ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
এবার রাহুলের পক্ষে সরব বিজয়ের টিভিকে
বিক্ষোভের মুখে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ
ভারতে আন্দোলন ছড়িয়েছে কয়েক রাজ্যে, চাপ বাড়াচ্ছে ককরোচ
‘২০ বছর বনাম ৪ মাস’—ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পালটা জবাব
নিজেদের কি ভগবান ভাবেন? শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ক্ষুব্ধ অরিজিৎ সিং
আটক হওয়ার পর এখন কোথায় আছেন রাহুল গান্ধী?
মানচিত্রের বদলে ১ টাকার কয়েনে স্থান পেল মঠ, ভারত-নেপাল সম্পর্কে কি নতুন বার্তা?
যন্তর-মন্তরের আন্দোলন মোদির জন্য এবার কেন আলাদা
পুলিশের ধরপাকড়ের (সোমবার) পরদিনই (মঙ্গলবার) দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থী ও তরুণদের উপস্থিতি জানান দেয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয় বরং বৃহৎ জনস্বার্থকেন্দ্রিক আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর আগের মেয়াদের তুলনায় এই আন্দোলনের ধরনও আলাদা।
একাধিক ব্যারিকেড, দিল্লির কয়েক’শ পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের বিপুল সদস্য থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরের পর যন্তর-মন্তরে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শরীরে ব্যান্ডেজ বাঁধা অনেক তরুণ-তরুণীও ছিলেন। এ থেকে বোঝা যায়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একদিন পরও তারা আন্দোলনে ফিরে আসেন, থেমে যাননি।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে আবার দিল্লি ও রাজধানীর বাইরে ভারতের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে এসেছেন। সোমবারের সহিংসতা ও পুলিশের লাঠিপেটার
ভিডিও দেখার পরও তারা এসেছেন। তাদের সামাজিক পরিচয় এবং অঞ্চলও বৈচিত্র্যময়। ইংরেজি ঘেঁষা তরুণ-তরুণী, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, দিল্লির বাসিন্দা, বাইরে থেকে আসা মানুষ এমনকি অভিভাবকদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। যাদের সন্তানরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়েছে কিংবা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিহারের বাসিন্দা অভিজিৎ কুমার (পরিবর্তিত নাম) পাঞ্চাবে পড়াশোনা করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিলে মারধরের ভিডিও দেখার পর তিনি দিল্লি আসার সিদ্ধান্ত নেন। অভিজিতের পাশেই থাকা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা কয়েক তরুণ জানান, তারাও ভিডিও দেখার পর মুম্বাই থেকে এসেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। এই দাবি তরুণদের মন ছুঁয়ে
গেছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে সবাই এখন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে বিষয়টা তেমন নয়। অন্যদিকে, নেতৃত্বহীন আন্দোলনে বাড়তি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন শিক্ষা ও জলবায়ু বিষয়ক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার দিল্লির সেই মিছিলে প্রায় ৫০ হাজার তরুণের জমায়েত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। যা শুনে কেন্দ্রের এক মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করলেও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুটি সূত্র বলেছে, ওই মিছিল সামগ্রিকভাবে যুবসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না। ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে হওয়া সংহতি খুব শিগগিরই মিলিয়ে যাবে। তবে বিজেপিরই একটি অংশ মনে করছে, কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়েই গেছে। কারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রার্থীদের অনেকে বিন্ধ্য অঞ্চলের (গুজরাট থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ হয়ে
উত্তরপ্রদেশের বেনারস পর্যন্ত)। এই শিক্ষার্থীদের পরিবার বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট ব্যাংক। সোনম ওয়াংচুকের অনশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের প্রতি প্রথমদিকে কংগ্রেস প্রত্যক্ষভাবে তেমন একটা উৎসাহী ছিল না। দলটির কেউ কেউ ওয়াংচুকের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধীর পরামর্শের পর কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের কাছে জবাব এবং দাবিও জানিয়েছে। মোদির জন্য কেন আলাদা ক্ষমতায় বসার পর এ ধরনের আন্দোলনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি এখনও অপরিচিত। তিনি অনেক প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখলেও সেগুলো ছিল নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠী কেন্দ্রিক। ২০০৭ সালে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মুখোমুখি হন। ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল
সরদার সরোবর বাঁধের উচ্চতা ১২২ মিটার পর্যন্ত বাড়ানোর পদক্ষেপের প্রতিবাদে। এছাড়া, গুজরাট দাঙ্গার সময় মোদির বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হলেও তা রাজপথে গড়ায়নি। কেবল মানবাধিকার কর্মীদের বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদি যেসব আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ২০১৯-২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) এবং নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধন (এনআরসি) বিরোধী আন্দোলন। সিএএ পাস হলে সেটির আওতায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম হয়। দিল্লির শাহিনবাগ এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কিন্তু ওই প্রতিবাদটিকে তখন ‘মুসলিমদের আন্দোলন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে সেটি সমাজের বিভিন্ন অংশকে নাড়া দিতে পারেনি। এছাড়া, সংসদে পাস হওয়া তিনটি
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ২০২০-২১ সালে প্রায় বছরব্যাপী আন্দোলন চলে। তখন দিল্লির সীমান্ত অবরুদ্ধ হওয়ার মুখে মোদি সরকার কৃষি আইন বাতিলের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়। এগুলোর আগে ও পরে আরও কয়েকটি প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও সেগুলো কোনোভাবেই চলমান আন্দোলনের চেয়ে বৃহৎ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছিল না। তরুণদের এই লড়াই নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীর বদলে সমাজের বিস্তৃত অংশের কাছে আবেদন তুলেছে। তবে এটি এখনও মাত্র কয়েক দিনের পুরোনো। সামনের দিনগুলোতে কতটা গতি পাবে কিংবা সরকার অচলাবস্থা কাটানোর উপায় বের করবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ভিডিও দেখার পরও তারা এসেছেন। তাদের সামাজিক পরিচয় এবং অঞ্চলও বৈচিত্র্যময়। ইংরেজি ঘেঁষা তরুণ-তরুণী, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, দিল্লির বাসিন্দা, বাইরে থেকে আসা মানুষ এমনকি অভিভাবকদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। যাদের সন্তানরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়েছে কিংবা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিহারের বাসিন্দা অভিজিৎ কুমার (পরিবর্তিত নাম) পাঞ্চাবে পড়াশোনা করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিলে মারধরের ভিডিও দেখার পর তিনি দিল্লি আসার সিদ্ধান্ত নেন। অভিজিতের পাশেই থাকা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা কয়েক তরুণ জানান, তারাও ভিডিও দেখার পর মুম্বাই থেকে এসেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। এই দাবি তরুণদের মন ছুঁয়ে
গেছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে সবাই এখন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে বিষয়টা তেমন নয়। অন্যদিকে, নেতৃত্বহীন আন্দোলনে বাড়তি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন শিক্ষা ও জলবায়ু বিষয়ক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার দিল্লির সেই মিছিলে প্রায় ৫০ হাজার তরুণের জমায়েত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। যা শুনে কেন্দ্রের এক মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করলেও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুটি সূত্র বলেছে, ওই মিছিল সামগ্রিকভাবে যুবসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না। ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে হওয়া সংহতি খুব শিগগিরই মিলিয়ে যাবে। তবে বিজেপিরই একটি অংশ মনে করছে, কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়েই গেছে। কারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রার্থীদের অনেকে বিন্ধ্য অঞ্চলের (গুজরাট থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ হয়ে
উত্তরপ্রদেশের বেনারস পর্যন্ত)। এই শিক্ষার্থীদের পরিবার বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট ব্যাংক। সোনম ওয়াংচুকের অনশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের প্রতি প্রথমদিকে কংগ্রেস প্রত্যক্ষভাবে তেমন একটা উৎসাহী ছিল না। দলটির কেউ কেউ ওয়াংচুকের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধীর পরামর্শের পর কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের কাছে জবাব এবং দাবিও জানিয়েছে। মোদির জন্য কেন আলাদা ক্ষমতায় বসার পর এ ধরনের আন্দোলনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি এখনও অপরিচিত। তিনি অনেক প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখলেও সেগুলো ছিল নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠী কেন্দ্রিক। ২০০৭ সালে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মুখোমুখি হন। ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল
সরদার সরোবর বাঁধের উচ্চতা ১২২ মিটার পর্যন্ত বাড়ানোর পদক্ষেপের প্রতিবাদে। এছাড়া, গুজরাট দাঙ্গার সময় মোদির বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হলেও তা রাজপথে গড়ায়নি। কেবল মানবাধিকার কর্মীদের বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদি যেসব আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ২০১৯-২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) এবং নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধন (এনআরসি) বিরোধী আন্দোলন। সিএএ পাস হলে সেটির আওতায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম হয়। দিল্লির শাহিনবাগ এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কিন্তু ওই প্রতিবাদটিকে তখন ‘মুসলিমদের আন্দোলন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে সেটি সমাজের বিভিন্ন অংশকে নাড়া দিতে পারেনি। এছাড়া, সংসদে পাস হওয়া তিনটি
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ২০২০-২১ সালে প্রায় বছরব্যাপী আন্দোলন চলে। তখন দিল্লির সীমান্ত অবরুদ্ধ হওয়ার মুখে মোদি সরকার কৃষি আইন বাতিলের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়। এগুলোর আগে ও পরে আরও কয়েকটি প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও সেগুলো কোনোভাবেই চলমান আন্দোলনের চেয়ে বৃহৎ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছিল না। তরুণদের এই লড়াই নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীর বদলে সমাজের বিস্তৃত অংশের কাছে আবেদন তুলেছে। তবে এটি এখনও মাত্র কয়েক দিনের পুরোনো। সামনের দিনগুলোতে কতটা গতি পাবে কিংবা সরকার অচলাবস্থা কাটানোর উপায় বের করবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।



