ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে আতঙ্ক, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
শেখ হাসিনাকেই চাই, মরতেও রাজি
আওয়ামী লীগ আমলেই ভালো ছিলাম”: চাল ও গ্যাসের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ
১৬ বছরের উন্নয়ন আগামী ৫০ বছরেও কেউ করতে পারবে না: সাধারণ নাগরিকের অভিমত
গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট
খুনখারাপির বাংলাদেশ, জঙ্গিদের বাংলাদেশ, অবৈধ শাসনের বাংলাদেশ
বস্তিবাসীর মানসিক রোগে চিকিৎসা গ্রহণের হার বেড়েছে ৫ গুণ
কেরানীগঞ্জ কিংবা আউশভিৎস-বির্কেনাউ, রাষ্ট্রিয় মদদে পরিকল্পিত নির্মূল অভিযান চলছেই
ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে, শুধু জায়গা আর মুখোশ বদলায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আউশভিৎস-বির্কেনাউতে নাৎসিরা যেভাবে ইহুদিদের নির্মূল করেছিল, ২০২৬ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ঠিক সেই পথেই হাঁটছে। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে গ্যাস চেম্বারের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে অনাহার, তৃষ্ণা আর বিষ। শিকার এবার ইহুদি নয়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। অপরাধ তাদেরও একটাই: তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
তিন জানুয়ারি থেকে শাপলা, বনফুল আর সূর্যমুখী ভবনের প্রায় দুই হাজার বন্দিকে চব্বিশ ঘণ্টা সেলে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। খাবার বন্ধ। পানি বন্ধ। বাইরে বের হওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কারাগারের ভেতর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এটা কোনো সাধারণ
কারা অব্যবস্থাপনা নয়। এটা পরিকল্পিত নির্মূল। ধীরে ধীরে, নিশ্চিহ্নভাবে, আন্তর্জাতিক সমাজের চোখের আড়ালে মানুষ মারার এক নিখুঁত পদ্ধতি। আউশভিৎসে নাৎসিরা ইহুদিদের ট্রেনে করে নিয়ে যেত। তারপর সিলেকশন করত কে কাজের উপযুক্ত, কে গ্যাস চেম্বারে যাবে। কেরানীগঞ্জে ইউনূস সরকার সেই কাজটাই করছে, শুধু পদ্ধতি আলাদা। অপারেশন ডেভিড হান্টের নামে গণগ্রেফতার চালিয়ে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে ঢোকানো হচ্ছে। তারপর শুরু হচ্ছে নীরব হত্যাযজ্ঞ। কেউ মরছে তথাকথিত হার্ট অ্যাটাকে। কেউ মরছে অসুস্থতায়। কেউ হঠাৎ মারা যাচ্ছে রাতের আঁধারে। চিকিৎসক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে ফক্সগ্লোভ গোত্রের উদ্ভিদ থেকে তৈরি বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বিষ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়,
আর সাধারণ পোস্টমর্টেমে ধরাও পড়ে না। নাৎসিরা জাইক্লন-বি গ্যাস ব্যবহার করত, ইউনূসের লোকেরা ব্যবহার করছে ডিজিটালিস। ফলাফল একই: নিরব মৃত্যু। নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের নির্মূলের পেছনে ছিল একটা মতাদর্শিক ঘৃণা। তারা বিশ্বাস করত আর্য জাতির বিশুদ্ধতা রক্ষা করতে হলে ইহুদিদের শেষ করতে হবে। বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের পেছনেও রয়েছে একই ধরনের মতাদর্শিক বিদ্বেষ। একাত্তরে যে শক্তি পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সেই ওহাবি জঙ্গি মতাদর্শের উত্তরাধিকারীরাই এখন ক্ষমতায়। তাদের কাছে আওয়ামী লীগের মানুষেরা শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, এরা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। এই প্রতীক ধ্বংস করতে পারলেই তারা দেশটাকে ফিরিয়ে নিতে পারবে পাকিস্তানি মডেলে। আউশভিৎসে প্রবেশদ্বারে লেখা ছিল "Arbeit macht frei" মানে
কাজই মুক্তি। কিন্তু ভেতরে ছিল মৃত্যু। কেরানীগঞ্জ কারাগারেও ঠিক একই প্রহসন চলছে। বাইরে মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, মানবাধিকারের ধ্বজাধারী। কিন্তু তার সরকারের তত্ত্বাবধানে কারাগারের ভেতর চলছে গণহত্যা। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তির কথা বলেন, দেশে ফিরে তার প্রশাসন মানুষকে অনাহারে মারছে। নাৎসিরা ইহুদিদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছিল, তাদের পরিচয় কেড়ে নিয়েছিল, তাদের সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করেছিল। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথেও একই ব্যবহার হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল হচ্ছে। রাস্তায় বের হলে জনতার হামলার শিকার হচ্ছেন। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন। কেউ পাওয়া যাচ্ছে মৃত অবস্থায়। পুলিশ নীরব দর্শক থাকছে। আইন-আদালত নীরব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রায়ালে নাৎসি অপরাধীদের বিচার হয়েছিল। বিশ্ব
বলেছিল, "Never Again"। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করছে, আবারও ঘটছে। কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ। রুয়ান্ডায় গণহত্যা। বসনিয়ায় জাতিগত নিধন। এখন বাংলাদেশে। প্রতিবারই আন্তর্জাতিক সমাজ দেরিতে সাড়া দেয়। যখন লাশের স্তূপ জমে যায়, তখন সবাই বলে, "আমরা জানতাম না।" কিন্তু এবার কেউ বলতে পারবে না যে জানতেন না। কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে বার্তা এসেছে। বন্দিরা চিৎকার করছেন। বিশ্ব এখন জানে দুই হাজার মানুষকে সেলে আটকে রেখে খাবার-পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব এখন জানে কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব এখন জানে বিষ ব্যবহার করে হত্যা করা হচ্ছে। এখন যদি আন্তর্জাতিক সমাজ নীরব থাকে, তাহলে তারাও এই গণহত্যার সহযোগী। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কোথায়? অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কোথায়? হিউম্যান রাইটস
ওয়াচ কোথায়? ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট কোথায়? নাকি আওয়ামী লীগের মানুষেরা দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ, তাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই? নাকি মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার তাকে হত্যার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে? আউশভিৎসে নাৎসিরা বন্দিদের সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করত। হাতে উল্কি আঁকত। কেরানীগঞ্জে বন্দিদেরও সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যে বার্তা বাইরে এসেছে, সেখানে নিজেকে "হাজতি নং ৩১০৪৭/২৫" হিসেবে পরিচয় দিতে হয়েছে। একটা সংখ্যা। একজন মানুষ এখন শুধুই একটা সংখ্যা। ঠিক যেমন আউশভিৎসে ছিল। নাৎসিরা ইহুদিদের নিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা চালাত। জোসেফ মেঙ্গেলে নামে এক ডাক্তার ছিল যাকে বলা হতো "Angel of Death"। সে বন্দিদের ওপর ভয়াবহ পরীক্ষা চালাত। কেরানীগঞ্জে কী হচ্ছে সেটাও জানা দরকার। বন্দিরা ঠিক
কীভাবে মরছেন? কী ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে যদি আদৌ দেওয়া হয়? কোন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে? স্বাধীন চিকিৎসক দলকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হোক। প্রতিটি মৃত্যুর স্বাধীন ফরেনসিক তদন্ত হোক। আউশভিৎসের দিনগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলো জানত কী হচ্ছে। কিন্তু তারা কিছু করেনি। ১৯৪৪ সালে মিত্রশক্তির কাছে আউশভিৎসের ছবি ছিল। তারা বোমা ফেলতে পারত রেললাইনে। কিন্তু করেনি। ফলে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। এখন ২০২৬। আমাদের কাছে স্যাটেলাইট আছে। আমাদের কাছে প্রযুক্তি আছে। আমরা জানি কেরানীগঞ্জে কী হচ্ছে। কিন্তু আমরা কি আবার সেই একই ভুল করব? মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেছিলেন জুলাই মাসে এক রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সেই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। এখন স্পষ্ট হচ্ছে, সেটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান। বিদেশি অর্থায়ন ছিল। পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থন ছিল। সামরিক বাহিনীর একাংশ সহযোগিতা করেছে। লক্ষ্য ছিল একটাই: নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা এবং আওয়ামী লীগকে নির্মূল করা। এখন সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কারাগারে নিয়ে মারা হচ্ছে। বাইরে যারা আছেন, তাদের ওপর চলছে জনতার হামলা। কোনো আইনি প্রতিকার নেই। কোনো বিচার নেই। শুধু নির্মূল। আউশভিৎস মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি, যখন সোভিয়েত সৈন্যরা সেখানে পৌঁছায়। তারা দেখেছিল হাড্ডিসার কঙ্কালসম বন্দিদের। দেখেছিল গ্যাস চেম্বার। দেখেছিল মৃতদেহের স্তূপ। বিশ্ব হতবাক হয়েছিল। শপথ নিয়েছিল এমন কিছু আর কখনো হতে দেবে না। কেরানীগঞ্জ কারাগার কবে মুক্ত হবে? কে মুক্ত করবে? নাকি আমরা অপেক্ষা করব যতক্ষণ না দুই হাজার বন্দি শুধু কঙ্কালে পরিণত হয়? যতক্ষণ না অনাহারে, তৃষ্ণায়, বিষে সবাই মরে যায়? আউশভিৎসের পর বিশ্ব বলেছিল "Never Again"। কিন্তু কেরানীগঞ্জ প্রমাণ করছে সেটা ছিল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। হিটলারের জায়গায় এখন ইউনূস। ইহুদিদের জায়গায় এখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আউশভিৎসের জায়গায় এখন কেরানীগঞ্জ। পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু নিষ্ঠুরতা একই। এখনই সময় বিশ্বের জেগে ওঠার। জাতিসংঘের উচিত তাৎক্ষণিক তদন্ত দল পাঠানো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের উচিত তদন্ত শুরু করা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উচিত কেরানীগঞ্জ কারাগারে প্রবেশাধিকার দাবি করা। প্রতিটি দেশের উচিত ইউনূস সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। অনেকে পালিয়ে গেলেও তাদের ধরা হয়েছে, বিচার হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগীদেরও একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কেরানীগঞ্জ কারাগারে যা ঘটছে তার দায় তাদের নিতে হবে। নোবেল পুরস্কার তাদের রক্ষা করতে পারবে না। ইতিহাস সবকিছু মনে রাখে। আউশভিৎসের নাম ইতিহাসে জ্বলজ্বল করে মানুষের বর্বরতার স্মারক হিসেবে। কেরানীগঞ্জও সেই তালিকায় যুক্ত হবে। প্রশ্ন হলো, কতজন মানুষকে মরতে দেবে বিশ্ব এই কারাগারে, সেটা ঠিক করার ক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে।
কারা অব্যবস্থাপনা নয়। এটা পরিকল্পিত নির্মূল। ধীরে ধীরে, নিশ্চিহ্নভাবে, আন্তর্জাতিক সমাজের চোখের আড়ালে মানুষ মারার এক নিখুঁত পদ্ধতি। আউশভিৎসে নাৎসিরা ইহুদিদের ট্রেনে করে নিয়ে যেত। তারপর সিলেকশন করত কে কাজের উপযুক্ত, কে গ্যাস চেম্বারে যাবে। কেরানীগঞ্জে ইউনূস সরকার সেই কাজটাই করছে, শুধু পদ্ধতি আলাদা। অপারেশন ডেভিড হান্টের নামে গণগ্রেফতার চালিয়ে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে ঢোকানো হচ্ছে। তারপর শুরু হচ্ছে নীরব হত্যাযজ্ঞ। কেউ মরছে তথাকথিত হার্ট অ্যাটাকে। কেউ মরছে অসুস্থতায়। কেউ হঠাৎ মারা যাচ্ছে রাতের আঁধারে। চিকিৎসক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে ফক্সগ্লোভ গোত্রের উদ্ভিদ থেকে তৈরি বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বিষ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়,
আর সাধারণ পোস্টমর্টেমে ধরাও পড়ে না। নাৎসিরা জাইক্লন-বি গ্যাস ব্যবহার করত, ইউনূসের লোকেরা ব্যবহার করছে ডিজিটালিস। ফলাফল একই: নিরব মৃত্যু। নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের নির্মূলের পেছনে ছিল একটা মতাদর্শিক ঘৃণা। তারা বিশ্বাস করত আর্য জাতির বিশুদ্ধতা রক্ষা করতে হলে ইহুদিদের শেষ করতে হবে। বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের পেছনেও রয়েছে একই ধরনের মতাদর্শিক বিদ্বেষ। একাত্তরে যে শক্তি পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সেই ওহাবি জঙ্গি মতাদর্শের উত্তরাধিকারীরাই এখন ক্ষমতায়। তাদের কাছে আওয়ামী লীগের মানুষেরা শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, এরা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। এই প্রতীক ধ্বংস করতে পারলেই তারা দেশটাকে ফিরিয়ে নিতে পারবে পাকিস্তানি মডেলে। আউশভিৎসে প্রবেশদ্বারে লেখা ছিল "Arbeit macht frei" মানে
কাজই মুক্তি। কিন্তু ভেতরে ছিল মৃত্যু। কেরানীগঞ্জ কারাগারেও ঠিক একই প্রহসন চলছে। বাইরে মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, মানবাধিকারের ধ্বজাধারী। কিন্তু তার সরকারের তত্ত্বাবধানে কারাগারের ভেতর চলছে গণহত্যা। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তির কথা বলেন, দেশে ফিরে তার প্রশাসন মানুষকে অনাহারে মারছে। নাৎসিরা ইহুদিদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছিল, তাদের পরিচয় কেড়ে নিয়েছিল, তাদের সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করেছিল। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথেও একই ব্যবহার হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়িতে হামলা হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল হচ্ছে। রাস্তায় বের হলে জনতার হামলার শিকার হচ্ছেন। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন। কেউ পাওয়া যাচ্ছে মৃত অবস্থায়। পুলিশ নীরব দর্শক থাকছে। আইন-আদালত নীরব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রায়ালে নাৎসি অপরাধীদের বিচার হয়েছিল। বিশ্ব
বলেছিল, "Never Again"। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করছে, আবারও ঘটছে। কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ। রুয়ান্ডায় গণহত্যা। বসনিয়ায় জাতিগত নিধন। এখন বাংলাদেশে। প্রতিবারই আন্তর্জাতিক সমাজ দেরিতে সাড়া দেয়। যখন লাশের স্তূপ জমে যায়, তখন সবাই বলে, "আমরা জানতাম না।" কিন্তু এবার কেউ বলতে পারবে না যে জানতেন না। কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে বার্তা এসেছে। বন্দিরা চিৎকার করছেন। বিশ্ব এখন জানে দুই হাজার মানুষকে সেলে আটকে রেখে খাবার-পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব এখন জানে কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব এখন জানে বিষ ব্যবহার করে হত্যা করা হচ্ছে। এখন যদি আন্তর্জাতিক সমাজ নীরব থাকে, তাহলে তারাও এই গণহত্যার সহযোগী। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কোথায়? অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কোথায়? হিউম্যান রাইটস
ওয়াচ কোথায়? ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট কোথায়? নাকি আওয়ামী লীগের মানুষেরা দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ, তাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই? নাকি মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার তাকে হত্যার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে? আউশভিৎসে নাৎসিরা বন্দিদের সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করত। হাতে উল্কি আঁকত। কেরানীগঞ্জে বন্দিদেরও সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যে বার্তা বাইরে এসেছে, সেখানে নিজেকে "হাজতি নং ৩১০৪৭/২৫" হিসেবে পরিচয় দিতে হয়েছে। একটা সংখ্যা। একজন মানুষ এখন শুধুই একটা সংখ্যা। ঠিক যেমন আউশভিৎসে ছিল। নাৎসিরা ইহুদিদের নিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষা চালাত। জোসেফ মেঙ্গেলে নামে এক ডাক্তার ছিল যাকে বলা হতো "Angel of Death"। সে বন্দিদের ওপর ভয়াবহ পরীক্ষা চালাত। কেরানীগঞ্জে কী হচ্ছে সেটাও জানা দরকার। বন্দিরা ঠিক
কীভাবে মরছেন? কী ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে যদি আদৌ দেওয়া হয়? কোন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে? স্বাধীন চিকিৎসক দলকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হোক। প্রতিটি মৃত্যুর স্বাধীন ফরেনসিক তদন্ত হোক। আউশভিৎসের দিনগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলো জানত কী হচ্ছে। কিন্তু তারা কিছু করেনি। ১৯৪৪ সালে মিত্রশক্তির কাছে আউশভিৎসের ছবি ছিল। তারা বোমা ফেলতে পারত রেললাইনে। কিন্তু করেনি। ফলে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। এখন ২০২৬। আমাদের কাছে স্যাটেলাইট আছে। আমাদের কাছে প্রযুক্তি আছে। আমরা জানি কেরানীগঞ্জে কী হচ্ছে। কিন্তু আমরা কি আবার সেই একই ভুল করব? মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় এসেছিলেন জুলাই মাসে এক রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সেই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। এখন স্পষ্ট হচ্ছে, সেটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান। বিদেশি অর্থায়ন ছিল। পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থন ছিল। সামরিক বাহিনীর একাংশ সহযোগিতা করেছে। লক্ষ্য ছিল একটাই: নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা এবং আওয়ামী লীগকে নির্মূল করা। এখন সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কারাগারে নিয়ে মারা হচ্ছে। বাইরে যারা আছেন, তাদের ওপর চলছে জনতার হামলা। কোনো আইনি প্রতিকার নেই। কোনো বিচার নেই। শুধু নির্মূল। আউশভিৎস মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি, যখন সোভিয়েত সৈন্যরা সেখানে পৌঁছায়। তারা দেখেছিল হাড্ডিসার কঙ্কালসম বন্দিদের। দেখেছিল গ্যাস চেম্বার। দেখেছিল মৃতদেহের স্তূপ। বিশ্ব হতবাক হয়েছিল। শপথ নিয়েছিল এমন কিছু আর কখনো হতে দেবে না। কেরানীগঞ্জ কারাগার কবে মুক্ত হবে? কে মুক্ত করবে? নাকি আমরা অপেক্ষা করব যতক্ষণ না দুই হাজার বন্দি শুধু কঙ্কালে পরিণত হয়? যতক্ষণ না অনাহারে, তৃষ্ণায়, বিষে সবাই মরে যায়? আউশভিৎসের পর বিশ্ব বলেছিল "Never Again"। কিন্তু কেরানীগঞ্জ প্রমাণ করছে সেটা ছিল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। হিটলারের জায়গায় এখন ইউনূস। ইহুদিদের জায়গায় এখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আউশভিৎসের জায়গায় এখন কেরানীগঞ্জ। পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু নিষ্ঠুরতা একই। এখনই সময় বিশ্বের জেগে ওঠার। জাতিসংঘের উচিত তাৎক্ষণিক তদন্ত দল পাঠানো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের উচিত তদন্ত শুরু করা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উচিত কেরানীগঞ্জ কারাগারে প্রবেশাধিকার দাবি করা। প্রতিটি দেশের উচিত ইউনূস সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। অনেকে পালিয়ে গেলেও তাদের ধরা হয়েছে, বিচার হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগীদেরও একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কেরানীগঞ্জ কারাগারে যা ঘটছে তার দায় তাদের নিতে হবে। নোবেল পুরস্কার তাদের রক্ষা করতে পারবে না। ইতিহাস সবকিছু মনে রাখে। আউশভিৎসের নাম ইতিহাসে জ্বলজ্বল করে মানুষের বর্বরতার স্মারক হিসেবে। কেরানীগঞ্জও সেই তালিকায় যুক্ত হবে। প্রশ্ন হলো, কতজন মানুষকে মরতে দেবে বিশ্ব এই কারাগারে, সেটা ঠিক করার ক্ষমতা এখন আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে।



