ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জামায়াত-শিবির নেতাদের প্রতারণা: শরিয়াসম্মত ব্যবসার নামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা
উড়োজাহাজ থেকে ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার
চাঁদাবাজির থাবায় অচল মেহেরপুরের বড়বাজার, খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৪ জনের মৃত্যু
লোডশেডিংয়ের সুযোগে গায়েব হচ্ছে ট্রান্সফর্মার, উল্টো জরিমানা গুণতে হয় গ্রাহকদের!
স্কুল প্রাঙ্গণে ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, শিক্ষিকার ৭ বছরের জেল
চার লাখ কৃষকের জন্য টিএসপি ১০৪৫ টন
সরকারের দাবি সারের মজুদ পর্যাপ্ত, বাজারের চিত্র উল্টো: শুধু এক জেলার কৃষকের অতিরিক্ত ৩৭৫ কোটি টাকা ঢুকছে কার পকেটে?
যশোরে আমন মৌসুমে সারের কোনো ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও বাড়তি অর্থ গুণতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ইউরিয়া ও টিএসপিসহ নানান ধরনের সার সরকার নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও চড়া দামে খোলাখুলি বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এই দামের পুরো দায়ভার এসে চেপেছে প্রান্তিক চাষিদের ওপর।
কৃষকদের দাবি, সার কিনতে গিয়ে কেবল হয়রানিই পোহাতে হচ্ছে না, বরং নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা খসাতে হচ্ছে তাদের পকেট থেকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে সাঝে লোকদেখানো অভিযান ও জরিমানা করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দাম হাঁকানো রোখার মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেই তারা মনে করেন।
চলতি
আমন মৌসুমে যশোরের শেখহাটি গ্রামের চাষি কবীর হোসেন দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এই চাষের জন্য তার দরকার ৩০ কেজি টিএসপি সার। বহু ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে স্থানীয় জামরুলতলা বাজারের একটি দোকান থেকে তিনি ২৫ কেজি টিএসপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও তাকে দিতে হয়েছে সরকারের ঠিক করা মূল্যের দ্বিগুণ টাকা। নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে কবীর হোসেন বলেন, ‘সবার সামনেই তো দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি চলছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই। দোকানদার চেনা লোক বলেই না হয় আমার থেকে দ্বিগুণের চেয়ে সামান্য কম রাখলেন; কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই অন্য এক ক্রেতার কাছে টিএসপি সার কেজিপ্রতি ৫২ টাকা দরে বেচে
দিলেন।’ অন্যদিকে তরিকুল ইসলাম নামের এক সার ব্যবসায়ী সাফাই গেয়ে বলেন, ‘বাজারে সারের চরম ঘাটতি চলছে। নিত্যদিনই সারের দাম ওঠানামা করায় আমাদের নিজেদেরই তো বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি বাঁধাধরা দামে তো আর আমাদের পক্ষে সার বেচা সম্ভব নয়।’ ঠিক একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারনালী গ্রামের চাষি আবদুল আলিমও। চার বিঘা আমন জমির খোরাক জোগাতে খোলাবাজার থেকে কেজিপ্রতি ৫২ টাকা দরে ২০ কেজি টিএসপি কিনতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। হিসাবের খাতা অনুযায়ীই বাড়তি ৩৭৫ কোটি টাকা যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
উক্ত জমির জন্য প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন সার। যার মধ্যে ইউরিয়ার প্রয়োজনীয়তা ৬৮ হাজার ৯০৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৭ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪৩ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন এবং এমওপি ২৫ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন। কৃষক পর্যায়ে নির্ধারিত সরকারি দর বজায় থাকলে এই বিপুল সারের সর্বমোট মূল্য দাঁড়াত আনুমানিক ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর ভেতর ইউরিয়ার জন্য ১৮৬ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার, টিএসপির জন্য ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৬ হাজার, ডিএপির জন্য ৯০ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার এবং এমওপির জন্য ৫১ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারিত। তবে সিন্ডিকেটের হাত
ধরে সরকার নির্ধারিত হারের দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি করা হলে কৃষকদের পকেট থেকে খসবে মোট ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মতো। এর সহজ অর্থ হলো, সারের সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে কৃষকদের থেকে অতিরিক্ত লুটে নেওয়া হবে প্রায় ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির কারণে কৃষকদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদেরই। ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়েও দাম লাগামে আনা যাচ্ছে না; চোরের মতো লুকিয়ে হোক কিংবা প্রকাশ্যে, বাড়তি টাকা ব্যবসায়ীরা হেঁকেই যাচ্ছেন।’ তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কৃষি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে
দিচ্ছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে দায়সারা মন্তব্য করে চেপে যেতে চাইলেও সরেজমিনে বাজার ঘুরে প্রায় দ্বিগুণ দরে সার বেচাকেনার সত্যতা সুস্পষ্ট হয়েছে। বরাদ্দ ও মজুদ পর্যাপ্ত, তবুও কৃত্রিম সংকট কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মাসের বরাদ্দ হিসেবে যশোরে ৮ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ২ হাজার ৮১০ টন টিএসপি, ২ হাজার ১৪০ টন ডিএপি এবং ২ হাজার ২৩১ টন এমওপি সার উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। ওই একই দিন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুদামে গচ্ছিত ছিল ৩ হাজার ৭ ৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ হাজার ১৪৮ টন টিএসপি, ১ হাজার ২৯ টন ডিএপি ও ১ হাজার ৪১৩ টন এমওপি। এই চার পদের সারের মোট
গুদামজাত মজুদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টনে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের গুদামে চাহিদানুরূপ সার মজুদ রাখা আছে, ফলে বাড়তি দামে বেচার কোনো সুযোগই নেই। কেউ এমনটি করলে কঠোর শাস্তি পাবে এবং অভিযোগ এলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’ কিন্তু হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার বিক্রির যে অভিযোগ উঠে এসেছে, সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টিকে একবাক্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এদিকে যশোর সদরের বাহাদুরপুর বাফার গুদামের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আক্তারুল ইসলাম জানান যে, যশোর, নড়াইল ও মাগুরায় সবচেয়ে বেশি ইউরিয়া সার সরবরাহ করে থাকে তাদের দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের কাছে গচ্ছিত ছিল ১৩ হাজার ৮৪৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। অভিযান চালিয়েও রোখা যাচ্ছে না অসাধু চক্র চড়া দামে সার বেচাকেনার অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে কয়েকটি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। ২ আগস্ট অভয়নগর উপজেলার মরিচা ও শুভরাড়া বালুরঘাট বাজারে অভিযান চালিয়ে দুই সার ডিলারকে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উক্ত অভিযানের পরিচালনায় ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু। তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামের এক বস্তা টিএসপি ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছিলেন মেসার্স মাসুদ-মামুন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুদ মোল্লা। এই অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই অপরাধে মেসার্স ভাই ভাই কৃষি স্টোরের মালিক রিয়াজ উদ্দীনকে জরিমানা করা হয় ৫০০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালত উভয় ব্যবসায়ীর থেকে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করেন। অপরদিকে ২৫ আগস্ট চৌগাছা উপজেলার কুটিপাড়া এলাকায় আলমসাধুতে করে ঝিকরগাছার উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে ৩৭ বস্তা সার আটকে দেয় স্থানীয় জনগণ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এবং সারের চালানসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চান। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এসি ল্যান্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো বাজেয়াপ্ত করেন। সরকারি খাতায় জেলাজুড়ে সারের কোনো অভাব না থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ে হাহাকার—এই দুইয়ের মধ্যকার অসঙ্গতি নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চাষিদের দাবি, দু-একটি বিক্ষিপ্ত অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ কড়া নজরদারিতে এনে নির্দিষ্ট দামে সারের ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করা না গেলে চলতি আমন মৌসুমে তাদের ধান উৎপাদনের খরচ আকাশচুম্বী হতে বাধ্য। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আমন মৌসুমে যশোরের শেখহাটি গ্রামের চাষি কবীর হোসেন দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এই চাষের জন্য তার দরকার ৩০ কেজি টিএসপি সার। বহু ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে স্থানীয় জামরুলতলা বাজারের একটি দোকান থেকে তিনি ২৫ কেজি টিএসপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও তাকে দিতে হয়েছে সরকারের ঠিক করা মূল্যের দ্বিগুণ টাকা। নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে কবীর হোসেন বলেন, ‘সবার সামনেই তো দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি চলছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই। দোকানদার চেনা লোক বলেই না হয় আমার থেকে দ্বিগুণের চেয়ে সামান্য কম রাখলেন; কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই অন্য এক ক্রেতার কাছে টিএসপি সার কেজিপ্রতি ৫২ টাকা দরে বেচে
দিলেন।’ অন্যদিকে তরিকুল ইসলাম নামের এক সার ব্যবসায়ী সাফাই গেয়ে বলেন, ‘বাজারে সারের চরম ঘাটতি চলছে। নিত্যদিনই সারের দাম ওঠানামা করায় আমাদের নিজেদেরই তো বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি বাঁধাধরা দামে তো আর আমাদের পক্ষে সার বেচা সম্ভব নয়।’ ঠিক একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারনালী গ্রামের চাষি আবদুল আলিমও। চার বিঘা আমন জমির খোরাক জোগাতে খোলাবাজার থেকে কেজিপ্রতি ৫২ টাকা দরে ২০ কেজি টিএসপি কিনতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। হিসাবের খাতা অনুযায়ীই বাড়তি ৩৭৫ কোটি টাকা যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
উক্ত জমির জন্য প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন সার। যার মধ্যে ইউরিয়ার প্রয়োজনীয়তা ৬৮ হাজার ৯০৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৭ হাজার ৫৯৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪৩ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন এবং এমওপি ২৫ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন। কৃষক পর্যায়ে নির্ধারিত সরকারি দর বজায় থাকলে এই বিপুল সারের সর্বমোট মূল্য দাঁড়াত আনুমানিক ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর ভেতর ইউরিয়ার জন্য ১৮৬ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার, টিএসপির জন্য ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৬ হাজার, ডিএপির জন্য ৯০ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার এবং এমওপির জন্য ৫১ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারিত। তবে সিন্ডিকেটের হাত
ধরে সরকার নির্ধারিত হারের দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি করা হলে কৃষকদের পকেট থেকে খসবে মোট ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মতো। এর সহজ অর্থ হলো, সারের সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে কৃষকদের থেকে অতিরিক্ত লুটে নেওয়া হবে প্রায় ৩৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির কারণে কৃষকদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদেরই। ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়েও দাম লাগামে আনা যাচ্ছে না; চোরের মতো লুকিয়ে হোক কিংবা প্রকাশ্যে, বাড়তি টাকা ব্যবসায়ীরা হেঁকেই যাচ্ছেন।’ তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কৃষি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে
দিচ্ছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে দায়সারা মন্তব্য করে চেপে যেতে চাইলেও সরেজমিনে বাজার ঘুরে প্রায় দ্বিগুণ দরে সার বেচাকেনার সত্যতা সুস্পষ্ট হয়েছে। বরাদ্দ ও মজুদ পর্যাপ্ত, তবুও কৃত্রিম সংকট কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, ২৫ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মাসের বরাদ্দ হিসেবে যশোরে ৮ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ২ হাজার ৮১০ টন টিএসপি, ২ হাজার ১৪০ টন ডিএপি এবং ২ হাজার ২৩১ টন এমওপি সার উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। ওই একই দিন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুদামে গচ্ছিত ছিল ৩ হাজার ৭ ৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ হাজার ১৪৮ টন টিএসপি, ১ হাজার ২৯ টন ডিএপি ও ১ হাজার ৪১৩ টন এমওপি। এই চার পদের সারের মোট
গুদামজাত মজুদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টনে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের গুদামে চাহিদানুরূপ সার মজুদ রাখা আছে, ফলে বাড়তি দামে বেচার কোনো সুযোগই নেই। কেউ এমনটি করলে কঠোর শাস্তি পাবে এবং অভিযোগ এলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’ কিন্তু হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার বিক্রির যে অভিযোগ উঠে এসেছে, সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টিকে একবাক্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এদিকে যশোর সদরের বাহাদুরপুর বাফার গুদামের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আক্তারুল ইসলাম জানান যে, যশোর, নড়াইল ও মাগুরায় সবচেয়ে বেশি ইউরিয়া সার সরবরাহ করে থাকে তাদের দপ্তর। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের কাছে গচ্ছিত ছিল ১৩ হাজার ৮৪৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। অভিযান চালিয়েও রোখা যাচ্ছে না অসাধু চক্র চড়া দামে সার বেচাকেনার অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে কয়েকটি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে। ২ আগস্ট অভয়নগর উপজেলার মরিচা ও শুভরাড়া বালুরঘাট বাজারে অভিযান চালিয়ে দুই সার ডিলারকে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উক্ত অভিযানের পরিচালনায় ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার বসু। তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামের এক বস্তা টিএসপি ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছিলেন মেসার্স মাসুদ-মামুন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুদ মোল্লা। এই অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই অপরাধে মেসার্স ভাই ভাই কৃষি স্টোরের মালিক রিয়াজ উদ্দীনকে জরিমানা করা হয় ৫০০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালত উভয় ব্যবসায়ীর থেকে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করেন। অপরদিকে ২৫ আগস্ট চৌগাছা উপজেলার কুটিপাড়া এলাকায় আলমসাধুতে করে ঝিকরগাছার উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে ৩৭ বস্তা সার আটকে দেয় স্থানীয় জনগণ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এবং সারের চালানসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চান। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এসি ল্যান্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো বাজেয়াপ্ত করেন। সরকারি খাতায় জেলাজুড়ে সারের কোনো অভাব না থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ে হাহাকার—এই দুইয়ের মধ্যকার অসঙ্গতি নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চাষিদের দাবি, দু-একটি বিক্ষিপ্ত অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ কড়া নজরদারিতে এনে নির্দিষ্ট দামে সারের ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করা না গেলে চলতি আমন মৌসুমে তাদের ধান উৎপাদনের খরচ আকাশচুম্বী হতে বাধ্য। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



