৮০% ছেলেই আনফিট তাই ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব অধ্যাপকের – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ জুন, ২০২৬

৮০% ছেলেই আনফিট তাই ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব অধ্যাপকের

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ জুন, ২০২৬ |
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পুত্তলিকা দহন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ ১৮ই জুন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এগ্রোটেকনোলজিসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল- দফা এক দাবি এক, রেজাউলের বহিষ্কার, রেজাউলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, রেজাউলের চামড়া তুলে নিব আমরা, রেজাউলের চামড়া কুত্তা দিয়ে কামড়া, যৌন হেনস্তাকারীর

ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবেনা, রেজাউলের বডিতে আগুন দেব এক সাথে এবং জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো। পরে সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের প্রতীকী পুত্তলিকা দাহ করেন। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, “অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও আমরা তেমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। আমরা এই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার চাই।” ছাত্রীদের গভীর রাতে অশালীন বার্তা প্রেরণ: ‘ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ ডিলিট হয়ে গেছে’ দাবি খুবি শিক্ষকের একই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী তানভীর বিন মুহিত বলেন, “একজন শিক্ষক যদি তার অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ

করেন বা এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা এই শিক্ষককে আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।” এর আগে গত মঙ্গলবার এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো কথিত উত্যক্ততামূলক বার্তার স্ক্রিনশট ও অন্যান্য প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, শুরুতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ, ব্যক্তিগত এবং অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিপত্রে এমন

কিছু বার্তার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতাসূচক মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, শুরুতে ওই শিক্ষক তার সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও ধীরে ধীরে মেসেঞ্জারে ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। উপর্যুক্ত প্রমাণসহ নথি পত্রে দেখা যায়, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল, আই লাভ ইউ মোর দ্যান আই ক্যান সে, লাভ ইন ইংলিশ দ্যা জান্নাহ, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তাহলে আজ থেকে ভালোবাসা শুরু হোক, বন্ধুর সাথে হাগ করলে সব ডিপ্রেশন থাকেনা, তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে দুনিয়ায় কম আছে, ডিসিপ্লিনে আমি শুধু মারি, আদর করে

মারি কোনো মেয়েদের মারিনা কিন্তু তোমাকে মারতে হবে এমন সব বাক্য প্রদান করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফেসবুকে শিক্ষককে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরদিন শিক্ষক সেটি গ্রহণ করেন এবং এরপর থেকেই ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানো শুরু করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি প্রথমে আমাকে বিস্মিত করেছিল। পরে বার্তাগুলো ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি বিষয়টি আর সহ্য করতে না পেরে সহপাঠী ও ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিদের জানাই। প্রথমদিকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখতে না পেলেও পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।” বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে

কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।” অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল ইসলামের দাবি, অধিকাংশ ছাত্রই (৮০%) শারীরিকভাবে আনফিট। কিন্ত তিনি এখনো শারীরিকভাবে সক্ষম। এমন দাবি করে তিনি নিপীড়নের শিকার ছাত্রীকে তার সাথে লিভ টুগেদারেরও প্রস্তাব দেন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত চলমান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের শিকার হয়ে থাকতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, মোবাইল ফোন হারানোর কথিত ঘটনার পরও শিক্ষকদের সঙ্গে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়েও তার প্রোফাইল থেকে গবেষণাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সংবাদ শেয়ার করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন। এদিকে অভিযোগ সামনে আসার পর আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানির অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না’—বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পর্তুগালের বিশ্বকাপ ‘এখনই শেষ হয়ে যায়নি’: রোনালদো ৮০% ছেলেই আনফিট তাই ছাত্রীকে লিভ টুগেদারের প্রস্তাব অধ্যাপকের এক হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক জুলাইযোদ্ধাকে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ, করতেন মাদকবিরোধী সংগঠনও ফেনীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের জেরে ৫ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকের পর কারাগারে সংরক্ষিত বনের ভেতরে এলজিইডির রাস্তা: বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে অনড় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাভারে মাদ্রাসার টয়লেট থেকে পাকিস্তানে তৈরি রিভলবার-গুলি উদ্ধার একাত্তেরর লজ্জাজনক পরাজয়ের পর আবারও বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন হামে শিশুমৃত্যুর দায়ে ইউনূস-নুরজাহানের বিচার দাবিতে মহাখালীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল গুপ্ত সংগঠন শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সুখবর পেল ব্রাজিল ঐতিহাসিক চুক্তিতে ইরানের বিজয় চাইনিজ স্ক্যামারদের কাছে তরুণদের ডলারে বিক্রি ইরান থেকে তেল কেনার উদ্যোগ ক্রিপ্টোতে প্রতিদিন পাচার কয়েকশ কোটি টাকা পাকিস্তানের চা, আতিথেয়তা ও বিয়ের ঐতিহ্যের প্রেমে মার্কিন কূটনীতিক এক আপেল, দুই রঙ! নিউজিল্যান্ডে বিরল আপেল দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জীবিত বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপি সবার সামনে সামান্থাকে ‘লাভ ইউ’ বলতে নারাজ রাজ, কিন্তু কেন? ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া খুবি অধ্যাপকের কুশপুত্তলিকা দাহ, জুতা নিক্ষেপ