‘গ্যাস পাচারের’ গুজব ছড়ানো সেই পাইপলাইনেই আজ তেল আনছে বয়কটকারীরা! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬

গুজবের অবসান ও শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা

‘গ্যাস পাচারের’ গুজব ছড়ানো সেই পাইপলাইনেই আজ তেল আনছে বয়কটকারীরা!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬ |
জ্বালানির মূল ভরসা: শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন' দিয়ে বর্তমানে দেশে আসছে কম মূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল। গুজবের জবাব: একসময় এই পাইপলাইন দিয়ে 'ভারতে গ্যাস পাচার হচ্ছে' বলে গুজব ছড়িয়েছিল বিএনপি-জামায়াত; আজ সেই পাইপলাইনেই দেশ চালাচ্ছে তারা। বয়কটের দ্বিচারিতা: 'ইন্ডিয়া আউট' বা ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে শাড়ি পোড়ানো নেতারাই এখন জ্বালানি সংকটে নিজেদের পছন্দের দেশ পাকিস্তান বা তুরস্কের বদলে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা: উত্তরাঞ্চলে দ্রুত ও কম খরচে জ্বালানি পৌঁছানোর যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ শেখ হাসিনা নিয়েছিলেন, আজ তা দেশের অর্থনীতি ও যান চলাচল সচল রাখার 'লাইফলাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবতার জয়: সস্তা জনপ্রিয়তার রাজনীতির কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার ভৌগোলিক

ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা যে কত কঠিন, বর্তমান সরকার যেন নিজেদের অজান্তেই তা প্রমাণ করছে। বিশেষ প্রতিনিধি, একসময় যারা 'ইন্ডিয়া আউট' বা ভারত বয়কটের ধুয়া তুলে রাজনীতি সরগরম করেছিলেন, আজ ক্ষমতায় বসে দেশ চালাতে তাদের সেই ভারতের তেলের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। দেশের এই চরম জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে নির্মিত 'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন'। যে মেগা প্রকল্প নিয়ে একসময় বিএনপি-জামায়াতসহ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ‘ভারতে গ্যাস পাচারের’ গুজব ছড়িয়েছিল, আজ সেই পাইপলাইনই দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ও যান চলাচল সচল রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে

এবং পরিবহন খরচ কমাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাথে জ্বালানি সহযোগিতার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেন। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থায়নে ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ শেখ হাসিনা যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। আগে চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলে তেল নিয়ে যেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতো, পরিবহন খরচও হতো বিপুল। শেখ হাসিনার এই মেগা প্রকল্পের ফলে বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরাসরি, দ্রুততম সময়ে ও অত্যন্ত কম খরচে দেশে আসছে। গুজবের রাজনীতি

বনাম শেখ হাসিনার উন্নয়ন পাইপলাইনটি নির্মাণের সময় বর্তমান সরকার-সমর্থক গোষ্ঠী এবং বিএনপি-জামায়াত দেশব্যাপী তীব্র প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল। তারা জনমনে এই ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়েছিল যে, এই পাইপলাইন দিয়ে বাংলাদেশের গ্যাস ভারতে পাচার হয়ে যাবে। এছাড়া, ভারত কেন রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে বাংলাদেশে পাঠাবে—এমন প্রশ্ন তুলেও শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবতা হলো, আজ সেই পাইপলাইন দিয়েই ভারত থেকে কম মূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আনছে বর্তমান সরকার। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে নিজের স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি পুড়িয়ে যে রাজনৈতিক চমক দেখিয়েছিলেন, তা আজ বাস্তবতার কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে। পাকিস্তান বা তুরস্ক নয়, দেশের গাড়ি ও বিদ্যুৎ

সচল রাখতে সেই ভারতীয় তেলের ওপরই তাদের ভরসা করতে হচ্ছে। সমালোচকরা পরিহাস করে বলছেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনার আনা এই তেলে উৎপাদিত বিদ্যুতেই আজ ভারত-বিরোধীদের মোবাইল চার্জ হচ্ছে। আর সেই তেলে চলা গাড়িতে বসেই অনেকে ভারত-বিরোধী কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অকৃতজ্ঞতার আক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বারবার সামনে আসছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন ভারতীয় সেনা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন ১০ হাজারের বেশি সেনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পরপরই একটি মহলের মাধ্যমে 'ভারত সব লুট করে নিয়ে গেছে' এমন গুজব ছড়িয়ে ভারত-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া হয়েছিল।

এত বড় আত্মত্যাগের পরও দীর্ঘদিন তাদের স্মরণে দেশে কোনো স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই ঐতিহাসিক মিত্রতার মর্যাদা রক্ষা করেছেন এবং দুই দেশের সুসম্পর্ককে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে লাগিয়েছেন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকদেখানো বয়কট বা সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে হয়তো সাময়িক হাততালি পাওয়া যায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। শেখ হাসিনার শাসনামলে নেওয়া এই পাইপলাইন প্রকল্প প্রমাণ করে যে, তিনি অন্ধ বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। গুজবের রাজনীতি সাময়িক বিভ্রান্তি ছড়ালেও, দিনশেষে শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার ফসলই দেশের মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, আটক ২৭ বাংলাদেশি মার্চে কমল মূল্যস্ফীতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ করে সংসদে বিল পাশ স্ত্রীকে ‘পাগল’ সাজাতে জালিয়াতি, আ.লীগ নেতা হাবিবকে গ্রেফতারে পরোয়ানা ২ ডিআইজিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি কেন ইরান যুদ্ধের চরম মূল্য দিচ্ছে ইউরোপ ও এশিয়ার মার্কিন মিত্ররা? তৃতীয় দফায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রিমান্ডে খাদ্য ও ওষুধ সংকটে পড়তে পারে কোটি মানুষ হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরান-ওমান বৈঠক শুরু এবার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা হিরো আলমের চন্দনাইশে অলির বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল: তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের বৈধতা নাকি সংবিধান অকার্যকরের প্রচেষ্টা? বিসিবি পরিচালকদের পদত্যাগের মিছিল, মধ্যরাতে সরে গেলেন আরও দুজন গণভোট না মানলে মোনাফেক হয়ে যাবে, জামায়াত নেতা শিশির মনিরের নয়া ‘ফতোয়া’ মার্কিন গ্রিন কার্ড বাতিল করে কাসেম সোলেইমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার থানায় ঢুকে ৯ পুলিশ সদস্যকে প্রহার, প্রধান আসামিসহ জামায়াতের আরও দুই নেতা গ্রেপ্তার বকেয়া বেতনের দাবিতে নাসা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ মির্জা ফখরুল: কিছু অশুভ শক্তি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের সংকট, জ্বালানির অভাবে সমুদ্রে যেতে পারছে না মাছ ধরার ট্রলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গোপন চুক্তি নেই, তবে কিছু বিষয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না