জাহেলি যুগে আরবের দীর্ঘতম যুদ্ধ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
     ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ

জাহেলি যুগে আরবের দীর্ঘতম যুদ্ধ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | ৯:৫৪ 115 ভিউ
ইসলাম আবির্ভাবের আগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। ক্ষুদ্র কোনো ঘটনা কেন্দ্র করেও বেধে যেত দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। জাহেলি আরবের এমন একটি যুদ্ধের নাম ‘বাসুস যুদ্ধ’। ইসলাম-পূর্ব যুগে সংঘটিত এ যুদ্ধ ছিল আরব গোত্রগুলোর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম ও ভয়াবহ সংঘাত, যা টানা ৪০ বছর ধরে চলে। এ যুদ্ধ মূলত সংঘটিত হয়েছিল বকর গোত্র ও তাগলিব ইবনে রাবিআহ গোত্রের মধ্যে। যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে তাগলিব গোত্রের প্রধান কুলাইব ইবনে রাবিআহকে কেন্দ্র করে। কুলাইব ছিলেন প্রভাবশালী ও মর্যাদাবান শাসক। তার স্ত্রী ছিলেন জালিলা বিনতে মুররাহ, যার বংশধারা বকর গোত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একদিন কুলাইব স্ত্রী জলিলাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আরবদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে,

যার মর্যাদা আমার চেয়ে বেশি?’ জলিলা অকপটে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, আমার ভাই জাসসাস ও হাম্মাম।’ স্ত্রীর এ জবাবে কুলাইব প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। ক্রোধে তিনি ধনুক হাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং দেখতে পান যে, বাসুসের একটি উট তার নিষিদ্ধ জমিতে চরছে। হঠাৎ তিনি উটটিকে হত্যা করেন। উট হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাসুস ক্ষুব্ধ ও শোকাহত হয়ে তার ভাগ্নে জাসসাস ইবনে মুরাহর কাছে ধরনা দেন। তিনি জাসসাসকে প্রতিশোধ নিতে অনুরোধ করেন। জাসসাসও প্রতিশ্রুতি দেন, ‘আমি উটের বাচ্চা নয়, উটের চেয়েও বড় কিছু হত্যা করব।’ অতঃপর জাসসাস তার সঙ্গী আমর মুজদালিফকে নিয়ে কুলাইবের সামনে হাজির হন। প্রথমে তিনি কুলাইবকে বাসুসের উট হত্যার জন্য ভর্ৎসনা

করেন। কিন্তু কুলাইব নীরব থাকেন। একপর্যায়ে জাসসাস বর্শা হাতে আক্রমণ করে কুলাইবকে হত্যা করে বসে। এই হত্যাকাণ্ড দুই গোত্রের মধ্যে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা করে। এ যুদ্ধ ইতিহাসে ‘বাসুস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত হয়। কারণ, বাসুস বিনতে মানকার ছিলেন জাসসাসের খালা, যিনি তার ক্রন্দন, আহাজারি ও কবিতার মাধ্যমে প্রতিশোধের দাবিকে আরও উসকে দিয়েছিলেন। বলা হয়, তার আর্তনাদ ও অভিশাপই গোত্রদ্বয়ের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যা পরবর্তী চার দশক ধরে নেভেনি। কুলাইব হত্যার পর বকর ও তাগলিব গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। ৪০ বছর ধরে এ দুই শক্তিশালী গোত্র একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এ সময়ে দফায় দফায় ছয়টি বড় যুদ্ধ

সংঘটিত হয়। এসব দীর্ঘ যুদ্ধ অসংখ্য প্রাণহানি, ধ্বংস ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনে। গোত্রদ্বয়ের মধ্যে প্রতিশোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটাই গভীর হয়েছিল যে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর ক্ষত বহন করেছে। অবশেষে হালাক আল-লামার নামে পরিচিত চূড়ান্ত যুদ্ধের পর হিরার রাজা মুন্দির ইবনে মাআসসামারের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, এ মীমাংসায় মধ্যস্থতা করেছিলেন হারিস ইবনে আমর কিন্দি। এভাবেই আরব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটে। বাসুস যুদ্ধ গোটা আরব সমাজে প্রতিশোধের সংস্কৃতি ও গোত্রীয় মর্যাদাবোধের ভয়াবহতা তুলে ধরে। একটি উট হত্যার মতো তুচ্ছ ঘটনা কীভাবে চার দশকের রক্তপাত ডেকে আনতে পারে, তারই শিক্ষণীয় উদাহরণ। ইতিহাসের এ

অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিহিংসা ও গোঁড়ামি সমাজে শুধু ধ্বংসই বয়ে আনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
usbangla24.news সম্পাদকের জন্মদিনের শুভেচ্ছা ইরান নতি স্বীকার নয়, যুদ্ধই বেছে নেবে! ইউরোপজুড়ে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে রাশিয়া শুনেছি আমি আর নেই : আহসান এইচ মনসুর যুক্তরাষ্ট্রে ছুরিকাঘাতে ৪ জন নিহত ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম “এ দেশে যতদিন একটা বাঙালি থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে” Bangladesh Economy Then vs Now – Stability Under Awami League vs Fiscal Strain Today বিএনপির শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে যেভাবে চলেছে ভোট চুরির মহোৎসব আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত আদালতের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদ সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিনম্র চিত্তে স্মরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আদালত দখলের রাজনীতি! এজলাসে ভাঙচুর অফিসিয়ালি বিএনপির চাঁদাবাজি যুগের সূচনা চাঁদাবাজির নতুন নাম “সমঝোতা” ইউনূস-জাহাঙ্গীরের জোর করে দেয়া সেই ইউনিফর্ম পরতে চায় না পুলিশ ইউনূস আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি-চাঁদাবাজির হিসাব সামনে আনল ডিসিসিআই রাষ্ট্রপতির বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন ইউনূস Unattended Ballot Boxes: New Questions in Bangladesh’s 2026 Vote টিসিবির ট্রাকের পিছে ছুটছে বাংলাদেশ সংসদের বৈধতার প্রশ্ন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বলে ছোট করতে চাইলে তারা মীর জাফর: ভাইরাল ভিডিওতে তরুণের মন্তব্য