নিরপেক্ষতা, যেখানে মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারের মাঝে নিরপেক্ষ হতে হয়, ধর্ষক আর ধর্ষণের শিকারের মাঝে নিরপেক্ষ হতে হয়, নিরপেক্ষ হতে হয় শাহবাগ আর জঙ্গিবাদের মাঝেও। বাংলাদেশে এরপর যদি কখনো আবার বিপ্লব হয়, এই শ্রেণি তখন উপস্থিত থাকবে সেই পুরোনো দাঁড়িপাল্লা হাতে, অপরাধী আর শিকারকে এক পাল্লায় মেপে নিরপেক্ষ সাজতে। সেদিন এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে নিয়ে বিপ্লবের প্রকল্প কী দাঁড়াবে, তা এখনই ঠিক করা দরকার। নইলে এ দেশের বিশেষ কোনো পরিবর্তন আর কখনোই হবে না।



