ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজির টাকা ফেরত চায়, চাঁদাবাজকে এসএসএফ প্রটোকল কেন? প্রশ্নের মুখে তারেক রহমান
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কামরুল হাসান রিপন: ‘মব’ হামলায় রক্তাক্ত পরিবারের সামনেই পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ
স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতি এক বাঙালি নারীর বজ্রকণ্ঠী হুঙ্কার: ‘চোখ উপড়ে পাকিস্তানে পাঠাবো!’
জুলাই ষড়যন্ত্রের অভিশাপ: ধসে পড়ছে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গার্মেন্টস শিল্প
গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভোট?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম পদাতিক ডিভিশনের রামু সদরদপ্তরে মার্কিন অটিজম বিশেষজ্ঞদের ‘রহস্যজনক’ সফর
মা আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইলে এখনও ক্ষমতায় থাকতেন: সজীব ওয়াজেদ জয়
ঢাকায় ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান: সেনাবাহিনীতে ‘ইসলামীকরণ’ ও আইন লঙ্ঘন নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ ঢাকার পূর্বাচল এলাকার জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’ (AIII)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে সেনাবাহিনীর ধর্মনিরপেক্ষ অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এটি সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ইসলামীকরণ’ প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার লঙ্ঘন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল জামান সেনা সদর দপ্তর এবং লজিস্টিকস এরিয়ার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে হাত তুলে মোনাজাত করেন। জানা গেছে, আগামী জুলাই মাস থেকে জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসে এই ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া চট্টগ্রামে আরেকটি এআইআইআই (AIII) ভবন নির্মাণের কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর
অন্যান্য ফরমেশন এলাকাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগটি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি প্রয়াস, যেখানে আধুনিক একাডেমিক পাঠ্যক্রমের সাথে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হবে। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতিরক্ষা বিষয়ক একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেনাবাহিনীতে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় আচার পালন ‘ম্যানুয়াল অফ বাংলাদেশ মিলিটারি ল’, ‘আর্মি রুলস (রেগুলেশন)’ এবং ‘আর্মি রুলস (ইনস্ট্রাকশনস)’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সামরিক বিধিমালার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর বিষয়—রাজনীতি, নারী এবং ধর্মের প্রকাশ্য চর্চা—সাধারণত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং এর ব্যত্যয় ঘটালে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক আইন উপেক্ষা করে সেনাপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই কর্মকাণ্ড
সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশ্নে বড় ধরনের আঘাত। বিশ্লেষকদের মতে, সত্তরের দশকের শেষর দিকে জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের শাসনামলে বৈধতা অর্জনের জন্য সেনাবাহিনীতে ধর্মের ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তীতে কোচিং সেন্টার ও আদর্শিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর মতো গোষ্ঠীগুলো সশস্ত্র বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করে এবং এটিকে একটি ‘ইসলামি মডেলে’ রূপান্তরের চেষ্টা চালায়। জেনারেল জামানের এই পদক্ষেপকে সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই চূড়ান্ত রূপ হিসেবে দেখছেন বাহিনীর ধর্মনিরপেক্ষ অংশের সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা-ভিত্তিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর তথাকথিত পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাকে কেবল ক্ষুণ্ণই করবে না, বরং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে থাকলে তা বহির্বিশ্বের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্কে
ফাটল ধরাতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের (Rank and file) মধ্যে ধর্মীয় প্রভাব ও উগ্রবাদকে আরও উসকে দিতে পারে, যা একটি পেশাদার সামরিক বাহিনীর জন্য অশনিসংকেত।
অন্যান্য ফরমেশন এলাকাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগটি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি প্রয়াস, যেখানে আধুনিক একাডেমিক পাঠ্যক্রমের সাথে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হবে। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতিরক্ষা বিষয়ক একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেনাবাহিনীতে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় আচার পালন ‘ম্যানুয়াল অফ বাংলাদেশ মিলিটারি ল’, ‘আর্মি রুলস (রেগুলেশন)’ এবং ‘আর্মি রুলস (ইনস্ট্রাকশনস)’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সামরিক বিধিমালার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর বিষয়—রাজনীতি, নারী এবং ধর্মের প্রকাশ্য চর্চা—সাধারণত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং এর ব্যত্যয় ঘটালে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক আইন উপেক্ষা করে সেনাপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই কর্মকাণ্ড
সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশ্নে বড় ধরনের আঘাত। বিশ্লেষকদের মতে, সত্তরের দশকের শেষর দিকে জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের শাসনামলে বৈধতা অর্জনের জন্য সেনাবাহিনীতে ধর্মের ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তীতে কোচিং সেন্টার ও আদর্শিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর মতো গোষ্ঠীগুলো সশস্ত্র বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করে এবং এটিকে একটি ‘ইসলামি মডেলে’ রূপান্তরের চেষ্টা চালায়। জেনারেল জামানের এই পদক্ষেপকে সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই চূড়ান্ত রূপ হিসেবে দেখছেন বাহিনীর ধর্মনিরপেক্ষ অংশের সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা-ভিত্তিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর তথাকথিত পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাকে কেবল ক্ষুণ্ণই করবে না, বরং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে থাকলে তা বহির্বিশ্বের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্কে
ফাটল ধরাতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের (Rank and file) মধ্যে ধর্মীয় প্রভাব ও উগ্রবাদকে আরও উসকে দিতে পারে, যা একটি পেশাদার সামরিক বাহিনীর জন্য অশনিসংকেত।



