আলেপ্পোর অধিকাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১ ডিসেম্বর, ২০২৪

আলেপ্পোর অধিকাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ |
জিহাদি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর অধিকাংশ স্থান দখল করার পর শনিবার সিরিয়ার দ্বিতীয় প্রধান শহরটির বিমানবন্দর ও এর আশপাশের কয়েকটি শহর দখল করে নিয়েছে। একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একথা জানিয়েছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায় সিরিয়ার বিদ্রোহীরা আলেপ্পো শহরের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সবশেষ দেশটির সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে বিদ্রোহীরা শহরের ‘বড় অংশে’ ঢুকে পড়েছে। তবে, তারা পাল্টা হামলার চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বুধবার এ লড়াই শুরুর পর থেকে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত তিনশ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এসওএইচআর। ২০১৬ সালে বিদ্রোহীদের ওই শহর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলো প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের

সরকারি বাহিনী। এরপর থেকে গৃহযুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই বিদ্রোহীদের বড় লড়াই। শনিবার প্রেসিডেন্ট আসাদ ‘সব সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের মোকাবেলা করে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও ভূখণ্ডগত সংহতি রক্ষার অঙ্গীকার করেন’। “সন্ত্রাসীদের আক্রমণ যতই জোরালো হোক না কেন আমাদের সহযোগী ও বন্ধুদের সহায়তায় তাদের পরাজিত ও নিশ্চিহ্ন করা কোন ব্যাপারই নয়। সেই সক্ষমতা আমাদের দেশের আছে,” প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তাকে উদ্ধৃত করে এ মন্তব্য করেছে। ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছেন। পরে আসাদ সরকার গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান শুরু করলে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। তবে, ২০২০ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে সংঘাত প্রায় বন্ধই ছিলো। যদিও বিরোধী বাহিনীগুলো দেশটির

উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব শহর এবং ওই প্রদেশের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলো। আলেপ্পো শহর থেকে ইদলিবের দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। ২০১৬ সালে সরকারি বাহিনীর হাতে পতনের আগ পর্যন্ত এটি ছিলো বিদ্রোহীদের একটি শক্ত ঘাঁটি। এবার জিহাদি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামস (এইচটিএস) এবং এর কয়েকটি সহযোগী গ্রুপ আলেপ্পো আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটি তুরস্ক সমর্থিত একটি গোষ্ঠী। এইটিএসকে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়া সবচেয়ে কার্যকরী বলে মনে করা হয়। তারা এর মধ্যেই ইদলিব নিয়ন্ত্রণ করছে। এসওএইচআর জানিয়েছে বিদ্রোহীরা এর মধ্যেই আলেপ্পো বিমানবন্দর ও আশেপাশের এক ডজনের বেশি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। তারা একই সাথে ওই এলাকায় কারফিউ জারি করেছে যা রোববার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে

জানানো হয়েছে। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, বিদ্রোহীরা আলেপ্পো এবং ইদলিবের কয়েকটি জায়গায় বড় ধরনের হামলা করেছে এবং প্রায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশী এলাকা জুড়ে লড়াই চলছে। লড়াইয়ে কয়েক ডজন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে সামরিক বাহিনী। এদিকে, রাশিয়ার বিমান বাহিনী শনিবার আলেপ্পোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। গৃহযুদ্ধ যখন চরমে উঠেছিলো তখনো আসাদ সরকারকে ক্ষমতায় রাখার ক্ষেত্রে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৬ সালে সরকারি বাহিনী আলেপ্পো পুনর্দখল করে নিয়েছিলো। এরপর থেকে এবারের হামলাই শহরকে ঘিরে প্রথম ঘটনা। ওই এলাকা থেকে পাওয়া ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে আলেপ্পো থেকে বের হওয়ার সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। কারণ লোকজন প্রাণ বাঁচাতে ওই সড়ক দিয়েই শহর ছেড়ে যাচ্ছে। হায়াত তাহরির আল -শামস

কারা ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এ গোষ্ঠীটির নাম ছিলো জাবাত আল নুসরা, যা ছিলো সরাসরি আল-কায়েদা জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত। এর গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কথিত আইএস গ্রুপের নেতা আবু বকর আল বাগদাদী। এই গোষ্ঠীটিই প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও প্রাণঘাতী ছিলো বলে অনেকে মনে করেন। তবে, এটি বিপ্লবের চেয়ে জিহাদি আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করা হয়। ফ্রী সিরিয়া নামে বিদ্রোহীদের যে জোট হয়েছিলো সেখানে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছিলো। ২০১৬ সালে এই গোষ্ঠীর নেতা আবু মোহাম্মেদ আল জাওলানি প্রকাশ্যেই আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেন এবং জাবাত আল নুসরাকে বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন তৈরি করেন। এর নামই রাখা হয় হায়াত

তাহরির আল -শামস এবং পরে এর সাথে আরও কিছু ছোট গোষ্ঠী যোগ দেয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রাউজানে থামছেই না লাশের মিছিল: ৩ দিনের ব্যবধানে ফের বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা মাইকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় যুবককে পিটুনি কুড়িগ্রামে তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক বন্ধ আদম ব্যবসার মূলে এনসিপি নেতা ‘ফ্যাসিস্ট নয়, বাংলাদেশের আর্টিস্ট শেখ হাসিনা’ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আর্জি এনসিপি নেত্রী মিতুর দুই হলফনামায় ঘাপলা: তিন মাসেই সম্পদ বৃদ্ধি ৫৫%, বেড়েছে সোনাও, উৎস অজানা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল রোহিঙ্গা প্রকল্পের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস-এপিএসদের ফ্রান্স-ইতালি-তুরস্ক সফর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই চট্টগ্রাম কাস্টমস, পোশাক খাতের অর্ডার কমেছে ২০% বহুমুখী সংকটে শিল্পখাত, টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে সিমেন্টসহ উৎপাদন খাত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান ছেড়ে মস্কো রওনা, কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ, সাত গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ শতাধিক কোটি টাকা অনুদান তোলার পরেও তহবিলশূন্যতায় জুলাই ফাউন্ডেশন! পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি: দেশের ৮ বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি ক্রমশ বেপরোয়া রোহিঙ্গারা: ১৩ লাখ জনঅধ্যুষিত ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা চরমে, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা রান্নার কষ্ট দূর করতে নারীদের জন্য আসছে তারেক রহমানের ‘এলপিজি কার্ড’ অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে অনুসরণ করতে পারেন এই ১০টি ধাপ বিয়ের স্বপ্নে মালয়েশিয়ায় যেতে মরিয়া রোহিঙ্গা তরুণীরা জাপানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত