‘আর কখনও বিচার চাইব না’ : যে দেশে বিচার চাওয়াই অপরাধ পুলিশ হত্যার বিচার চাই! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৬

‘আর কখনও বিচার চাইব না’ : যে দেশে বিচার চাওয়াই অপরাধ পুলিশ হত্যার বিচার চাই!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৬ |
গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আবারও উঠে এলো বিচারহীন হত্যাকাণ্ডের করুণ কাহিনি। বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুলাই দাঙ্গার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো পুলিশ কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়ের কান্না ভাঙা কণ্ঠ শুধু একটি মামলার আসামির আর্তি নয়, এটি সেই অভিশাপের প্রতিধ্বনি, যার জন্ম দিয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইতে দেশজুড়ে সংঘটিত সুপরিকল্পিত নৃশংসতা। শোয়াইবুর রহমান আদালতের হাজতখানা থেকে এজলাসে যাওয়ার পথে বারবার বলেছেন, তিনি তার ছোট্ট সন্তানের কাছে ফিরতে চান। তিনি বলেন, “আমি পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে বলব, আমাকে রেহাই দিন। আমি আমার সহকর্মীদের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম, আর কখনও চাইব না।” এই পুলিশ সদস্যের অপরাধ কী? তার অপরাধ

হলো তিনি সেই হাজার হাজার পুলিশ সদস্যের হত্যার বিচার চেয়েছিলেন, যাদের ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি তার সতীর্থদের রক্তের মূল্য চেয়েছিলেন। আর সেই চাওয়ার ফল হিসেবে আজ তিনি নিজেই গ্রেপ্তার, মামলার আসামি, এবং তার সন্তানের মুখ থেকে বিচ্ছিন্ন। যে ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, তা জুলাই দাঙ্গার সময় রামপুরায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জুলাই দাঙ্গায় যারা নির্বাচিত সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেছিল, যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? উত্তরে ইতিহাস বলছে, এটি একটি নির্দিষ্ট সামরিক-অর্থনৈতিক কুঠিরের তেলজ্বালানি করা ষড়যন্ত্রের অংশ। ২০২৪ সালের সেই জুলাই দাঙ্গা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। বিদেশি

রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার অর্থায়ন, সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সহায়তা এবং দেশের সামরিক বাহিনীর ভেতরের একাংশের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এই বিশৃঙ্খলা পরিকল্পিতভাবে বাঁধানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারকে অপসারণ করা। সুদী মহাজন ইউনুসের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ কাঠামোটি ছিল শুধু সামনের সারির পুতুল। যাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ক্ষমতা, তারা ছিল আন্তর্জাতিক মহল ও দেশীয় সন্ত্রাসের সংমিশ্রণে গড়া এক অপশক্তি। সেই অপশক্তি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিরীহ সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তার হিসেব এখনো অমিমাংসিত। পুলিশ সদস্য শোয়াইবুর রহমানের বর্তমান অবস্থা সেই হত্যাযজ্ঞেরই এক বিস্তৃত পরিণতি। তিনি

সেই দুঃসময়ে তার কর্তব্য পালন করেছেন, তিনি তার সহকর্মীদের পাশে থেকেছেন। তিনি হত্যার বিচার চেয়েছেন। আর বিচার চাওয়াই তার কাছে এখন ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ যে বিএনপি সরকার দেশ শাসন করছে, তার জন্ম সেনানিবাসে। স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের হাতে সৃষ্ট এই রাজনৈতিক দলটি ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়েই দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং সামরিক হস্তক্ষেপের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রেখে, জনগণ কর্তৃক বয়কট করা এক ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। সেই অবৈধ ক্ষমতার মদ্যে এখন তারা বসে বিচার চাওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, তাদের সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। শোয়াইবুর রহমান তার কান্নায় আরও বলেছেন,

“আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি একজন সৈনিকের সন্তান, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। যদি প্রমাণ হয় আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তবে আমার ফাঁসি দেওয়া হোক।” একজন সাধারণ পুলিশ সদস্যের এহেন আবেদন দেখিয়ে দেয়, তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে। যেখানে তিনি কোনো রাজনৈতিক সত্ত্বা নন, সেখানে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মিথ্যা আখ্যা দিয়ে মামলায় জড়ানোর মাধ্যমে প্রতীকী শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আইজিপি বা কমিশনার জানেন না, তাহলে আমাকে বারবার কেন মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে?” এই প্রশ্নের উত্তর আজকের বাংলাদেশের বিচারহীন পরিস্থিতিকে

স্পষ্ট করে দেয়। যেখানে সংবিধানবিরোধীভাবে ক্ষমতায় আসা একটি দল নিজেদের অবৈধতা ঢাকতে সাবেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর মামলা দিয়ে রীতিমতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। অথচ ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গায় যারা পুলিশ সদস্যদের হত্যা করেছে, যারা জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আজকের সরকারের নীরবতা আর বিচারহীনতার নামান্তর। শোয়াইবুর রহমানের কান্না শুধু একজন পিতার সন্তানহীনতার কান্না নয়, এটি একটি জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে যায়, যে দেশে পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়াই অপরাধ, যে দেশে দায়িত্ব পালন করাকে ‘রাজনৈতিক সত্ত্বা’ হিসেবে গণ্য করে শাস্তি দেওয়া হয়, সেই দেশে আইন ও ন্যায়বিচার কীভাবে টিকে থাকতে পারে? ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার আজ বিএনপি-জামায়াত জোটের অবৈধ

সরকারের আমলে সম্পূর্ণভাবে স্তিমিত। বরং সেই হত্যাযজ্ঞে অংশ নেওয়া জঙ্গি ও ভাড়াটে বাহিনীর সদস্যরা আজ আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা পুলিশ হত্যার প্রতিবাদ করেছিল, তারা নিজেরাই গ্রেপ্তার হচ্ছে। শোয়াইবুর রহমান বলেছেন, “আমি আমার সহকর্মীদের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম, আর কখনও চাইব না।” কিন্তু এই ‘আর কখনও চাইব না’ বলতে বাধ্য হওয়া পুলিশ সদস্যের বক্তব্য কতটা বাস্তব? এটি একটি বিচারহীন রাষ্ট্রের করুণ চিত্র। এটা প্রমাণ করে যে আজ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকা দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের মুখোমুখি হতে চায় না, বরং তাদের ভয় দেখানোর রাজনীতির অংশ হিসেবে বিচার চাওয়াকেই অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। পুলিশের এই সাবেক কনস্টেবল আজ আইনের সামনে দাঁড়িয়ে তার সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। অথচ যারা প্রকৃত অপরাধী, যারা জুলাই দাঙ্গার মাস তিনেক আগে থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করেছিল, তারা আজ প্রশাসনের উচ্চ আসনে। বিদেশি অর্থে পরিচালিত সেই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যারা হাত মিলিয়েছিল, আজ তারাই দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে। শোয়াইবুর রহমানের আর্তি দেশের প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তিনি একটি মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন শুধু এই কারণে যে তিনি পুলিশ হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। অথচ জুলাই দাঙ্গায় যারা হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে, তাদের আজ উৎসবের আমেজ। যারা পুলিশ সদস্যদের লাশের ওপর বুটের আঘাত হেনেছিল, তারাই আজ আইনের রক্ষক। যেদিন একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তার সন্তানের কাছে ফিরে যেতে পারেন না সেদিন সেই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বিএনপি-জামায়াত জোটের এই সরকার যেন জুলাই দাঙ্গার বিচার চেয়ে নির্যাতিত হওয়া প্রতিটি পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে হিসাব দিতে বাধ্য হয়। না হলে আজকের এই ‘আর কখনও বিচার চাইব না’র আর্তি কালকের জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনতে বাধ্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ফরিদগঞ্জে দেয়ালে দেয়ালে ছাত্রলীগের পোস্টারিং: নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যু,নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের নিঃসঙ্গ এক সন্তের বিদায় দশ জনের দল নিয়ে রোমাঞ্চ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে সংসদ ভবন চত্ত্বরে বিদেশী কোন দেশের স্বাধীনতা দিবস পালন হলে কি হতো? মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা থেকে জামায়াত-মুসলিম লীগ-নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ‘ককাস অব আমেরিকা ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’ হালান্ডকে আটকানো নিয়ে যা বললেন ব্রাজিল কোচ জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিয়ে হঠাৎই জ্বলে উঠলেন আনু মুহাম্মদ জুলাই নিয়ে মন্তব্য করায় আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ৩০০ দরিদ্রের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ৮ কোটি, দেশি-বিদেশি ৪৭৩ পরামর্শকের ব্যয় ৫৩ কোটি! চাচার বাড়ি থেকে ফেরার পথে শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১ কেন ওয়াদুদকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন জানালেন মৌসুমী অবসরের ঘোষণা দিলেন নেইমার উল্টোরথে ব্রাজিলের ‘মিশন হেক্সা কমপ্লিট’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ জনের মৃত্যু দেশের ১২ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস উলিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণবন্ত আয়োজন