চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬
     ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ

আরও খবর

৩৪টা সইয়ে বন্দী একটা গ্রাম : হালাল মাইক, হারাম সাউন্ডবক্স

বাংলাদেশে আবার ফিরে আসছে সাম্প্রদায়িক হামলার – টার্গেট আবার পুরোহিত ও হিন্দুদের পূজা আর্চনা

বনমোরগ উদ্ধারের পর বনে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত করলেন বন কর্মকর্তা, খেয়ে ফেলার অভিযোগ

স্ত্রীকে দামি জুতা কিনে দিতে না পারা যুবকের আত্মহননের চেষ্টার ভুয়া গল্প অন্তর্জালে, প্রকৃত ঘটনা যা জানা গেল

সমন্বয়ক জিনিয়ার ‘অন্ধকার জগৎ’: তরুণীদের নেশা করিয়ে পাঠানো হতো পুলিশ কর্মকর্তার কাছে!

পঞ্চগড়ে কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: স্বজনদের হত্যার অভিযোগ

ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে থানায় মারধরের শিকার মা–মেয়ে, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬ | ৪:৩৭ 8 ভিউ
জয়পুরহাটের কালাইয়ে একজন সাধারণ আড়ত ব্যবসায়ী সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে পাওনা টাকা তুলেছেন। রাত সাড়ে আটটায় বাড়ি ফিরছিলেন মোটরসাইকেলে। পথের মাঝে থামানো হলো, বেধড়ক মারধর করা হলো, আর ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হলো। যারা এই কাজটি করলো, তারা কোনো অজ্ঞাত সন্ত্রাসী না। তারা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। গ্রেফতার হওয়া হারুন মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এখন প্রশ্ন করা দরকার, এই ঘটনাটা কি আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি এটা একটা পরিচিত প্যাটার্নের অংশ? বিএনপি গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে মাঠে নেমেছে, সেটা দেখলে যেকোনো সচেতন মানুষের পরিচিত লাগবে। চাঁদাবাজি, দখল, মারধর, ছিনতাই। দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের যে

সংস্কৃতি বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে বহন করে আসছে, সেটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর সামাজিক মাধ্যমে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলে আরও বেশি গা শিউরে ওঠে। কেউ লিখছেন, “১৭ বছর লুটপাট বন্ধ ছিল, এখন বাপ ক্ষমতায়।” কেউ বলছেন, “২ দিন পর তো বের হয়ে যাবে, গ্রেফতার করে কি লাভ!” কেউ আবার সান্ত্বনা দিচ্ছেন এই বলে যে “রিজিকের মালিক আল্লাহ, চাঁদাবাজি তো উসিলা মাত্র।” আর সবচেয়ে ভয়াবহ যুক্তিটি হলো, “দীর্ঘদিন থেকে না খেয়ে আছে, এটা তেমন কিছু না।” এই মন্তব্যগুলো হাস্যরসের জায়গা থেকে করা হয়েছে, সেটা বোঝা যায়। কিন্তু এর ভেতরে একটা ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে আছে। মানুষ এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ধরে নিতে শুরু করেছে। “বিএনপি

ক্ষমতায় আসলে এমনটাই হয়” এই ধারণাটা মানুষের মাথায় এতটাই গেঁথে গেছে যে তারা ক্ষোভ দেখালেও বিস্মিত হচ্ছে না। এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। এখন একটু পেছনে তাকানো দরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যে নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ হলো, সেটাতে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রাখা হয়েছিল। জনগণ সেই ভোট বয়কট করেছিল। ভোটকেন্দ্রে মানুষ যায়নি। তারপরও একটি ফলাফল এলো, একটি সরকার গঠিত হলো, মন্ত্রীরা শপথ নিলেন। যে সরকার জনগণের ভোটের বৈধতা ছাড়াই ক্ষমতায় বসে আছে, সেই সরকারের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলার কী জবাবদিহি আশা করা যায়? বিএনপি একটি দল হিসেবে এই দেশের রাজনীতিতে যতটুকু ক্ষতি করেছে, সেটার হিসাব দেওয়া শেষ হওয়ার নয়। জিয়াউর রহমান সেনাশাসনের

মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে একটি রাজনৈতিক দল বানিয়েছিলেন। সেই দলের ভিত্তিটাই গণতান্ত্রিক ছিল না। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া একটি দল যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন সেটা শুনতে অনেকটা রঙ্গমঞ্চের সংলাপের মতো লাগে। তারপর বছরের পর বছর ধরে এই দলটি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলীয় ছত্রছায়ায় অপরাধ, এগুলো রুটিনমাফিক ঘটেছে। কালাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু না। কিন্তু নতুন যেটা, সেটা হলো এই ঘটনার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে, বাকিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই তথাকথিত মন্ত্রিসভা থেকে কোনো বক্তব্য নেই, কোনো উদ্বেগ নেই। নুর আলম বলেছেন, “টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারধর করেছে তার বিচার

চাই।” একজন বাবার এই কথার ভেতরে কতটা অসহায়ত্ব আছে সেটা একটু ভাবুন। তিনি টাকার কথা ছেড়েই দিয়েছেন। শুধু চাইছেন ছেলের গায়ে হাত দেওয়ার বিচার। এই বিচার কি তিনি পাবেন? এই প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়াটা এই মুহূর্তে খুব কঠিন। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ বিএনপির আগের শাসনামল সরাসরি দেখেনি। তারা শুনেছে, পড়েছে। এখন দেখছে। কালাইয়ের ঘটনা, সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা এরকম শতশত ঘটনা, এগুলো একটা জীবন্ত পাঠ্যবই হয়ে উঠছে। এই পাঠটা নেওয়া দরকার। কিন্তু পাঠ নেওয়াই কি যথেষ্ট? যে সরকার বৈধতার সংকটে ভুগছে, যে দল ঐতিহাসিকভাবে সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে, তাদের কাছ থেকে একজন ব্যবসায়ীর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাটা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটা

নিয়ে এই দেশের মানুষকে ভাবতে হবে। নাজিমুদ্দিন এখন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। তার বাবা থানায় মামলা করেছেন। একজন আসামি জেলে গেছে। বাকিরা মুক্ত। ছিনতাই হওয়া ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকার হদিস নেই। এই হলো আমাদের বাস্তবতা। এবং এই বাস্তবতার দায় কোনো একটি দলের একার না, দায়টা সেই পুরো ব্যবস্থার, যেটা বারবার একই মানুষগুলোকে, একই কাঠামোকে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সুযোগ দিয়ে চলেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চাঁদা না পেয়ে সরকারি নিয়মের অজুহাতে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাদের মব ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারে এনসিপি-ইনকিলাব মঞ্চে আতঙ্ক ৩৪টা সইয়ে বন্দী একটা গ্রাম : হালাল মাইক, হারাম সাউন্ডবক্স চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব যে দেশে ফুল নিয়ে হাঁটা বিপজ্জনক : একটা ভাঙা বাড়ি, চারটা গ্রেপ্তার, একটা প্রশ্ন অগ্নিঝরা ৮ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর দর্শনে নারী-সমতা ও সোনার বাংলার প্রতিশ্রুতি বিএনপির স্মৃতিশক্তি বড় অদ্ভুত, নিজের ঘোষিত সন্ত্রাসীকেই চিনতে পারে না! মন্দিরে বোমা হামলা, পুরোহিত হাসপাতালে—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোথায়? সেহরি থেকে তুলে নিয়ে মারধর, জঙ্গিদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন ঢাবি হলে ঢুকে ছাত্রীদের নির্যাতনসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বরখাস্ত: সাড়ে ১৬ বছর পর ডিসি কোহিনূরকে পুনর্বহাল রংপুরে আলু চাষ করে কৃষকের মাথায় হাত, কেজিপ্রতি ৫ টাকা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দোহাই দিয়ে আজ থেকে বন্ধ দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে রেকর্ডভাঙা ধস শেয়ারবাজারে: দুই দিনে উধাও ১৬ হাজার কোটি টাকা, কারসাজি নিয়ে সন্দেহ ৪ হাজার সদস্য নিয়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে নির্বাচনের দুদিন আগে ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে’ সীমান্ত পার করানো হয় ফয়সালকে, অবশেষে ভারতে সঙ্গীসহ আটক আড়ং ও বাংলাদেশের গৌরবময় অর্জন: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারুশিল্পের ষ্টোর’ ঢাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে টান, বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত তেলের দাম ৭ই মার্চ পোস্টের জেরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে সেহেরির সময় নির্মমভাবে পেটালো ছাত্র শিবির-ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসীরা