ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত!
আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব!
স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?
কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!
অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঠেকাতে পারেননি: সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের স্বীকারোক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ মার্চ ২০২৬: অন্তর্বর্তী সরকারের (মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন) সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সস্তায় মাংস, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে তিনি শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন, কিন্তু সরকারের ভেতরে থেকেও চুক্তিটি ঠেকাতে পারেননি।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা স্ট্রিম কার্যালয়ে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট: ক্যাবের ১৩ দফা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, “সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঠেকাতে পারিনি। শেষ দিন পর্যন্ত লড়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত না পারার দায়
আমারও রয়েছে।” তিনি চুক্তির গোপনীয়তা নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের চুক্তি হচ্ছে, সেখানে আমরা গোপন রাখার কথা মেনে নিয়ে বসে আছি। এমনকি সরকারের ভেতরেও সবাই সবটুকু জানতে পারবে না। এটা তো হতে পারে না।” তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোলট্রির বাচ্চা, ক্যাটফিশ ও নাড়িভুঁড়ি আমদানির অনুমোদন চায়। কিন্তু দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের ঝুঁকি—বিশেষ করে জেনোটিক রোগের সম্ভাবনা—বিবেচনা করে তারা আপত্তি জানান। ফরিদা আখতার আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের টেস্টিং ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে আসার আগে নিজস্ব পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু চুক্তিতে সেই
সুযোগ নেই। ওখানে যা আছে সেটাই মানতে হবে।” তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদিত মাংস বাংলাদেশে ‘ডাম্পিং’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। “যে মাংসগুলো আসবে, সেগুলো ওভার প্রোডাকশনের। জেনেটিক্যালি মডিফাইড সয়াবিন-কর্ন খাওয়ানো হয়েছে এবং ওরা সেগুলো সমুদ্রে ফেলতে পারছে না বলে আমরা তাদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হতে যাচ্ছি।” এতে দেশের প্রায় ২ কোটি খামারি ও পশুপালন-নির্ভর মানুষের জীবিকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।ফরিদা আখতার বলেন, “আমাদের দেশে গরু-ছাগল পালন করে বিপুল মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। যদি বিদেশি মাংস কম দামে বাজারে আসে, তাহলে আমাদের খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কার্যকাল
নিয়ে বলেন, “অনেকেই বলছেন– ইউনূস সরকারের সময় পুরোপুরি হতাশাজনক। বিষয়টি এত সরল নয়। প্রতিদিন আন্দোলন, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, প্রশাসনিক অস্থিরতা—সবকিছু সামলে কাজ করতে হয়েছে। গত ১৫ বছরের জমে থাকা নানা দাবি সেই সময়েই মেটানোর চাপ ছিল। ফলে অনেক কাজ শুরু করা গেলেও সবকিছু করা সম্ভব হয়নি। তাই পুরো সময়কে শুধু হতাশা হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না।” এই স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে জনমতকে আরও জোরালো করতে পারে। বর্তমান সরকারের অধীনে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের দাবি উঠেছে। খামারি সংগঠনগুলোও এই চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আমারও রয়েছে।” তিনি চুক্তির গোপনীয়তা নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের চুক্তি হচ্ছে, সেখানে আমরা গোপন রাখার কথা মেনে নিয়ে বসে আছি। এমনকি সরকারের ভেতরেও সবাই সবটুকু জানতে পারবে না। এটা তো হতে পারে না।” তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোলট্রির বাচ্চা, ক্যাটফিশ ও নাড়িভুঁড়ি আমদানির অনুমোদন চায়। কিন্তু দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের ঝুঁকি—বিশেষ করে জেনোটিক রোগের সম্ভাবনা—বিবেচনা করে তারা আপত্তি জানান। ফরিদা আখতার আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের টেস্টিং ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে আসার আগে নিজস্ব পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু চুক্তিতে সেই
সুযোগ নেই। ওখানে যা আছে সেটাই মানতে হবে।” তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদিত মাংস বাংলাদেশে ‘ডাম্পিং’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। “যে মাংসগুলো আসবে, সেগুলো ওভার প্রোডাকশনের। জেনেটিক্যালি মডিফাইড সয়াবিন-কর্ন খাওয়ানো হয়েছে এবং ওরা সেগুলো সমুদ্রে ফেলতে পারছে না বলে আমরা তাদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হতে যাচ্ছি।” এতে দেশের প্রায় ২ কোটি খামারি ও পশুপালন-নির্ভর মানুষের জীবিকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।ফরিদা আখতার বলেন, “আমাদের দেশে গরু-ছাগল পালন করে বিপুল মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। যদি বিদেশি মাংস কম দামে বাজারে আসে, তাহলে আমাদের খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কার্যকাল
নিয়ে বলেন, “অনেকেই বলছেন– ইউনূস সরকারের সময় পুরোপুরি হতাশাজনক। বিষয়টি এত সরল নয়। প্রতিদিন আন্দোলন, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, প্রশাসনিক অস্থিরতা—সবকিছু সামলে কাজ করতে হয়েছে। গত ১৫ বছরের জমে থাকা নানা দাবি সেই সময়েই মেটানোর চাপ ছিল। ফলে অনেক কাজ শুরু করা গেলেও সবকিছু করা সম্ভব হয়নি। তাই পুরো সময়কে শুধু হতাশা হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না।” এই স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে জনমতকে আরও জোরালো করতে পারে। বর্তমান সরকারের অধীনে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের দাবি উঠেছে। খামারি সংগঠনগুলোও এই চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।



