ভারতেই শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ার কে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩ November, ২০২৬

ভারতেই শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ার কে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ November, ২০২৬ |
মার্কিন ড্রোন হামলাকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের কার্যকর অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন মার্কিন গবেষক ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি. ক্রিস্টিন ফেয়ার। পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য অস্বীকার থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংস্থার গবেষণাকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দেওয়া—বিভিন্ন সময়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর গবেষণার অর্থায়ন, মার্কিন সরকারের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক এবং গবেষণার ফলাফলের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Salon।
২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর সাংবাদিক বেন নর্টনের প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের শিরোনাম

ছিল,
Not playing fair: How Christine Fair, defender of U.S. drone program in Pakistan, twists the facts — and may have conflicts of her own।
প্রতিবেদনটিতে ফেয়ারের গবেষণার তথ্য, তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য, মার্কিন সরকারের অর্থায়ন এবং ড্রোন হামলার বিরোধিতাকারী গবেষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর বিতর্কের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনের মূল প্রশ্ন ছিল—যে গবেষক অন্যদের গবেষণাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রত্যাখ্যান করেন, তাঁর নিজের গবেষণার অর্থায়ন ও রাজনৈতিক সম্পর্ক কতটা স্বচ্ছ?
ড্রোন হামলায় বেসামরিক মৃত্যু

অস্বীকার, পরে অবস্থান পরিবর্তন
২০১০ সালে ফেয়ার দাবি করেছিলেন, মার্কিন ড্রোন হামলায় নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে না। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার কারণে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কিন্তু সে সময় নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশনের গবেষক পিটার বার্গেন ও ক্যাথরিন টাইডেম্যানের গবেষণায় ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় ২৫০ থেকে ৩২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। মোট নিহতের ৩১ থেকে ৩৩ শতাংশ ছিল বেসামরিক নাগরিক।
পরবর্তী সময়ে ফেয়ার ড্রোন হামলায়

বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাঁর অবস্থান ছিল, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ড্রোন হামলা কার্যকর এবং হতাহতের ঘটনা সত্ত্বেও এটি সবচেয়ে কার্যকর সামরিক উপায়গুলোর একটি।
অর্থাৎ, বেসামরিক প্রাণহানির অস্তিত্ব অস্বীকার করার পরও তিনি সামরিক কার্যকারিতার যুক্তিতে সেই হামলার পক্ষে অবস্থান বজায় রাখেন।

পাকিস্তানে গবেষণার জন্য মার্কিন দূতাবাসের প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার

বেন নর্টনের অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্য উঠে আসে, তা হলো পাকিস্তানের জনমত নিয়ে ফেয়ারের গবেষণায় মার্কিন সরকারের অর্থায়ন।

dir="auto">প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের Office of Public Affairs থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারের অনুদান পান। পরের বছর ২০১২ সালেও একই সংস্থা থেকে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পান।
দুই বছরে মোট অর্থায়নের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের মানুষের সংবাদমাধ্যম ব্যবহারের ধরন, রাজনৈতিক ধারণা এবং ইসলামপন্থী জঙ্গিবাদ সম্পর্কে জনমত বিশ্লেষণ করা। ফেয়ারের নিজের বক্তব্য ও প্রকাশিত সিভি অনুযায়ী, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ২০১১-১২ সালে পাকিস্তানের ১৬ হাজার মানুষের ওপর জরিপ পরিচালনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের

অর্থায়ন সংগ্রহ করেছিলেন। অন্যদিকে ২০১৩ সালে পরিচালিত পৃথক জরিপে ৭ হাজার ৬৫৬ জন উত্তরদাতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল, পাকিস্তানের মানুষ কেন মার্কিন ড্রোন হামলার বিরোধিতা করে।
ফেয়ার ও তাঁর সহযোগীদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে ড্রোন হামলার নেতিবাচক প্রচারণা এবং সাধারণ মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা তাদের মনোভাবকে প্রভাবিত করে। তাঁদের গবেষণায় প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে বলা হয়, পাকিস্তানের মানুষ ড্রোন হামলা সম্পর্কে যতটা সচেতন বলে মনে করা হয়, বাস্তবে ততটা সচেতন নাও হতে পারে।
এখানেই গবেষণার অর্থায়ন

নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। যে দেশের সামরিক অভিযানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, সেই দেশের সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় যদি ওই সামরিক নীতির বিরোধিতাকে সংবাদমাধ্যমের প্রভাব বা তথ্যের ঘাটতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে গবেষণার স্বাধীনতা ও অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
ফেয়ার অবশ্য বেন নর্টনের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অনুদানের অধিকাংশ অর্থ পাকিস্তানের একটি জরিপ প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় হয়েছে এবং মার্কিন সরকার গবেষণার ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করেনি।
তবে অর্থায়ন ও গবেষণার বিষয়বস্তুর এই সম্পর্ক সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।

আন্তর্জাতিক স্তরে দক্ষিণ এশিয়া পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ার মনে করেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় একজন নারীকে ফাঁ/সি দেওয়া বেশ কঠিন। শেখ হাসিনা যদি ফেরেন এবং দেশে মা/রা যান, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তা সমস্যার তৈরি করতে পারে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বললে বলতে হয় ভারত চাইবে যে তিনি ভারত ছেড়ে চলে যান। কিন্তু আবার কোনো দেশ তাঁকে নিতে রাজি হবে না। সেটাও একটা ইস্যু। এই অবস্থায় ভারত তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না। সূত্র: প্রথম আলো

সিআইএর সঙ্গে কাজের স্বীকারোক্তি

প্রতিবেদনে ফেয়ারের আরেকটি পেশাগত সম্পর্কের তথ্যও উঠে আসে। ফেয়ার স্বীকার করেন, RAND Corporation-এ কর্মরত থাকার সময় তিনি সিআইএর দুটি প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছিলেন। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। তবে তিনি জানান, সেই গবেষণা ড্রোন হামলাসংক্রান্ত ছিল না।
RAND-এ তাঁর প্রায় ১০ বছরের কর্মজীবনে মার্কিন বিমানবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিসংক্রান্ত কাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখানে সিআইএর সঙ্গে কাজ করাকে সরাসরি ড্রোনবিষয়ক গবেষণায় সিআইএর নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে একজন গবেষকের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ পেশাগত সম্পর্ক থাকলে তাঁর গবেষণার স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের পছন্দের তথ্য গ্রহণ, বিরোধী গবেষণাকে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা

ফেয়ারের গবেষণার আরেকটি বড় বিতর্ক হলো, ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশিত গবেষণা ও জনমত জরিপকে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। স্ট্যানফোর্ড ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের যৌথ গবেষণা Living Under Drones-এ পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রতিবেদনটি তৈরি করতে নয় মাস ধরে গবেষণা, শত শত সাক্ষাৎকার এবং হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি ও সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু ফেয়ার গবেষণাটিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রভাবিত advocacy work হিসেবে সমালোচনা করেন। একইভাবে তিনি Bureau of Investigative Journalism-এর ড্রোন হামলায় হতাহতের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে ড্রোন হামলার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি Associated Press-এর সাংবাদিক সেবাস্তিয়ান অ্যাবটের একটি অনুসন্ধানকে গুরুত্ব দেন। ওই অনুসন্ধানে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ১০টি হামলার ঘটনাস্থলে প্রায় ৮০ জন গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানি গবেষক মুহাম্মদ ইদ্রিস আহমেদের প্রশ্ন ছিল, ফেয়ার যে গবেষণাকে দুর্বল নমুনার কারণে প্রত্যাখ্যান করছেন, তার তুলনায় অনেক ছোট পরিসরের একটি অনুসন্ধানকে কীভাবে বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করছেন?
আহমেদের অভিযোগ, ফেয়ার নিজের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যসূত্রকে বেশি গুরুত্ব দেন, অথচ বিপরীত অবস্থানের গবেষকদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কঠোর প্রমাণের দাবি করেন।

ড্রোন হামলার পক্ষে বিতর্কিত জরিপের তথ্যসূত্র

ফেয়ার পাকিস্তানের উপজাতীয় অঞ্চলগুলোতে ড্রোন হামলার প্রতি জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ফারহাত তাজ নামের একজন গবেষকের বক্তব্য ও Aryana Institute for Regional Research and Advocacy (AIRRA)-এর একটি জরিপ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানি গবেষক মুহাম্মদ ইদ্রিস আহমেদ জরিপটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তাঁর অভিযোগ ছিল, AIRRA-এর কার্যক্রম ও গবেষণার পদ্ধতি যথেষ্ট স্বচ্ছ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটও অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। জরিপের তথ্য ও দাবির সঙ্গে বৃহত্তর জনমত জরিপের ফলাফলের অসামঞ্জস্যও তিনি তুলে ধরেন। অন্যদিকে ২০১৪ সালের Pew Research জরিপে পাকিস্তানের ৬৬ শতাংশ মানুষ মার্কিন ড্রোন হামলার বিরোধিতা করে এবং ৬৭ শতাংশ মানুষ মনে করে, এসব হামলায় অতিরিক্ত নিরপরাধ মানুষ নিহত হচ্ছে।
ফেয়ার এসব জরিপের পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন।
সমালোচকদের প্রশ্ন ছিল, যে গবেষক একটি ছোট ও বিতর্কিত জরিপকে ড্রোন হামলার প্রতি স্থানীয় জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন, তিনি কেন বৃহত্তর জনমত জরিপের ক্ষেত্রে একই ধরনের নমনীয়তা দেখান না?

ড্রোনবিরোধী সাংবাদিকদের আক্রমণ

২০১৫ সালের অক্টোবরে আল জাজিরার UpFront অনুষ্ঠানে সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ডের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেন ফেয়ার।
গ্রিনওয়াল্ড ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য ও মার্কিন সামরিক নীতির সমালোচনা করেন। ফেয়ার তাঁকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেন এবং বিতর্কের সময় বারবার বাধা দেওয়ায় উপস্থাপক মেহদি হাসান তাঁকে কথা বলার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনওয়াল্ডকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন ফেয়ার। তিনি তাঁকে ‘pathological liar’ বলেও মন্তব্য করেন।
বেন নর্টনের প্রতিবেদনে ফেয়ারের এসব বক্তব্যের পাশাপাশি পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারতের প্রতি পাকিস্তানকে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পরাস্ত করার আহ্বানসংবলিত তাঁর পুরোনো মন্তব্যও তুলে ধরা হয়।

অর্থায়ন ও এজেন্ডার প্রশ্নে গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা

ফেয়ারের বক্তব্য ও গবেষণার সমালোচনা করতে গিয়ে বেন নর্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয় সামনে আনেন। ফেয়ার যখন ড্রোন হামলার বিরোধী গবেষকদের পক্ষপাতদুষ্ট বলেন, তখন তাঁদের অর্থায়ন, গবেষণায় সহায়তাকারী সংস্থা এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তাঁর নিজের গবেষণায় মার্কিন সরকারের অর্থায়ন এবং সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের বিষয়টি একইভাবে আলোচনায় আসা প্রয়োজন।
গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড Salon-কে বলেন, ফেয়ারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণ তাঁর অর্থায়নের উৎস নয়, বরং তাঁর যুক্তি ও দাবিগুলো। তবে অন্যদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা একজন গবেষকের নিজের গবেষণায় মার্কিন দূতাবাসের অর্থায়নের বিষয়টি উল্লেখ না করা অবশ্যই একটি বিদ্রূপাত্মক পরিস্থিতি।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক সারা ওয়াহিদও ফেয়ারের কাজের সমালোচনা করে বলেন, তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে বারাক ওবামা প্রশাসনের টার্গেটেড কিলিং কর্মসূচির পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্যের প্রবণতা রয়েছে।

তথ্যের চেয়ে নীতিগত অবস্থান বড় হয়ে উঠছে?

ক্রিস্টিন ফেয়ারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সবকিছু প্রমাণিত গবেষণাগত অসদাচরণ নয়। তিনি মার্কিন সরকারের অর্থায়ন পাওয়ার কথা অস্বীকার করেননি, বরং বলেছেন অর্থায়ন তাঁর গবেষণাকে প্রভাবিত করেনি। সিআইএর সঙ্গে তাঁর কাজের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন, তবে সেটিকে ড্রোন গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেননি।
কিন্তু এসব তথ্যের পাশাপাশি তাঁর গবেষণার ফলাফল, তথ্যসূত্র নির্বাচনের পদ্ধতি এবং ড্রোন হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তনের ইতিহাস বিবেচনা করলে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: তাঁর গবেষণার সিদ্ধান্ত কি স্বাধীন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি, নাকি আগে থেকে নির্ধারিত মার্কিন নিরাপত্তানীতির পক্ষে যুক্তি প্রতিষ্ঠার প্রবণতা সেখানে প্রভাব ফেলেছে?
বিশেষ করে, ২০১০ সালে বেসামরিক প্রাণহানি অস্বীকার করা, পরে প্রাণহানি স্বীকার করেও হামলার পক্ষে অবস্থান বজায় রাখা এবং ড্রোনবিরোধী গবেষণাকে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার ঘটনাগুলো তাঁর গবেষণার নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। মার্কিন সরকারের অর্থায়ন পাওয়া মানেই কোনো গবেষক সরকারের নির্দেশে কাজ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কিন্তু যখন অর্থদাতা রাষ্ট্রের সামরিক নীতির পক্ষে গবেষণার ফলাফল যায় এবং গবেষক নিজেই বিরোধী গবেষণাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আক্রমণ করেন, তখন অর্থায়ন ও গবেষণার সম্ভাব্য এজেন্ডা জনসমক্ষে আসা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রীলঙ্কার কোচের হুমকি, ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স কুমিল্লা ইলিশবাহী পিকআপে ডাকাতির পর ১৯ আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া নিয়ে ডিআরইউ ও ক্র্যাবের উদ্বেগ ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন এবার কুয়েতে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এইচআরডব্লিউ: শেখ হাসিনাকে সমর্থন করায় শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে, বাকস্বাধীনতা নেই দেশে জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? সাফ সভাপতি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, তাই সাফ আয়োজনে প্রচারণা নেই বাফুফের বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের নিপীড়নের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করা হয়, জানান সহকর্মীরা ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার