ঈদের ছুটিতে হারিয়ে যান সুন্দরবনের সৌন্দর্যে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ May, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে হারিয়ে যান সুন্দরবনের সৌন্দর্যে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ May, ২০২৬ |
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। যার প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি নিশ্বাসেই লুকিয়ে আছে রোমাঞ্চ, রহস্য আর বিস্ময়ের অনন্ত গল্প। অত্যাধুনিক লঞ্চ, জাহাজ কিংবা ক্রুজে চড়ে সুন্দরবন ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়। প্রকৃতির একদম কাছাকাছি থেকে এবারের ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে চাইলে সুন্দরবন হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। সুন্দরবনের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসতে পারেন করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা ও কচিখালী থেকে। বনের গহীনে ঘুরতে ঘুরতে চিত্রা হরিণ কিংবা ভাগ্য ভালো হলে দেখাও মিলতে পারে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। সুন্দরবনের শান্ত ও সবুজ পরিবেশ আপনার ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সুন্দরবনে ঘুরে দেখার মতো স্পট সুন্দরবনে বিলাসবহুল লঞ্চ বা ক্রুজে রাত কাটাতে পারেন। সাধারণত খুলনা বা মোংলা থেকে

তিন দিনের বিভিন্ন প্যাকেজে এসব ভ্রমণ পরিচালনা করা হয়। তবে আপনি যদি ডাঙায় বা স্থলে থাকতে চান, তাহলে মোংলার পর্যটন মোটেল ‘পশুর’ অথবা ঢাংমারীর কোনো ইকো-রিসোর্টে থাকতে পারেন। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবনজুড়েই পর্যটকদের জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অপার সুযোগ রয়েছে। ঘুরে দেখার মতো স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে শরণখোলার টাইগার পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত কটকা, কচিখালীর অভয়ারণ্যকেন্দ্র, করমজল বন্যপ্রাণী ও কুমির প্রজননকেন্দ্র, কলাগাছিয়ার ইকোট্যুরিজম সেন্টার, হিরণ পয়েন্ট খ্যাত নীলকমল অভয়ারণ্য, দুবলারচর, মানিকখালী, আন্দারমানিক ও দোবেকী এলাকা। থাকতে পারেন ইকো কটেজে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের ঢাংমারি গ্রামের সুন্দরী ইকো রিসোর্ট, জঙ্গলবাড়িসহ ২০-২৫টি কটেজ, বাগেরহাটের মোংলার দক্ষিণ চিলায় বাদাবন ইকো কটেজ, কয়রার বানিয়াখালীতে নিশিকুড়ি রিসোর্ট, ইরাবতী

ইকো রিসোর্টসহ সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কমিউনিটি ট্যুরিজম কেন্দ্র। কর্পোরেট, কাস্টমাইজড, ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট ও বাইকার, সব ধরনের পর্যটকের জন্যই রয়েছে ব্যবস্থা। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা ইকো সিস্টেমে তৈরি এসব কটেজে থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়া, বনের ছোট খালে নৌকা ভ্রমণ, কটেজের ফলগাছ থেকে দেশীয় ফল খাওয়া, পুকুরে সাঁতার, বড়শি বা জাল দিয়ে মাছ ধরা, গ্রাম্য হাট ও জেলে পল্লী ঘুরে দেখা, সব মিলিয়ে ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। সন্ধ্যায় বিচ চেয়ারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ কিংবা রাতে খোলা আকাশের নিচে বারবিকিউ পার্টিও জমে ওঠে। যেভাবে যাবেন সুন্দরবন একদিনেই সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলে করমজল পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারেন। ঢাকার মতিঝিল, আরামবাগ, শ্যামলী, কল্যাণপুর ও

গাবতলী থেকে গ্রিনলাইন, সোহাগ, হানিফ, ঈগল ও এ কে ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এ ছাড়া সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলার উদ্দেশে চলাচল করে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় আগের তুলনায় কম সময়েই খুলনায় পৌঁছানো সম্ভব। খুলনায় ট্রেনে কিংবা যশোর পর্যন্ত বিমানে গিয়েও সড়কপথে মোংলা যাওয়া যায়। পাশাপাশি নৌপথেও সুন্দরবনে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়। তবে লঞ্চ বা জাহাজে যেতে হলে খুলনা ও মোংলা থেকেই যাত্রা করতে হবে। ট্রলার ও জলযান সুবিধা পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার চালনা ও

সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় রয়েছে অসংখ্য ট্রলার। এক দিনের সফরে মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকী ঘুরে দেখা যায়। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে গেলে সাধারণত সব ধরনের ফি প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে নিজ উদ্যোগে গেলে প্রতিটি জায়গার প্রবেশ ফি আলাদাভাবে দিতে হয়। বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রায় ৬০টি জলযান রয়েছে। একেকটি জলযানে ৬ জন থেকে শুরু করে ৭৫ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারেন। পর্যটক বরণে প্রস্তুত সুন্দরবন অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা সুন্দরবন উপভোগ করতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরের আকর্ষণীয় প্যাকেজ। সাধারণত তিন দিন দুই রাতের

প্যাকেজ বেশি জনপ্রিয়। এতে ভ্রমণের অনুমতিপত্র, খাওয়াদাওয়া, থাকা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। হলিডেজ শিপিং লাইন্সের স্বত্বাধিকারী আবুল ফয়সাল মো. সায়েম বাংলানিউজকে বলেন, এই ঈদে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন প্রকৃতির সবচেয়ে রহস্যময় সৌন্দর্যের মাঝে। আমাদের রয়েছে লাক্সারি ক্রুজ এমভি দ্য ওয়েভ-১ ও এমভি দ্য ওয়েভ-২। এছাড়া লাক্সারি কেবিন, সুস্বাদু খাবার, লাইভ গাইড, নিরাপত্তা, সুইমিংপুল, অ্যাডভেঞ্চার ও নেচার এক্সপ্লোরেশনের সুবিধা রয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে বন বিভাগ প্রস্তুত। আগতদের নিরাপত্তায় বনকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড। বনকে দস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা

করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের