ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রস্তুতির বার্তা জেলা থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে
গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে গভীর সংকটে বাংলাদেশ
একপাক্ষিক বিচারে লজ্জিত’: বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরে দাঁড়ালেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ উপদেষ্টা টোবি ক্যাডম্যান
জুলাই ষড়যন্ত্রের’ খেসারত: ২৬টি দেশে পোশাক বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ, গভীর সংকটে অর্থনীতি
“যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক নাই, যেখানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারবে না, সেখানে আমাদের ভোটাররা কেউ ভোট দিবে না” -দেশরত্ন শেখ হাসিনা
সংকীর্তনে হামলা- ইউনুস–জামাতের নীরব আশ্রয়ে উগ্রবাদ এখন মকরসংক্রান্তির উৎসবকেও রেহাই দিচ্ছে না।
ভোট নয়, এটা ফাঁদ – বাংলাদেশকে রক্ষা করতে এই পাতানো নির্বাচনে অংশ নেবেনা বাংলাদেশ
ঋণে ডুবে থাকা রাষ্ট্র: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি
২০২৪ সালের আগস্টে যখন বাংলাদেশে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল, তখন জনমনে আশা জেগেছিল—এবার হয়তো লুটপাটের অর্থনীতির অবসান ঘটবে, ফিরবে শৃঙ্খলা। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আজ ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি দাঁড়িয়ে সেই আশার বেলুনটি যেন চুপসে গেছে। বাংলাদেশ আজ আর কেবল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার গোলকধাঁধায় আটকে নেই, বরং দেশটি প্রবেশ করেছে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক অন্ধকারের যুগে। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মেরামতের বদলে ‘ভেন্টিলেশনে’ পাঠিয়েছে। তাদের নীতিগত অদূরদর্শিতা ও সিদ্ধান্তহীনতা রাষ্ট্রকে এক দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ফাঁদে (Debt Trap) আটকে ফেলেছে।
মাথাপিছু ঋণের পাহাড়: উন্নয়নের ফানুস বনাম বাস্তবতা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক
বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫৫ ডলারে। এক দশক আগেও যা ছিল ২০০ ডলারের নিচে। সাধারণ মানুষের ভাষায় এর অর্থ হলো—আজ জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশু ৬৫৫ ডলার বা প্রায় ৭৮ হাজার টাকার (১ ডলার = ১২০ টাকা ধরে) ঋণ নিয়ে পৃথিবীতে আসছে। অর্থনীতির সাধারণ সূত্র বলে, ঋণ নেওয়া দোষের নয়, যদি তা জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হারে সম্পদ তৈরি করে। কিন্তু গত দেড় বছরে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে জ্যামিতিক হারে, আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ তাদের সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে, যার মূল কারণ হিসেবে তারা ‘নীতিগত অস্থিরতা’
ও ‘শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা’কে দায়ী করেছে। সরকার ঋণ নিচ্ছে পুরনো ঋণ শোধ করতে এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে—যা অর্থনীতির জন্য ‘রেড সিগন্যাল’। বন্ধ্যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো—ঋণের টাকা উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করতে না পারা। প্রথমত, রপ্তানি খাত স্থবির। তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে রপ্তানি ঝুড়ি বড় করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিনিয়োগে খরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত এক বছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি (Capital Machinery) আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এর মানে হলো—নতুন শিল্প হচ্ছে না, পুরনোরাও হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বেকারত্বের হার বাড়ছে, যা
সামাজিক অস্থিরতার বারুদ জমাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি: সংখ্যাতত্ত্বের মিথ্যাচার বনাম বাজারের আগুন সরকারি কাগজে মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০ শতাংশের ঘরে দেখানো হলেও, বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন। চাল, ডাল, তেল ও সবজির মতো নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ১২–১৫ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের আয়ের ৪০-৫০ শতাংশই চলে যাচ্ছে শুধু খাবারের পেছনে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এখানে কেবল দর্শকের। সিন্ডিকেট ভাঙার রাজনৈতিক সাহস তারা দেখাতে পারেনি। উল্টো ‘বাজার মনিটরিং’-এর নামে লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে তারা দায়িত্ব শেষ করেছে। যখন সরবরাহের চেইন ঠিক করার জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো দরকার ছিল, তখন তারা কমিটি গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। মুদ্রাস্ফীতি এখন আর নিছক অর্থনৈতিক সূচক নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামে পরিণত
হয়েছে। রাজস্ব খাদের কিনারে: করের বোঝা ও জনদুর্ভোগ একটি অদ্ভুত ও বিপজ্জনক অর্থনৈতিক চক্রে দেশ আজ বন্দি। সরকারের রাজস্ব আয় বা ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কমছে, অথচ সরকারি ব্যয় কমছে না। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার দুটি পথ বেছে নিয়েছে— ১. ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া (যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে) এবং ২. জনগণের ওপর করের বোঝা চাপানো। গত বাজেটে ভ্যাটের পরিধি বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখন বুমেরাং হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলে ভোগ কমে, ভোগ কমলে উৎপাদন কমে, আর উৎপাদন কমলে রাজস্ব কমে। সরকার এই সহজ সমীকরণটি না বুঝে মানুষের পকেট কাটার নীতি গ্রহণ করেছে। এটি ‘অস্টারিটি’ নয়,
এটি অর্থনৈতিক নিপীড়ন। আস্থাহীনতায় বিনিয়োগের মৃত্যু অর্থনীতি চলে আস্থায় (Confidence), আদেশে নয়। গত দেড় বছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অস্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FDI) প্রশ্ন করছেন— “আগামী পাঁচ বছর নীতি কী হবে? সরকার কে চালাবে?” এই প্রশ্নের উত্তর নেই। ফলে ডলার সংকট কাটছে না, রিজার্ভের পতন ঠেকানো যাচ্ছে না এবং মুডি’স বা ফিচ-এর মতো রেটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দিচ্ছে। আস্থার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে শুধু আইএমএফ-এর ঋণে অর্থনীতি বাঁচানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি সবচেয়ে নির্মম সত্যটি হলো—এই ঋণের বোঝা আজকের নীতিনির্ধারকরা বহন করবেন না। এই সরকারের উপদেষ্টারা বা আমলারা মেয়াদ শেষে
তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন। কিন্তু এই ঋণের কিস্তি শোধ করতে হবে আগামী প্রজন্মকে। শিক্ষা খাতের বাজেট কমিয়ে, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ সংকুচিত করে ঋণের সুদ গুনতে হবে। আমরা কি তবে এমন এক রাষ্ট্র গড়ছি, যেখানে উন্নয়ন মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বন্ধক রাখা? উপসংহার: পথ কোন দিকে? ২০২৬ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে এটা স্পষ্ট যে, ‘সংস্কার’-এর ধুয়া তুলে অর্থনৈতিক অদক্ষতাকে আর আড়াল করা যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারকে বুঝতে হবে—অর্থনীতি কেবল এক্সেল শিটের হিসাব নয়, এটি কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও নিশ্চয়তার প্রশ্ন। যদি এখনই— ১. রাজনৈতিক রোডম্যাপ স্পষ্ট করে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনা হয়, ২. মেগাপ্রকল্পের নামে অনুৎপাদনশীল ব্যয় বন্ধ না করা হয়, ৩. এবং সিন্ডিকেট ভেঙে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না করা হয়, তবে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের দিকে ধাবিত হতে পারে। ঋণ করে ঘি খাওয়া হয়তো যায়, কিন্তু সেই ঋণের দায়ে যখন রাষ্ট্র তার সার্বভৌম অর্থনৈতিক ক্ষমতা হারায়, তখন আর করার কিছু থাকে না। বাংলাদেশ আজ সেই খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়, নতুবা ইতিহাস এই সময়কে ‘ব্যর্থতার অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। তারেক মাহমুদ | রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫৫ ডলারে। এক দশক আগেও যা ছিল ২০০ ডলারের নিচে। সাধারণ মানুষের ভাষায় এর অর্থ হলো—আজ জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশু ৬৫৫ ডলার বা প্রায় ৭৮ হাজার টাকার (১ ডলার = ১২০ টাকা ধরে) ঋণ নিয়ে পৃথিবীতে আসছে। অর্থনীতির সাধারণ সূত্র বলে, ঋণ নেওয়া দোষের নয়, যদি তা জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হারে সম্পদ তৈরি করে। কিন্তু গত দেড় বছরে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে জ্যামিতিক হারে, আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ তাদের সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে, যার মূল কারণ হিসেবে তারা ‘নীতিগত অস্থিরতা’
ও ‘শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা’কে দায়ী করেছে। সরকার ঋণ নিচ্ছে পুরনো ঋণ শোধ করতে এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে—যা অর্থনীতির জন্য ‘রেড সিগন্যাল’। বন্ধ্যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো—ঋণের টাকা উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করতে না পারা। প্রথমত, রপ্তানি খাত স্থবির। তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে রপ্তানি ঝুড়ি বড় করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি বিনিয়োগে খরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত এক বছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি (Capital Machinery) আমদানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এর মানে হলো—নতুন শিল্প হচ্ছে না, পুরনোরাও হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বেকারত্বের হার বাড়ছে, যা
সামাজিক অস্থিরতার বারুদ জমাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি: সংখ্যাতত্ত্বের মিথ্যাচার বনাম বাজারের আগুন সরকারি কাগজে মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০ শতাংশের ঘরে দেখানো হলেও, বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন। চাল, ডাল, তেল ও সবজির মতো নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ১২–১৫ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের আয়ের ৪০-৫০ শতাংশই চলে যাচ্ছে শুধু খাবারের পেছনে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এখানে কেবল দর্শকের। সিন্ডিকেট ভাঙার রাজনৈতিক সাহস তারা দেখাতে পারেনি। উল্টো ‘বাজার মনিটরিং’-এর নামে লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে তারা দায়িত্ব শেষ করেছে। যখন সরবরাহের চেইন ঠিক করার জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো দরকার ছিল, তখন তারা কমিটি গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। মুদ্রাস্ফীতি এখন আর নিছক অর্থনৈতিক সূচক নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামে পরিণত
হয়েছে। রাজস্ব খাদের কিনারে: করের বোঝা ও জনদুর্ভোগ একটি অদ্ভুত ও বিপজ্জনক অর্থনৈতিক চক্রে দেশ আজ বন্দি। সরকারের রাজস্ব আয় বা ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কমছে, অথচ সরকারি ব্যয় কমছে না। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার দুটি পথ বেছে নিয়েছে— ১. ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া (যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে) এবং ২. জনগণের ওপর করের বোঝা চাপানো। গত বাজেটে ভ্যাটের পরিধি বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখন বুমেরাং হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলে ভোগ কমে, ভোগ কমলে উৎপাদন কমে, আর উৎপাদন কমলে রাজস্ব কমে। সরকার এই সহজ সমীকরণটি না বুঝে মানুষের পকেট কাটার নীতি গ্রহণ করেছে। এটি ‘অস্টারিটি’ নয়,
এটি অর্থনৈতিক নিপীড়ন। আস্থাহীনতায় বিনিয়োগের মৃত্যু অর্থনীতি চলে আস্থায় (Confidence), আদেশে নয়। গত দেড় বছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অস্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FDI) প্রশ্ন করছেন— “আগামী পাঁচ বছর নীতি কী হবে? সরকার কে চালাবে?” এই প্রশ্নের উত্তর নেই। ফলে ডলার সংকট কাটছে না, রিজার্ভের পতন ঠেকানো যাচ্ছে না এবং মুডি’স বা ফিচ-এর মতো রেটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দিচ্ছে। আস্থার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে শুধু আইএমএফ-এর ঋণে অর্থনীতি বাঁচানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি সবচেয়ে নির্মম সত্যটি হলো—এই ঋণের বোঝা আজকের নীতিনির্ধারকরা বহন করবেন না। এই সরকারের উপদেষ্টারা বা আমলারা মেয়াদ শেষে
তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন। কিন্তু এই ঋণের কিস্তি শোধ করতে হবে আগামী প্রজন্মকে। শিক্ষা খাতের বাজেট কমিয়ে, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ সংকুচিত করে ঋণের সুদ গুনতে হবে। আমরা কি তবে এমন এক রাষ্ট্র গড়ছি, যেখানে উন্নয়ন মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বন্ধক রাখা? উপসংহার: পথ কোন দিকে? ২০২৬ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে এটা স্পষ্ট যে, ‘সংস্কার’-এর ধুয়া তুলে অর্থনৈতিক অদক্ষতাকে আর আড়াল করা যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারকে বুঝতে হবে—অর্থনীতি কেবল এক্সেল শিটের হিসাব নয়, এটি কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও নিশ্চয়তার প্রশ্ন। যদি এখনই— ১. রাজনৈতিক রোডম্যাপ স্পষ্ট করে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনা হয়, ২. মেগাপ্রকল্পের নামে অনুৎপাদনশীল ব্যয় বন্ধ না করা হয়, ৩. এবং সিন্ডিকেট ভেঙে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না করা হয়, তবে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের দিকে ধাবিত হতে পারে। ঋণ করে ঘি খাওয়া হয়তো যায়, কিন্তু সেই ঋণের দায়ে যখন রাষ্ট্র তার সার্বভৌম অর্থনৈতিক ক্ষমতা হারায়, তখন আর করার কিছু থাকে না। বাংলাদেশ আজ সেই খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়, নতুবা ইতিহাস এই সময়কে ‘ব্যর্থতার অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। তারেক মাহমুদ | রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক



