ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফসলহানির শঙ্কা
শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফের তৎপর
বিমানবন্দরের রানওয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে
যুক্তরাজ্যের ‘ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ৪ বাংলাদেশি
সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
লক্ষ্য আন্দোলনে লাশ বৃদ্ধি স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর!
৭৪ কারাগারে ২৩ অ্যাম্বুলেন্স: সংকটের অজুহাতে পথেই রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যু
দেশের কারাগারগুলোতে অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের রিকশা, ভ্যান বা সাধারণ গাড়িতে করে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স সংকটকে অনেক সময় অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে বিশেষ করে রাজনৈতিক বন্দিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও অবহেলা করা হয়। এতে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বাড়ছে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৪৯১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন আরও ১ হাজার ৫৭৭ জন বন্দি।
তবে এত মৃত্যুর পরও নতুন অ্যাম্বুলেন্স কেনার উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে
অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৭৪ কারাগারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স মাত্র ২৩টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৫টি কেন্দ্রীয় ও ৫৯টি জেলা কারাগারসহ মোট ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ১৫৭ জন হলেও বাস্তবে সেখানে প্রায় ৭৮ হাজার বন্দি রয়েছে। অনেক সময় এ সংখ্যা ৯০ হাজারেও পৌঁছে যায়। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক বন্দির জন্য অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৩টি। এর মধ্যে টিওএন্ডইভুক্ত ১৫টি এবং প্রকল্পের আওতায় কেনা ৮টি। ফলে অনেক কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে নিতে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ বন্দিকেও দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না
থাকলে বিকল্প গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে ঝুঁকি থেকেই যায়।” পথে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। সাধারণ গাড়িতে অক্সিজেন বা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কয়েক দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো অনুমোদন পাইনি। অ্যাম্বুলেন্স থাকলে পথে চিকিৎসা চালু রাখা যায়, সাধারণ গাড়িতে তা সম্ভব হয় না।” তার ভাষায়, অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে অনেক সময় প্রশাসনকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সাড়ে
তিন বছরেও কেনা হয়নি অ্যাম্বুলেন্স কারা অধিদপ্তর প্রথমে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ১০৭টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রস্তাব দেয়। পরে বাজেট কমিয়ে ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় সাড়ে তিন বছর পার হলেও এখনো কোনো অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়নি। সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে অন্তত ৪৪টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেটিও এখনো অনুমোদন পায়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রস্তাবটি কয়েক দফা ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি আবারও বিবেচনায় রয়েছে। কারা হেফাজতে মৃত্যুর উদ্বেগজনক চিত্র মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে বা হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১১২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারা সূত্রে জানা গেছে,
২০২২ সালে কারা হেফাজতে ১৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১৫৫ জন, ২০২৪ সালে ১২০ জন এবং ২০২৫ সালে ১৭২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকারের প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগারে থাকা মানুষও রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা নাগরিক। তাই তাদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মানবাধিকার গবেষক ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন, “কারাগারে থাকা মানুষও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে তা শুধু প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নয়, মানবাধিকারের প্রশ্নও।” সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাইদ বলেন, রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ব্যক্তির জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের আইনি বাধ্যবাধকতা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সরকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন,
কারাগারে জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সংকট দূর করা জরুরি। অন্যথায় অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন ঝুঁকির মুখে থাকবে, তেমনি কারা ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থাও আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৭৪ কারাগারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স মাত্র ২৩টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৫টি কেন্দ্রীয় ও ৫৯টি জেলা কারাগারসহ মোট ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এসব কারাগারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ১৫৭ জন হলেও বাস্তবে সেখানে প্রায় ৭৮ হাজার বন্দি রয়েছে। অনেক সময় এ সংখ্যা ৯০ হাজারেও পৌঁছে যায়। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক বন্দির জন্য অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৩টি। এর মধ্যে টিওএন্ডইভুক্ত ১৫টি এবং প্রকল্পের আওতায় কেনা ৮টি। ফলে অনেক কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে নিতে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ বন্দিকেও দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না
থাকলে বিকল্প গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে ঝুঁকি থেকেই যায়।” পথে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। সাধারণ গাড়িতে অক্সিজেন বা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কয়েক দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো অনুমোদন পাইনি। অ্যাম্বুলেন্স থাকলে পথে চিকিৎসা চালু রাখা যায়, সাধারণ গাড়িতে তা সম্ভব হয় না।” তার ভাষায়, অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে অনেক সময় প্রশাসনকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সাড়ে
তিন বছরেও কেনা হয়নি অ্যাম্বুলেন্স কারা অধিদপ্তর প্রথমে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ১০৭টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার প্রস্তাব দেয়। পরে বাজেট কমিয়ে ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় সাড়ে তিন বছর পার হলেও এখনো কোনো অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়নি। সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে অন্তত ৪৪টি অ্যাম্বুলেন্স কেনার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেটিও এখনো অনুমোদন পায়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রস্তাবটি কয়েক দফা ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি আবারও বিবেচনায় রয়েছে। কারা হেফাজতে মৃত্যুর উদ্বেগজনক চিত্র মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে বা হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১১২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারা সূত্রে জানা গেছে,
২০২২ সালে কারা হেফাজতে ১৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১৫৫ জন, ২০২৪ সালে ১২০ জন এবং ২০২৫ সালে ১৭২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকারের প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগারে থাকা মানুষও রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা নাগরিক। তাই তাদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মানবাধিকার গবেষক ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন, “কারাগারে থাকা মানুষও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে তা শুধু প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নয়, মানবাধিকারের প্রশ্নও।” সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাইদ বলেন, রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ব্যক্তির জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের আইনি বাধ্যবাধকতা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সরকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন,
কারাগারে জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সংকট দূর করা জরুরি। অন্যথায় অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন ঝুঁকির মুখে থাকবে, তেমনি কারা ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থাও আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



