ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
শ্রমিকদের উপর হামলার ভিডিও করায় পিটিয়ে শ্রমিকহত্যা; এই মৃত্যুর দায়ও আওয়ামীলীগের উপর চাপালো সরকার
মিরপুরে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ভিডিও পাঠিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ
জাতীয় জমির বাণিজ্যিকীকরণে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা
প্রবীণদের সুস্থ রাখতে দূর করতে হবে একাকিত্ব
এইচএসসির ফল প্রকাশের দিনে ছেলের শোকে ভেঙে পড়লেন বাবা
ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ২৭ মাস ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে গ্রেফতার এড়িয়ে চলা এই প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতাকে অবশেষে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে তাঁকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ অনেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গ্রেফতার হয়েছেন। অনেকে দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ছিলেন আলোচিত সেই ব্যক্তিদের একজন, যিনি সরকারের পতনের
পরও দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে চলাফেরা ও পেশাগত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে তাঁকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান চললেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁদের দীর্ঘদিন গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ তৎকালীন ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন—এমন অভিযোগও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। ইউনূস সরকারের সময় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিল।
হলো, তাঁকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে কি না। প্রাথমিক পুলিশি বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে কিংবা ডিবিসি কার্যালয়ের ঘটনার সঙ্গে তাঁর আটকের সম্পর্ক কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ২৭ মাস পেরিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্য উপদেষ্টাকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা তাই রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরও দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে চলাফেরা ও পেশাগত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে তাঁকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ডিবিসি কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ
বুধবার দুপুরে মহাখালীর ডিবিসি নিউজ কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিবিসি কার্যালয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মো. আখতার হোসেনও জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক বক্তব্যে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, তখন পর্যন্ত তাঁকেআনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
২৭ মাসেও গ্রেফতার হননি, এপ্রিলে বিমানবন্দর থেকে ফেরত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী অনেকটা আড়ালে চলে যান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সৌদি আরবগামী ফ্লাইটে ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর যাত্রা সম্ভব হয়নি। তবে সে সময় তাঁকে ফেরত পাঠানোর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি।ইউনূস আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের নিরাপদ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারেরঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান চললেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁদের দীর্ঘদিন গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ তৎকালীন ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন—এমন অভিযোগও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। ইউনূস সরকারের সময় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিল।
কে এই ইকবাল সোবহান চৌধুরী?
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দেশের একজন পরিচিত সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা। তিনি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ফেনী-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ডিবিসি নিউজের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত।গ্রেফতার, নাকি কেবল জিজ্ঞাসাবাদ?
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়হলো, তাঁকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে কি না। প্রাথমিক পুলিশি বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে কিংবা ডিবিসি কার্যালয়ের ঘটনার সঙ্গে তাঁর আটকের সম্পর্ক কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ২৭ মাস পেরিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্য উপদেষ্টাকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা তাই রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





