গাজার মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা বিশ্বের সব মুসলিমের দায়িত্ব – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ জুন, ২০২৫

গাজার মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা বিশ্বের সব মুসলিমের দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ জুন, ২০২৫ |
যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ পীড়িত গাজার মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা বিশ্বের সমস্ত মুসলিম সরকার ও জাতির দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পবিত্র ঈদুল আজহা ও হজ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। হজের বাণীতে খামেনি বলেন, হজ হলো মুমিনদের আকাঙ্ক্ষা, অধির আগ্রহীদের ঈদ এবং সৌভাগ্যবানদের আধ্যাত্মিক জীবিকা। হজের সঙ্গে এর রহস্যময় মর্মজ্ঞানের মিশ্রণ ঘটলে তা কেবল মুসলিম উম্মাহরই নয় বরং সমগ্র মানবজাতির প্রধান সমস্যাগুলোর প্রতিকার হয়ে ওঠে। তার মতে, হজ অন্যান্য সফরের মতো নয়- যা ব্যবসা, পর্যটন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে করা হয়।সেখানে কখনো কখনো ইবাদত বা সৎকর্ম সেই সফরের অংশ হয়ে হয়ে ওঠে। হজ হলো সাধারণ

জীবন থেকে আদর্শ জীবনে স্থানান্তরিত হওয়ার একটি অনুশীলন। আদর্শ জীবন হলো একত্ববাদী জীবন। এর প্রধান ও চিরস্থায়ী উপাদানগুলো হলো সত্যের অক্ষের চারপাশে অবিরাম প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ), কঠিন চূড়াগুলোর মধ্যে নিরলস প্রচেষ্টা (সাঈ), কুচক্রী শয়তানের দিকে সর্বদা পাথর নিক্ষেপ, জিকির ও এবাদতের সাথে বিরতি, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও পথচারী দরিদ্রদের খাওয়ানো, সব জাতি, বর্ণ ও ভাষার মানুষ এবং ভৌগোলিক অঞ্চলকে সমানভাবে দেখা এবং সব সময় সেবা করার জন্য প্রস্তুত থাকা, আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং সত্যকে রক্ষার পতাকা উড্ডীন রাখা। হজের মূল উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, হজ নিজের মধ্যে এই (আদর্শ) জীবনের প্রতীকী দৃষ্টান্তগুলোর সম্মিলন ঘটিয়েছে এবং হজযাত্রীদেরকে এসবের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে এই

জীবনের প্রতি আমন্ত্রণ জানায়। এ আহ্বান অবশ্যই শোনা উচিৎ। হৃদয়-মন এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চোখ খুলতে হবে। শিখতে হবে। শিক্ষাগুলো রপ্ত করে সেগুলো প্রয়োগ করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেকেই তাদের সামর্থ্য অনুসারে এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে পারে। আলেম, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের অধিকারী ব্যক্তিদের দায়িত্ব আরও বেশি। মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে বলেন, মুসলিম বিশ্বের এখন এই শিক্ষাগুলো প্রয়োগ করা আগের চেয়েও বেশি প্রয়োজন। গাজা ও পশ্চিম এশিয়ায় বিপর্যয় চলা অবস্থায় এবার দ্বিতীয় হজ পালিত হচ্ছে। ফিলিস্তিন দখলদার অপরাধী ইহুদিবাদী চক্র ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা এবং শয়তানির মাধ্যমে গাজার বিপর্যয়কে অকল্পনীয় মাত্রায় নিয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি শিশুরা এখন কেবল বোমা,

গুলি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই নয়, তৃষ্ণা ও অনাহারেও মারা যাচ্ছে। প্রিয়জন তথা তরুণদের হারানো অথবা বাবা-মা হারানো শোকসন্তপ্ত পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে কারা রুখে দাঁড়াবে? নিঃসন্দেহে এ দায়িত্ব প্রথমেই মুসলিম সরকারগুলোর। আর জাতিগুলো তাদের সরকারগুলোর কাছ থেকে এই পদক্ষেপের দাবিদার। মুসলিম সরকারগুলোর মধ্যে নানা ক্ষেত্রে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু এই মতবিরোধ গাজার ভয়াবহ বিপর্যয় এবং আজকের বিশ্বের সবচেয়ে মজলুম জনগোষ্ঠীর প্রতি সহযোগিতা করা থেকে তাদেরকে বিরত রাখবে এমনটি হওয়া উচিৎ নয়। মুসলিম সরকারগুলোকে অবশ্যই ইহুদিবাদী ইসরাইলকে সহায়তার সকল পথ বন্ধ করে দিতে হবে এবং গাজায় বর্বর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া থেকে অপরাধীদেরকে বিরত রাখতে হবে। আমেরিকা নিশ্চিতভাবে

ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধের সহযোগী। খামেনি বলেন, এই অঞ্চল এবং অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলে আমেরিকার সহযোগীদের উচিৎ মজলুমদের রক্ষা করার বিষয়ে কুরআনের ডাকে সাড়া দেওয়া। তাদেরকে অবশ্যই দাম্ভিক মার্কিন সরকারকে এই নিপীড়নমূলক আচরণ বন্ধের জন্য বাধ্য করতে হবে। হজের সময় বারায়াত (সম্পর্কচ্ছেদ) অনুষ্ঠান এমন লক্ষ্য অর্জনের জন্যই একটি পদক্ষেপ। গাজার জনগণের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ ফিলিস্তিন ইস্যুকে মুসলিম বিশ্ব তথা গোটা বিশ্বের সব স্বাধীনচেতা মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে গেছে। এই সুযোগকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে এবং এই মজলুম জাতির সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে। দাম্ভিক শক্তি ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সমর্থকরা ফিলিস্তিন ইস্যুটির নাম-নিশানা (মানুষের মন থেকে) মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এই দখলদার নেতাদের ঘৃণ্য

স্বভাব ও তাদের বোকামিপূর্ণ নীতি এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে ফিলিস্তিনের নাম অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উজ্জ্বলতর হয়েছে এবং ইহুদিবাদীদের ও তাদের সমর্থকদের প্রতি জনমতের ঘৃণা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটা বড় সুযোগ। খামেনি বলেন, যারা সমাজের মুখপাত্র হিসেবে সম্মানিত এবং সমাজে যাদের বিশেষ অবস্থান রয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, সংবেদনশীলতা আরও গভীর করতে হবে এবং ফিলিস্তিন সম্পর্কিত দাবিগুলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে। হাজিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সৌভাগ্যবান হাজিরা হজ পালনের সময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার সুযোগকে অবহেলা করবেন না। জালিম ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য

সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘ছিন্ন বিশ্বে’ একতার গান মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই: শিক্ষা অধিকার সংসদ আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল, হাসপাতাল ছাড়ছেন রোগীরা সিপিবির প্রতিক্রিয়া: বাজেটে নেই ব্যয় কমানোর আশাবাদ, বাড়বে বৈষম্য খুলনায় বাড়ির সামনে গুলি করে বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিককে হত্যা কার্যালয়ে চোরের হানা, নাশকতা চেষ্টার দাবি অ্যাটর্নি জেনারেল কুদ্দুসের ‘একই আকাশ, একই বাতাস’: বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন স্বপ্নের কথা বললেন নতুন ভারতীয় দূত দীনেশ ত্রিবেদী শিশু ফাহিমা ধর্ষণ-হত্যা: ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন প্রতিবেশীর শয়নকক্ষে মিলল শিশু ‘রাকার’ বস্তাবন্দি লাশ বিজয়ের ৫২তম জন্মদিনে ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চান বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশ বিশ্বকাপের মাঝেই চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ব্রিতো মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন ৩ লাল কার্ডের নাটকীয় উদ্বোধনী ম্যাচে দ. আফ্রিকাকে হারাল মেক্সিকো পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালো দক্ষিণ কোরিয়া