বাইরের ঝড়ঝাপ্টা খুব একটা গায়ে লাগতে দিইনি: নীপা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাইরের ঝড়ঝাপ্টা খুব একটা গায়ে লাগতে দিইনি: নীপা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
শামীম আরা নীপা। বরেণ্য নৃত্যশিল্পী। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠান আয়োজন করছে নৃত্যাঞ্চল। এ আয়োজন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে নৃত্য সংগঠনটির পরিচালক শামীম আরা নীপার সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন। নৃত্যাঞ্চল ২৫ বছর পূর্ণ করল। পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকালে কেমন অনুভূতি হয়? প্রতিটি পরিবারে কান্না-হাসি থাকবে। আমাদের সময়টাও সেভাবে গেছে। একত্র হয়ে আমরা একেবারে নিজেদের শিক্ষার্থী নিয়ে পথ চলেছি। বাইরের ঝড়ঝাপ্টা খুব একটা গায়ে লাগতে দিইনি। আমরা চেষ্টা করেছি সবাই মিলে সুন্দরভাবে কাজ করার। আমরা দারুণ আনন্দিত এ কারণে যে এই পরিবারের মধ্যে মেলবন্ধন ও ভালোবাসার জায়গাটা অনেক শক্ত। এই ভালোবাসার জন্য দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কোনো ক্লান্তি

নেই, ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। আমরা এই জগৎকে যতটুকু পারি দেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের আগে যে অঙ্গীকার ছিল, এখনও সেটিই আছে। রজতজয়ন্তীর আয়োজনটি কীভাবে সাজিয়েছেন? নানা আয়োজনে তিন দিনের অনুষ্ঠান সাজিয়েছি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উদ্বোধনী র‍্যালি হয়েছে। সেখানে নতুন-পুরোনো শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। শিশুদের মতো করে অনুষ্ঠান হয় না এ দেশে। এটি জোর দিয়ে বলতে পারি। শিশুরা বড়দের গানের সঙ্গে নাচ করে। বড়দের মতো করে তাদের অভিব্যক্তি, বড়দের মতো চিন্তাভাবনা থাকে। সেখান থেকে সরে গিয়ে নৃত্যাঞ্চল নতুন একটি প্রযোজনা তৈরি করেছে। শিশুদের একটি স্বপ্নীল জগৎ তৈরি করেছি, যেখানে তারা তাদের মতো করে ভাবতে পারবে। শিশুদের এখন কল্পনাশক্তি বলতে কিছু নেই। সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে

থাকে। আজ (শনিবার) থাকবে অন্যরকম একটি আয়োজন। আমরা যে বীজ রোপণ করেছিলাম, তার রং, রূপ, রস কেমন–তা দেখানোর চেষ্টা করব। আমাদের হাত ধরে নতুন প্রজন্ম এসেছে, তারা কেমন পারফর্ম করে, দর্শকদের তা দেখানোর চেষ্টা থাকবে। হল না পাওয়ার কারণে পরিকল্পনায় কিছু সমস্যা হয়েছে। একেবারে শেষে হল পেয়েছি বলে আরও কিছু পরিকল্পনা আমাদের চিন্তা থেকে বাদ দিতে হয়েছে। অনেক সেমিনার ও ওয়ার্কশপ ছিল। সেগুলো করতে পারিনি। বর্তমান সময়ের নৃত্যশিল্প ও আড়াই দশক আগের পরিস্থিতির মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য দেখতে পান? দুই রকম পরিবর্তন দেখতে পাই। শুরুর দিকে অনেক স্ট্রাগল ছিল। নাচকে সামনে নিয়ে আসাই তো বড় স্ট্রাগল। আমাদের আগে যারা নাচ করেছেন, তাদের

তো আরও স্ট্রাগল ছিল। অনেকে লুকিয়ে নাচ করতেন। পরিবারকে জানাতেন না। এখন একেবারে ভিন্ন চিত্র। বাবা-মা নিজেরা নাচের ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন। এটি একটি বড় দিক। দ্বিতীয়ত, এখন হুড়োহুড়ি আছে। আগে সাধনা করে শিল্পী হব, সে চিন্তা ছিল। এখন অনেকে রাতারাতি পরিচিত হতে চাইছে। আমাদের কাছে যারা আসে, তারা শিল্পী হতে আসে। আমাদের কাছে এসে আবদার করে না যে আমার সন্তান কবে স্টার হবে, টিভিতে দেখা যাবে! তারা শিখতে নৃত্যাঞ্চলে আসছে। আমরা আনন্দিত, অভিভাবকরা আমাদের সেই সাপোর্ট দেন। এই যে আমরা এত বড় অনুষ্ঠান করছি, অভিভাবকদের সহযোগিতা না পেলে তা করা সম্ভব হতো না। আমাদের বড় শক্তি অভিভাবক। তারা অনেক কষ্ট স্বীকার

করেন আমাদের জন্য। নৃত্যাঞ্চলের প্রযোজনায় সবসময় দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন দেখা যায়। আপনাদের কোরিওগ্রাফির দর্শন কী? আমাদের স্বকীয়তা থাকবে, সেটাই চাই। পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকতে হবে। পিছিয়ে পড়লে চলবে না। সারাবিশ্ব যেভাবে ভাবছে, আমরা সেভাবে ভাবব। কিন্তু আমাকে যেন আমার মতো করে দর্শকরা পায়। আমার দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকবে। যেটি আজ নেই বললে চলে। যা দেখলাম, তা কপি-পেস্ট করে লাগিয়ে দিয়ে বড় বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান করছি–এটি হওয়া উচিত নয়। নিজের দেশকে আমি যদি তুলে না ধরতে পারি, সে ব্যর্থতা আমাদের। আমাদের সংস্কৃতি বলে কিছু থাকবে না। সবই ধার করা হয়ে যাবে। সেটি আমরা চাই না। নৃত্যশিল্পের উন্নয়নে রাষ্ট্রের কাছে

আপনাদের প্রত্যাশা কী? আমরা কাজের ক্ষেত্র ও পরিবেশ চাই। আমাদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আমরা সরকারের কাছে অনুদান চাই না। আমাদের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। দেশে অনেক মেধাবী কোরিওগ্রাফার আছেন। তারা কাজ না করতে করতে বসে যান। আমার স্কুলটা না থাকলে কাজের ক্ষেত্র থাকত না। স্কুলের মাধ্যমে আমার স্কিলটা দেখাতে পারি। অনেকের এ রকম স্কুল নেই। যে কারণে কাজ দেখাতে পারেন না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে যারা নাচকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী? নাচ যে ভালো করে শিখবে, এটি তার জন্য বড় একটি পেশা হতে পারে। এখন অনেক জায়গাতে নাচের চাহিদা আছে। কেউ যদি ভালো করে শিখতে পারে, শেখাতে পারে,

তাহলে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। শিক্ষকতারও অনেক সুযোগ আছে। এ প্রজন্ম নাচ শিখতে চায়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তারা নাচ শিখে যাচ্ছে। এখন তো অনেক সুযোগ। অনেক টিভি চ্যানেল। সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। ভালো করলে তার কদর আছে। একটা ভালো কাজ সহজে ছড়িয়ে পড়ে। যোগ্য শিল্পীকে খুঁজে নিতে সমস্যা হয় না। শুদ্ধ নাচ দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। নৃত্যাঞ্চল নিয়ে আগামীর স্বপ্নের কথা বলুন... ভালো কাজ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের সেই শীর্ষ জায়গাটিতে নিয়ে যেতে চাই, যেখানে তারা পৃথিবীটাকে ছুঁতে পারে। দেশের পতাকাকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি। আমার বড় কোনো অনুষ্ঠান করার জন্য রিহার্সালের জায়গা নেই। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারে, দেশের মান রাখতে পারে–এটুকুই চাওয়া।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, নিন্দা ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হেঁটে যা‌চ্ছিলেন যুবক, গুলি চালিয়ে হত্যা করল তিন দুর্বৃত্ত হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু শিশুকাল থেকে শুরু করে ১২০ সিনেমা, যন্ত্রণায় ভরা ছিল অভিনেত্রীর জীবন হরমুজে সংকট, বাব আল-মান্দাবে হুতিদের চাপ—বিশ্ববাজারে তেল পৌঁছাবে কীভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলো নিয়ম মানার পাশাপাশি নিয়ম তৈরিও করবে: মোদি জি-৭কে ‘তথাকথিত’ উল্লেখ করে ব্রিকসের অর্থনৈতিক শক্তির বন্দনায় পুতিন গুদামে সার আছে, তবুও কৃষক পাচ্ছেন না বাইরের ঝড়ঝাপ্টা খুব একটা গায়ে লাগতে দিইনি: নীপা ‘দশকের শেষ নাগাদ মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে এআই’ ‘আমার বয়স ৬০, আমি কি অন্তঃসত্ত্বা’, কোন প্রসঙ্গে এমন বললেন অভিনেত্রী বাড়ছে পদ্মার পানি, বন্যার আভাস হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করল সৌদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃক্ষ বন্দনা’ ‘ধরা তরু কাব্য’ অনু‌ষ্ঠিত ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার হামলায় এআই ব্যবহারের বিস্ফোরক দাবি অ্যানথ্রোপিকের রিজওয়ান-ইমামের আর্থিক লেনদেন ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্ত হামে মৃত্যু হাজার পার, ডেঙ্গুতে হাহাকারঃ স্বাস্থ্য খাতের চরম প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব ‘মাগো আমারে নিয়া যাও’: টানা ৩ মাস মাদ্রাসায় শিশুকে ধর্ষণ, শিক্ষকের দাবি- ‘তাবিজ বা জীনের প্রভাবে পায়ুতে ক্ষত’ ২ বছর আগে চাকরিচ্যুত কর্মস্থল থেকে সাংবাদিক পুলক চট্টোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: পা ছিল মেঝেতে