ঈদের ছুটিতে লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের ভিড় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ May, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ May, ২০২৬ |
ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা লালবাগ কেল্লায় বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। ঈদের দিন ও পরদিন থেকেই পুরান ঢাকার এই মুঘল স্থাপনাটি ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে। এ ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে এসেছেন বিদেশি দর্শনার্থীরাও। শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই লালবাগ কেল্লার মূল ফটক, বাগান এলাকা, পরীবিবির সমাধি ও জাদুঘরের সামনে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। দীর্ঘ লাইন পার হয়ে দর্শনার্থীরা লালবাগ কেল্লায় প্রবেশ করছেন। দেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি কয়েকজন বিদেশি দর্শনার্থীর দেখা মিলেছে শত শত বছরের পুরোনো এ মুঘল দুর্গে। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে অনেকেই ছবি তোলা ও সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত

ঘোষিত এ স্থাপনায় পুরাকীর্তির মধ্যে রয়েছে তিনতলাবিশিষ্ট লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পূর্ব তোরণ, তিন গম্বুজবিশিষ্ট লালবাগ দুর্গ মসজিদ, হাম্মাম ভবন ও পরীবিবির মাজার। পুরাকীর্তির বাইরে রয়েছে লালবাগ দুর্গ জাদুঘর, পুকুর, পানির ট্যাংক, সুউচ্চ দেয়াল ইত্যাদি। দর্শনার্থীরা জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে তারা লালবাগ কেল্লা ঘুরতে এসেছেন। অনেকেই বলেন, রাজধানীর ব্যস্ত জীবনের বাইরে কিছুটা স্বস্তি ও বিনোদনের জন্য পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি তাদের পছন্দের জায়গা। মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে একটু বাইরে ঘুরতে এসেছি। লালবাগ কেল্লার পরিবেশ ভালো লাগছে। ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও সুযোগ হচ্ছে। কেল্লা প্রাঙ্গণে ঘুরতে আসা কলেজশিক্ষার্থী তাসনিম আক্তার বলেন, ছোটবেলা

থেকে লালবাগ কেল্লার নাম শুনে আসছি। এজন্য ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। পুরান ঢাকার পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সবসময়ই আকর্ষণ করে। পরিবেশটা খুবই সুন্দর, তবে ভিড় একটু বেশি। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আসা আলমগীর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বছরের অন্য সময় কাজের চাপে কোথাও যাওয়া হয় না। এখানে এসে ভালো লাগছে। ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও মিলছে। দর্শনার্থীদের চাপ সামাল দিতে কেল্লা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে পুরো এলাকায়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মাইকিংও করা হয়। লালবাগ কেল্লা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটির কারণে অন্যান্য দিনের

তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনও এ ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, প্রতিবছর এখানে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। প্রতিদিন লালবাগ কেল্লা দেখতে আসে দেশি-বিদেশি প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থী। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ দর্শনার্থী রয়েছেন। বিদেশি দর্শনার্থীরা এখানে কেল্লার ইতিহাস জানতে আসেন। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি মুঘল আমলে নির্মিত। ১৭শ শতকে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র প্রিন্স মোহাম্মদ আজম শাহ ঢাকায় সুবাদার থাকাকালে ১৬৭৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। পরে নবাব শায়েস্তা খান এর কাজ সম্পন্ন করেন। কেল্লার ভেতরে রয়েছে পরীবিবির সমাধি, দরবার হল ও

হামামখানা, যা মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি ঢাকার সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেখানে একইসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে কষ্টিপাথর, মার্বেল পাথরসহ নানান রঙ-বেরঙের টালি। লালবাগ কেল্লা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনে এমন বৈচিত্র্যময় সংমিশ্রণ পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাফের ‘প্লে অন পিরিয়ড’ প্রকল্পের পার্টনার সেনোরা চলতি বছর শেষে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করবেন ট্রাম্প মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত টমাস জোন্সের নামে নিউইয়র্কের সৈকত ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটরের দেশত্যাগ, নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানালেন চিফ প্রসিকিউটর সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়া নয়, ঐকমত্য ও অন্তর্ভুক্তির তাগিদ তরঙ্গের দাম সাশ্রয়ী হলে টেলিযোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়বে, বললেন ভিওনের সিইও কান তেরজিওগ্লো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল শ্রমিকদের উপর হামলার ভিডিও করায় পিটিয়ে শ্রমিকহত্যা; এই মৃত্যুর দায়ও আওয়ামীলীগের উপর চাপালো সরকার শ্রমিক আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের: নাহিদ ইসলাম পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা বিশ্বকাপ ফাইনালকেও ছাড়াল উয়েফার চাপে বিশ্বকাপ বিক্রি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে রাজি ফিফা ইউরোপের বিভিন্ন সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা নিউজিল্যান্ডের শিক্ষার্থী ভিসায় আনল চারটি পরিবর্তন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ২ নভেম্বর (সোমবার) বিকেল ৫টায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুকের তত্ত্বাবধানে অবৈধ স্ট্যান্ড, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট এবং অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড সরিয়ে সড়ক ও ফুটপাতকে পরিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞাপন ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট এবং অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় পথচারীরা জানান যে, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে বাধা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। ফুটপাত দখল থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলতে হতো, যা যানজট বাড়িয়ে দিত। সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং এই সুফল বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, যানজট কমানো এবং পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা জরুরি এবং কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ মেনে নেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে, সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৩০ আহত, ৬০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা