গায়েবি নারীকে নিহত স্ত্রী দাবিতে জুলাইর ভুয়া মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৮৫ আসামির অব্যাহতির সুপারিশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ মে, ২০২৬

গায়েবি নারীকে নিহত স্ত্রী দাবিতে জুলাইর ভুয়া মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৮৫ আসামির অব্যাহতির সুপারিশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ মে, ২০২৬ |
জুলাই সন্ত্রাসের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিতে স্ত্রী নিহত হওয়ার দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন মো. সুমন নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ দেখতে পায়, সেরকম কোনো হত্যার ঘটনাই ঘটেনি। এমনকি মামলায় উল্লিখিত নিহত নারী ফাতেমার সঙ্গে বাদী সুমনের কোনো পরিচয়ই নেই। তারচেয়েও বড় খবর হলো, ওই নামে কোনো নারীর সন্ধান মেলেনি, ঘটনাস্থলে এমন কোনো নারী নিহত হননি, এমনকি যেখানে কবর দেওয়ার দাবি করা হয়েছে- সেখানেও মেলেনি কবরের সন্ধান! ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট গুলিতে স্ত্রী নিহতের বর্ণনা দিয়ে ২০২৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি আদালতে মামলা

করেন সুমন। গত ২৭শে এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেন আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে উল্টো বাদী সুমনের বিরুদ্ধেই মামলা করার আবেদন জানানো হয়েছে। সুমনের দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ এবং অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার বিশ্বাসহ মোট ৮৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারে নাম থাকা ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা

হলেন কামরুল ইসলাম, এটি নিজাম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, রাসেল মিয়া, সৈকত ইসলাম কামরুল এবং আব্দুল মুকিত মজুমদার। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিল্লাল ওরফে ভাতিজা বিল্লাল নামে আরও একজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। বিল্লাল জামিনে মুক্ত থাকলেও বাকি গ্রেপ্তার আসামিরা এখনও কারাগারে আছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদেরসহ মোট ৮৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তে একে একে বের হয়ে আসে মামলার ভিত্তিহীনতার প্রমাণ। সুমন এজাহারে উল্লেখ করেছিলেন, ফাতেমাকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু সেই কবরস্থানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, ওই কবরস্থান সবার জন্য উন্মুক্ত নয় এবং হত্যা বা আত্মহত্যার লাশ সেখানে দাফন করা হয়

না। এমনকি জুলাইয়ে নিহত কোনো ব্যক্তিকেও সেখানে দাফন করা হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে। এ ছাড়া সুমন তার কথিত স্ত্রী ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তির কোনো কাগজপত্র বা মৃত্যু সনদও দিতে পারেননি। এমনকি মোহাম্মদপুর এলাকায় বৈছা আন্দোলনের সময় ২৩ জন নিহত হলেও তাদের মধ্যে কোনো নারীর তথ্য পাওয়া যায়নি। বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সুমন সাড়া দেননি এবং তার দেওয়া ঠিকানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমন নিজেই স্বীকার করেন, তিনি ফাতেমা নামে কাউকে চেনেন না এবং ওই নামে কেউ নিহত হয়েছে কিনা তাও তিনি জানেন না। তিনি পুলিশকে বলেন, কিছু ব্যক্তির প্ররোচনা ও আর্থিক প্রলোভনে তিনি এই মামলা করেন এবং নিজেও জানতেন না

কার বিরুদ্ধে কী মামলা দায়ের করছেন। পরে যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এখন পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরপর ভীত হয়ে সুমন আত্মগোপনে চলে যান এবং মামলার বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, কারা সুমনকে প্রলোভন দেখিয়ে ও প্ররোচনা দিয়ে এই মামলা করিয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেই তথ্য গণমাধ্যমকে দেওয়া হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ হয়েছে আগামী ২৪শে জুন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার বিল্লালের আইনজীবী মোস্তফা আল মামুন বলেছেন, এ ধরনের মামলা এখন অহরহ হচ্ছে। তার মতে, যে

সরকারই ক্ষমতায় আসুক, বিরোধীদের বিরুদ্ধে এভাবে মামলার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তিনি প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ আর এভাবে অযথা হয়রানির শিকার না হন এবং এ ধরনের মিথ্যা মামলার উদ্ভব বন্ধ হয়। বাদী সুমনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেট: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ