জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে ইউনুসের সংস্কারের ফাঁপা বুলি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
     ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে ইউনুসের সংস্কারের ফাঁপা বুলি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০:৩৭ 10 ভিউ
২০২৪ সালের জুলাইয়ে যা ঘটেছিল, তাকে গণঅভ্যুত্থান বলে চালিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, সেটা ইতিহাসের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণা। একটি নির্বাচিত সরকারকে সশস্ত্র সহিংসতা, পরিকল্পিত দাঙ্গা আর বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে উৎখাত করে যে অবৈধ কাঠামো বসানো হয়েছে, তার শীর্ষে বসে আছেন একজন সুদী মহাজন, যার ব্যবসা হলো দরিদ্রদের শোষণ করা আর রাজনীতি হলো মিথ্যা দিয়ে নিজের ভাবমূর্তি তৈরি করা। মুহাম্মদ ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল বিশ্বজুড়ে সমালোচিত, কিন্তু বাংলাদেশে তাকে মহান সংস্কারক হিসেবে হাজির করার এই নাটক দেখতে দেখতে এখন ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। গুম নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক বক্তৃতা বেশি। কোনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো গুমকে নীতি

হিসেবে স্বীকার করেনি, আর করবেও না। কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগকে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেওয়া মানে বিশ্লেষণের নামে অতিরঞ্জন করা। কিন্তু এই অতিরঞ্জন তো আসলে রাজনৈতিক হাতিয়ার। আওয়ামী লীগকে বদনাম করার জন্য যে কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্যের মতো পরিবেশন করা হচ্ছে। অথচ ইউনুস নিজে যখন ক্ষমতায় এসেছেন সামরিক বাহিনীর সহায়তায়, জঙ্গি সংগঠনগুলোর মদদে আর বিদেশি শক্তির মদতে, তখন সেই বৈধতার প্রশ্ন কে তুলছে? জুলাই মাসে সারাদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছিল, তাতে পুলিশ হত্যা করা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু সেসব নিয়ে কোনো কথা নেই। কারণ সেই দাঙ্গার ফসল হিসেবে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা নিজেদের নৈতিক

শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করছেন। বিদেশি টাকায় পরিচালিত এনজিও আর কিছু আন্তর্জাতিক লবির সমর্থন নিয়ে ইউনুস যে সরকার গঠন করেছেন, তার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। এটা সাংবিধানিক শূন্যতায় তৈরি একটা কাঠামো, যেখানে জবাবদিহিতার কোনো ব্যবস্থা নেই। গুম নিয়ে প্রকৃত ন্যায়বিচার চাইলে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা আর দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি। কিন্তু যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কীভাবে আইনের শাসনের কথা বলবে? ইউনুসের এই অ-সরকারের আমলে গত ষোলো মাসে যতগুলো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, একটিও পূরণ হয়নি। সংস্কারের নামে যে কমিশন বসানো হয়েছে, সেগুলো কাগজে-কলমে চলছে। কিন্তু বাস্তবে দেশের অর্থনীতি ধসে যাচ্ছে, মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে, বিনিয়োগ থমকে আছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। মিথ্যা বলতে

বলতে ইউনুস এখন মিথ্যার এক জীবন্ত প্রতীক। নোবেল পুরস্কার তার ঢাল, আন্তর্জাতিক সংযোগ তার তলোয়ার। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে তিনি একজন সুদখোর মহাজন, যিনি দরিদ্র মহিলাদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা আদায় করে নিজের সাম্রাজ্য গড়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল নিয়ে বিশ্বজুড়ে যেসব সমালোচনা এসেছে, সেগুলো ইউনুস কখনো জবাব দেননি। বরং পশ্চিমা গণমাধ্যম আর রাজনৈতিক মহলের সমর্থনে তিনি নিজেকে একজন সমাজসেবক হিসেবে জাহির করে গেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষুদ্র ঋণের নামে তিনি যা করেছেন, তা আসলে আর্থিক শোষণের এক আধুনিক সংস্করণ। এখন যারা বলছেন গুম সংস্কৃতি ছিল, তারা নিজেরাই বন্দুকের নলের ওপর ভর করে ক্ষমতায় বসে আছেন। সামরিক বাহিনীর সমর্থন ছাড়া ইউনুস

একদিনও টিকে থাকতে পারতেন না। জঙ্গি সংগঠনগুলোর মদদ নিয়ে যখন দাঙ্গা ঘটানো হয়েছিল, তখন ইউনুস কোথায় ছিলেন? তিনি নীরব ছিলেন। কারণ সেই হত্যা আর ধ্বংসের ওপরই তার ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা এসেছিল কেন? কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন করতে চেয়েছিল তারা। আর সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নকারী হিসেবে ইউনুসকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছে, গুম নীতি ছিল। তাহলে সেই নীতির লিখিত প্রমাণ কোথায়? সরকারি নির্দেশনা কোথায়? বিচারিক স্বীকৃতি কোথায়? শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয় না। কিন্তু ইউনুসের অবৈধ শাসন যে প্রমাণ, তা তো দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, কোনো সাংবিধানিক বৈধতা

নেই, কোনো জনগণের সমর্থন নেই। তবু তিনি বসে আছেন, কারণ বন্দুক তার পিছনে আছে, বিদেশি লবি তার পক্ষে আছে। ইউনুসের শাসনকাল হয়ে উঠেছে মিথ্যার মহোৎসব। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু একটিও পূরণ হচ্ছে না। সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সংস্কার হচ্ছে না। মানবাধিকারের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু জুলাইয়ে যারা নিহত হয়েছিল, তাদের বিচার হচ্ছে না। যেসব পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, তাদের পরিবারের কোনো খবর নেই। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচার নেই। কিন্তু গুম নিয়ে বক্তৃতা দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন। আসল সত্য হলো, ইউনুসের অ-সরকার একটি অবৈধ কাঠামো, যা তৈরি হয়েছে রক্তের ওপর, মিথ্যার ওপর, ষড়যন্ত্রের ওপর। এই সরকারের কোনো নৈতিক

ভিত্তি নেই। তাই গুম নিয়ে বক্তৃতা দেওয়া আসলে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা। যে সরকার নিজেই বৈধতাহীন, সে কীভাবে আইনের শাসনের কথা বলবে? যে নেতা নিজেই জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসেছেন, তিনি কীভাবে গণতন্ত্রের কথা বলবেন? ইউনুস তার পুরো জীবন কাটিয়েছেন মিথ্যা ভাবমূর্তি তৈরি করে। এখন সেই মিথ্যা দিয়েই তিনি দেশ চালাতে চাইছেন। কিন্তু মিথ্যা কতদিন টিকবে? ইতিহাস সাক্ষী, অবৈধ ক্ষমতা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ইউনুসের এই শাসন একদিন শেষ হবে, তার মিথ্যাচার একদিন উন্মোচিত হবে। কিন্তু ততদিনে দেশের কতটা ক্ষতি হয়ে যাবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আমার মা বিক্ষোভকারীদের হত্যায় রাজি হলে এখনো ক্ষমতায় থাকতেন: সজীব ওয়াজেদ জামায়াতকে ভোটে জেতানোর মার্কিন কূটচাল ফাঁস বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা ইউনুসের দুর্নিবার লোভ ও অব্যবস্থাপনায় রমজানে শুরু হচ্ছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট নামসর্বস্ব নির্বাচনের নাটকে কোটিপতি ক্লাব: ইউনুসের অবৈধ শাসনের স্বরূপ ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ করো, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেবাংলাদেশের অধিকার চাই সীমান্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি, ঢাকায় ইউনুসের নাকে তেল দিয়ে ঘুম! জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে ইউনুসের সংস্কারের ফাঁপা বুলি আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: অতীতের প্রথা ভেঙে আগামীকাল সেনাসদরে যাচ্ছেন ড. ইউনূস ভারতে থেকেও ‘দেশে অপরাধ’: মিথ্যে মামলার বলি সাদ্দামের পরিবার গ্রাম থেকে শহর আজ সংখ্যালঘুদের ভোট দিতে বলা হচ্ছে না, ভয় দেখিয়ে হাজির করানো হচ্ছে দখলদার ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বাংলাদেশ কার্যত এক শূন্য নিরাপত্তার রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সার্বভৌমত্বের সংকটে যখন র‍্যাবকে পালিয়ে আসতে হয় : যেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মাফিয়া বেশি ক্ষমতাবান, সেখানে সংস্কারের গল্প শোনান ইউনুস *ঢাকা বিমানবন্দরে চীনা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী–পর্যটকদের ন্যক্কারজনক হয়রানি* মরে গেলে সবাই আফসোস করে, কিন্তু বেঁচে থাকতে কেউ দেখে না”: চার মাস ধরে জেলবন্দি স্বামীর চিন্তায় ও অনাহারে এক স্ত্রীর হাহাকার আবেদন করা হয়নি’ বলে অপপ্রচার আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, তাই নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন’: মেজর হাফিজ কারাগারে নেতা, কবরে স্ত্রী–সন্তান ভোটের জন্য আদর্শ বিসর্জন ইউনুসের অপশাসনে দেশ, আইনের শাসনের বদলে মববাজির রাজত্ব