কারা ফটকের পাঁচ মিনিট…… – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
     ১০:১১ অপরাহ্ণ

কারা ফটকের পাঁচ মিনিট……

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০:১১ 14 ভিউ
শীতের রাতে বাংলাদেশের আকাশের রং বদলে যায়—একটু ছাই, একটু কুয়াশা, আর একটু অদ্ভুত নীরবতা। সেদিন নীরবতারও যেন জ্বর ছিল। যশোরের দিকে যাওয়া রাস্তা ধরে একটি অ্যাম্বুলেন্স এগোচ্ছিল ধীরে ধীরে—যেন হর্ন বাজালে শব্দও ব্যথা পাবে, এই ভেবে নিজেকেই সংযত রাখছে। ড্রাইভারের নাম মুকুল (কাল্পনিক)। সে বহু লাশ বয়ে নিয়েছে—মৃত্যুর কাজই এমন: কখনও কারও বয়স দেখে না, কখনও কারও পদবি দেখে না। কিন্তু সেদিন তার হাত কাঁপছিল—স্টিয়ারিংয়ে নয়, বুকের ভেতর। কারণ গাড়ির পেছনে যে দুটো কাঠের বাক্স ছিল, সেগুলোকে বাক্স বলা যায় না—সেগুলো ছিল দুটো অসমাপ্ত গল্প। একটি গল্পের নাম “সুবর্ণা”, আরেকটি “নাজিম”—নয় মাসের এক অসমাপ্ত জীবন। মুকুল জানত না কীভাবে এমন ঘটনা ঘটে—মায়ের বুক,

শিশুর নিশ্বাস, সংসারের ছোট্ট জানালা… সব এক রাতের মধ্যে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে বসে থাকা লোকগুলো জানত। তাদের চোখে ছিল এমন কান্না, যে কান্না শব্দ খুঁজে পায় না; শুধু মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে—যেন মুখটাই কেঁদে ওঠে। মুকুলের সহকারী ছেলেটা বলল, — ওস্তাদ, আজ লাশ কার কাছে নেবে? মুকুল বলল, — আজ লাশ যাচ্ছে এক জীবিত মানুষের কাছে। ছেলেটা অবাক হলো। — লাশ তো কবরের কাছে যায়, ওস্তাদ। মুকুল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। — এই দেশে অনেক সময় কবরই শেষ ঠিকানা না। কিছু শোক কারাগারের গেটেও দাফন হয়। কারাগারের গেটের নাম ‘ফটক’—এ নামটা কত সাধারণ! অথচ ফটকের ভেতর-বাইরের তফাৎ কত অস্বাভাবিক। ফটকের এক পাশে পৃথিবী—চায়ের দোকান, রিকশার টুংটাং, মুখরিত কোলাহল,

বেঁচে থাকার তাড়া। আরেক পাশে অন্য এক পৃথিবী—সংখ্যা দিয়ে ডাকা মানুষ, সময় দিয়ে মাপা শ্বাস, লোহার কপাটে আটকে থাকা প্রার্থনা। সেদিন সন্ধ্যায় ফটকের বাতি জ্বলে উঠেছিল আগেই। বাতির আলোয় কুয়াশা ঝিলমিল করছিল। বাইরে ছোট্ট একটি ভিড়—কেউ সাংবাদিক, কেউ পথচারী, কেউ কেবল মানুষ; যে মানুষ কৌতূহল দেখায় না বলে দাবি করেও কৌতূহলের কাছে হেরে যায়। অ্যাম্বুলেন্স থামল। মুকুল দেখল—কারা-প্রহরী দাঁড়িয়ে। লাল-নীল আলোর ফাঁকে তার মুখটা অন্ধকার, চোখদুটো কঠিন। কিন্তু কঠিন চোখেরও কোথাও একটা নরম দাগ থাকে—যেমন পাথরের গায়ে শ্যাওলা জমে। প্রহরী এগিয়ে এল। — কারা? মুকুল নিচু গলায় বলল, — শেষ দেখা। প্রহরীর চোখ খানিক নড়ল। ‘শেষ দেখা’—এই শব্দটা কোনো কাগজে লেখা থাকে না, কোনো নিয়মে ধরা থাকে

না; কিন্তু মানুষের ভেতর এই শব্দটা এমন এক অনুমতি, যা আইন নয়, তবু আইনকে প্রশ্ন করে। কয়েকজন আত্মীয়কে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলো। বাকিরা বাইরে দাঁড়িয়ে রইল—জীবনের মতোই। জীবনে সবাই সব দরজার ভেতর ঢুকতে পারে না; কিছু দরজা কেবল নির্দিষ্ট কান্নার জন্য খোলে। ভেতরে, এক নির্জন করিডোরে, একজন মানুষকে হাঁটতে বলা হলো। তার নাম কেউ ডাকে না—ডাকে তার মামলা নম্বর, ডাকে তার সেল নম্বর। তবু আজ তাকে নাম ধরে ডাকা হলো। কঠিন কণ্ঠে মাইক বেজে উঠল— — জেল গেট, সেল নম্বর…, সাদ্দাম, জরুরি সাক্ষাৎ। গেটে আসুন। লোকটা থমকে গেল। ‘জরুরি’—এই শব্দটি শুনলেই বন্দিদের বুক কেঁপে ওঠে। জরুরি হয় ভালো খবর, বা ভয়াবহ খবর—মাঝখানে কিছু

থাকে না। সে গেটের দিকে হাঁটল। হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল এক ধরনের ক্লান্তি—যেন কেউ দীর্ঘদিন নিজের শরীর বহন করতে করতে শিখে যায়, শরীর আর তার নিজের থাকে না, কেবল বোঝা হয়ে যায়। ফটকে পৌঁছে প্রথমে সে দেখল—অ্যাম্বুলেন্স। তারপর দেখল—তার কাছের কয়েকজন স্বজন দাঁড়িয়ে, সবাই কাঁদছে। এবং ঠিক তখনই তার মনে হলো—কুয়াশার ভেতর থেকে কেউ যেন তার বুকটা তুলে নিয়ে গেল। তার পা এগোল না। সে শুধু তাকিয়ে রইল। তাকানোর মধ্যেও কত কথা থাকে—যেখানে শব্দ পৌঁছায় না। কারা কর্মকর্তা ধীর গলায় বলল, — সময় কম। পাঁচ মিনিট। পাঁচ মিনিট। মানুষের প্রেম আর মৃত্যুর কাছে সময়ের এই হিসাব কত হাস্যকর! বিয়ে হয় বছরের স্বপ্নে, সন্তান আসে মাসের অপেক্ষায়, আর

বিদায় আসে পাঁচ মিনিটে। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খোলা হলো। কাঠের বাক্স দুটো ধীরে নামানো হলো। বাক্সের ওপর সাদা কাপড়, সাদা কাপড়ের ওপর দু’মুঠো গোলাপ—যেন কেউ ভেবেছিল, গোলাপের গন্ধ দিয়ে শোককে একটু সহনীয় করা যায়। আসামি সাদ্দাম—সে এখন ‘স্বামী’ নয়, ‘বাবা’ও নয়, তবু যেন দুটোই—দুটি বাক্সের সামনে দাঁড়াল। তার হাত বাঁধা ছিল না; কিন্তু সে হাত তুলতে পারল না। হয়তো সে বুঝল, এই স্পর্শের কোনো লাভ নেই। তবু মানুষ লাভের জন্য স্পর্শ করে না—মানুষ স্পর্শ করে প্রমাণ করতে, সে মানুষ। কিছুক্ষণ সে শুধু তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ ফিসফিস করে বলল, — সুবর্ণা… কেউ শুনল না। কিন্তু মৃতরা শুনে ফেলে—আমাদের মাটির এমনই বিশ্বাস। মৃতরা শোনে, কারণ তাদের আর

কোনো কাজ থাকে না; কেবল শোনা আর থাকা। আর জীবিতরা কথা বলে, কারণ তাদের ভেতরে কথা জমে পাথর হয়ে যায়। তার চোখ আটকে গেল ছোট বাক্সটার দিকে—নয় মাসের শিশুর বাক্স। সে মনে মনে হিসাব করল—নয় মাসে কতগুলো সকাল হয়? নয় মাসে কতবার ‘বাবা’ বলা শেখা যায়? এই হিসাবের কোনো উত্তর নেই। উত্তরগুলো বুকের ভেতর দম আটকে দেয়। সে নুয়ে পড়ল। কারা কর্মকর্তা একটু এগোল—ভাবল, লোকটা পড়ে যাবে। কিন্তু লোকটা পড়ল না; সে শুধু মাথাটা বাক্সের ওপর ছুঁয়ে দিল—মাথা দিয়ে ছোঁয়া, যেন হাতের চেয়েও বেশি অসহায়। পাঁচ মিনিটের মধ্যে মানুষ কী করে? কেউ শেষ কথা বলে, কেউ ক্ষমা চায়, কেউ অভিশাপ দেয়। কিন্তু সে কিছুই করল না। কেবল একটুকরো নিঃশব্দ কান্না তার গলার ভেতর আটকে থাকল—যেমন কারাগারের ভেতর বন্দিদের অনেক কথাই আটকে থাকে। তার শ্বশুর ফুঁপিয়ে বলল, — বাবা, তোর বাচ্চাটারে একবার দেখ… সাদ্দাম তাকাল। দেখল তার সন্তানের মুখ—শান্ত, অদ্ভুত শান্ত; যেন সব ঝগড়া, সব কান্না শেষ হয়ে গেছে। তার মনে হলো—বেঁচে থাকা মানুষের মুখ এত শান্ত হয় না। সময় শেষ হলো। সময় সবসময়ই শেষ হয়—সুখেও, দুঃখেও। তবে দুঃখে সময় শেষ হওয়া মানে একধরনের নিষ্ঠুর তালা পড়া। কারা কর্মকর্তা বলল, — চলুন। লোকটা এক পা পিছোল। তারপর আবার থেমে গেল। মনে হলো বলবে—আর এক মিনিট। কিন্তু সে জানত, এ দেশে ‘আর এক মিনিট’ অনেক সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দাবি, আর সবচেয়ে ছোট সম্ভাবনা। সে শুধু একবার পেছনে তাকাল। সেই তাকানোয় এমন একটি দৃষ্টি ছিল, যেন সে নিজের জীবনকেই বিদায় জানাচ্ছে। কারণ কিছু মৃত্যু শুধু মানুষকে মারে না—মানুষের ভবিষ্যৎকেও মারে। কাঠের বাক্স দুটো আবার তোলা হলো। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা বন্ধ হলো। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনরা হাউমাউ করে উঠল। কান্না মানুষকে একসাথে করে—কিন্তু কান্না কোনো সমাধান দেয় না; কেবল জানিয়ে দেয়, আমরা সবাই ভেতরে ভেতরে একরকম ভাঙা। লোকটা আবার করিডোর ধরে হাঁটতে লাগল। এবার হাঁটার ভঙ্গিতে শুধু ক্লান্তি নয়, একটুখানি ফাঁকা ছিল—যেন শরীরটার ভেতর থেকে কেউ আত্মাটা বের করে নিয়ে গেছে; রেখে গেছে কেবল চলাফেরার অভ্যাস। সেই রাতে অ্যাম্বুলেন্স ছুটল বাগেরহাটের দিকে। গ্রামের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত গভীর হলো। জানাজা হলো। লোকেরা কাঁধে করে লাশ নিয়ে গেল। কবর খোঁড়া হলো পাশাপাশি—একটি বড়, একটি ছোট। মাটি পড়ল। ফুল পড়ল। মোনাজাত হলো। বাতাসে আতরের গন্ধ, আর কুয়াশায় কান্নার ভাপ। মুকুল একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। সে কোনো আত্মীয় নয়, কোনো বন্ধু নয়—সে কেবল অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার। অথচ সে বুঝল, আজ সে এক অদ্ভুত সেতু ছিল—এক পৃথিবী থেকে আরেক পৃথিবীতে। এক জীবিতের কাছ থেকে এক মৃতের দিকে, এবং আবার সেই মৃতকে নিয়ে জীবিতদের ভিড়ে ফিরে আসা। কবর দেওয়া শেষে কেউ একজন ফিসফিস করে বলল, — আল্লা বাঁচাইয়া রাখুক ওই ছেলেটারে… জেলে থাইকা কেমনে সহ্য করবে? মুকুল মনে মনে বলল, ‘জেলে থাইকা’ না—কেউই আসলে সহ্য করতে পারে না; কেউ কেবল সহ্য করার ভান করে বাঁচে। কয়েক দিন পর, কারাগারের সেই সাদ্দাম রাতে ঘুমাতে পারল না। ঘুম আসতে চাইলে দুটি মুখ এসে দাঁড়ায়—সুবর্ণার মুখ। আরেকটি মুখ—নাজিমের। কিন্তু মুখগুলো কথা বলে না। কথা বলে কেবল দেয়ালের ফাঁকে ফাঁকে কুয়াশা। এক রাতে সে স্বপ্ন দেখল: কারাগারের গেটটা খুলে গেছে। কিন্তু বাইরে কোনো মানুষ নেই। শুধু দুটি ছায়া দাঁড়িয়ে আছে—একটি বড়, একটি ছোট। বড় ছায়াটা মাথায় আঁচল টেনে আছে। ছোট ছায়াটা হাঁটতে জানে না, তবু হেঁটে আসছে। ছায়া দুটো তার সামনে এসে দাঁড়াল। বড় ছায়াটা বলল, — সময় ছিল পাঁচ মিনিট। কিন্তু ভালোবাসা কি সময় মানে? সে কাঁদতে গিয়ে দেখল, তার চোখে পানি নেই—কেবল আগুন। ছোট ছায়াটা হাত বাড়াল। তার আঙুলগুলো বাতাসের মতো স্বচ্ছ; তবু সে অনুভব করল—একটি স্পর্শ। একবারের জন্য। তারপর মাইক বেজে উঠল স্বপ্নের ভেতরও— — সময় শেষ। সেলে ফিরে যান। সে চমকে উঠে বসে পড়ল। বাইরে রাত। ভেতরে কারাগারের বাতি। দূরে কোথাও একটি ট্রেনের হুইসেল—ট্রেনটা যেন বলছে, জীবন চলে যায়, থামে না। কিন্তু কিছু শোক ট্রেনের মতো নয়—সেগুলো থেমে থাকে এক জায়গায়, পাথরের মতো। তখন সে বুঝল, মৃতরা আসলে কারও সাথে দেখা করতে আসে না। মৃতরা আসে জীবিতদের ভেতরের অসমাপ্ত কথাগুলোকে জাগাতে। তারা আসে বলতে— “আমি নেই”, কিন্তু তোমার মধ্যে আমি থেকে গেছি।​ (লেখকঃ এম হোসেন )

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গান গেয়েই আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, তাই গানকেই লালন করতে চাই: সালমা ভরিতে ৫ হাজার টাকা বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ ভারতীয় করের বোঝাও বাংলাদেশের ওপর! মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, ব্রিটিশ সাংবাদিক ও বিবিসির ভয়েস অব ইন্ডিয়া খ্যাত স্যার মার্ক টালির মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক নৌকা থাকলে গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত : মির্জা ফখরুল ভারত ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত, নতুন ৩টি স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট গঠন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের খেলার সিদ্ধান্ত শুক্র অথবা সোমবার কারা ফটকের পাঁচ মিনিট…… হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে নৌকা নেই, ভোট নেই’: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ডাক আরাফাতের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জামায়াত নেতার অশ্লীল মন্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা দাহ শিবির নেতার ডাকসু বিজয়ের পেছনে নারী শিক্ষার্থীদের সমর্থনের ‘প্রতিদান’ এখন প্রশ্নবিদ্ধ ড: ইউনুস রাষ্ট্রকে ভিক্ষার পণ্যে পরিণত করা এক আন্তর্জাতিক দালাল দাঙ্গা করে ক্ষমতায় বসা মানুষ ইউনুসের কাছে শিশুর জীবনের মূল্য কত? Dehumanization Of Dissenters: Yunus playbook to murder family members of student wing of Awami League ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে না দেওয়া ‘চরম অমানবিক’: আ.লীগের নিন্দা খানকির পোলা তুই জানস না, না? মাগীর পোলা তোর পোলা-মাইয়া আছে না বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেছেন, গত এক বছরে ২০০ থেকে ২৫০ গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে ‘দল হ্যারাই ভালো চালায়’—গ্যাস সংকটের ক্ষোভের মাঝেও আওয়ামী লীগসহ নির্বাচন চাইলেন চালক বন্ধ ৩২৭ কারখানা, কর্মহীন দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক নৌকা থাকলে গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত : মির্জা ফখরুল