ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সাধারণ পাসপোর্ট বহন করে, ডিপ্লোমেটিক প্রটোকলের আবদার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ এর
১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, বিআরটিএ’র নির্দেশ
মহাখালী থেকে বাস ডিপো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত
তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ
ইন্টারপোলের রেড নোটিশে নেই বেনজীর আহমেদের নাম, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন
খুলনায় মসজিদে সশস্ত্র হামলা: চাঁদাবাজি নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা? তদন্তে পুলিশ
মৌলবাদীদের পথেই হাটলেন মন্ত্রী পরিষদঃ প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রীপরিষদের অসন্মতি
হলরুম ভাড়া নিয়ে ব্যক্তিগত আয়োজনকে ‘অক্সফোর্ডের আমন্ত্রণ’ দাবিতে শিবির-এনসিপির মিথ্যাচার
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে শিবিরের সাদিক কায়েম অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বারে বক্তৃতা দিয়েছেন, এমন প্রচারণা ফেসবুকে নজরে আসার পর বিশিষ্ট লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের বড় ধরণের খটকা লাগে, কারণ ঐ ডিবেটিং চেম্বার বহু আগে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এক বন্ধু ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন।
ইয়েস, ঠিকই শুনছেন, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বার চাইলে যে-কেউ যেকোনো সামাজিক ও একাডেমিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া নিতে পারেন! এ জন্য অক্সফোর্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়া বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের মেম্বার হওয়ার কোনো শর্ত নেই। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে নিয়ম-কানুন লেখা রয়েছে, এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া নিতে ‘Private Hire’ নামে আলাদা সেকশন আছে।
চাইলে সেই অনুষ্ঠান অক্সফোর্ড
ইউনিয়নের সাথে কোলাবোরেটও করা যায়, যদি একাডেমিক ও রাজনীতিক আলোচনামূলক হয়। আপনি ভাড়া নিয়ে ইভেন্টের ঘোষণাও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে পারেন অনুরোধের মাধ্যমে। এই সুযোগটাই নিয়েছে শিবির ও এনসিপি’র প্রতারকবাহিনী। নিজেরা নিজেদের লোক দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে ভাড়া নিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ডিবেটিং চেম্বার, সেজেছে নিজেদের অনুষ্ঠানে নিজেরাই অতিথি, এবং আহাম্মক ফেসবুকারদের সামনে প্রচার করেছে যে তারা ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণ ও আয়োজনে’ সেখানে গিয়েছে! প্রমাণ হিশেবে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বার আগামী ১৩ই আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ‘Mohiuddin Mohammad Fan Club UK’ নামে বুকিং দিয়ে রেখেছেন, মাত্র ২০৪৮ পাউন্ড ফী’র
বিনিময়ে (বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা)। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া রিজার্ভেশন নাম্বার R19721053। শিবিরের সাদিক কায়েম ও এনসিপি’র হাসনাত আব্দুল্লাহ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ ও আয়োজনে সেখানে গিয়েছেন, এমন দাবি অনুসন্ধানের জন্য লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষকে নিচের ইমেইলটি করেন, সুনির্দিষ্টভাবে ৪টি বিষয় জানতে চেয়ে: “According to publicly circulated social media posts, two attendees or guest speakers, Mr. Hasnat Abdullah and Mr. Abu Sadik Kayem, have claimed that they were formally invited by the Oxford Union and/or Oxford University authorities, and that the event itself was officially organized by the Oxford Union or University authorities. In the interest of factual
accuracy and Oxford’s long old reputation, I would be grateful if you could kindly clarify the following: (1) Was this event officially organized, sponsored, or hosted by the Oxford Union Society? (2) Were Mr. Hasnat Abdullah and Mr. Abu Sadik Kayem from University of Dhaka formally invited by the Oxford Union in any official capacity? (3) Was the use of the Debating Chamber part of an official Oxford Union programme, or was it a privately organized or externally hired event? I know the Oxford Union debating chamber is available for private hire, open to the general public. (4) Did Oxford University or any of
its official authorities have any role in inviting, endorsing, or organizing this event? I fully appreciate the Oxford Union’s longstanding tradition of hosting a broad range of speakers and external events. My intention is solely to ascertain the factual authenticity of the public claims being made regarding institutional invitation and organization.” একই বিষয়ে তিনি টেলিফোনেও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান। জবাবে মহিউদ্দিন মোহাম্মদকে জানানো হয়, উল্লিখিত অনুষ্ঠানটি প্রাইভেট ক্যাপাসিটিতে করা, নির্ধারিত সময়ের জন্য ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া দেওয়া হয়েছে মাত্র। চাইলে যে-কেউ আমাদের ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে সামাজিক আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে। আপনি যে-অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করছেন, সে-অনুষ্ঠান আয়োজন, পরিকল্পনা, বা অতিথি
আমন্ত্রণের সাথে কোনোভাবেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ অফিসিয়াল ক্যাপাসিটিতে যুক্ত নয়। তবে আয়োজনকারী বা অতিথিরা যদি এই ধরণের প্রচারণা চালিয়ে থাকে যে, অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত বা বক্তাদেরকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাহলে আমরা ভবিষ্যতের জন্য তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করবো। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী পদক্ষেপও নেওয়া হবে। অর্থাৎ অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, উক্ত অনুষ্ঠান স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির লোকজন (সম্ভবত জামায়াত-এনসিপি’র যুক্তরাজ্য শাখা) দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত। এর সাথে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু শিবিরের সাদিক কায়েমের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি সেই ভাড়া নেওয়া ডিবেটিং চেম্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন, যেখানে লিখেছেন: “অক্সফোর্ড
ইউনিয়নে একটি চমৎকার ও রোমাঞ্চকর সন্ধ্যা। আমি একসময় দেখতাম মেহেদী হাসান, শশী থারুর এবং থেরেসা মে-র মতো ব্যক্তিত্বরা এই মঞ্চেই অসাধারণ সব বক্তৃতা দিচ্ছেন। আমার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি যে কোনো একদিন আমি নিজেই এখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেব। কিন্তু আজ আমি এখানে, এই স্বপ্নের মতো জায়গায় বাংলাদেশ, ডাকসু (DUCSU) এবং গৌরবময় জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করছি। আরও অনেক পথ চলা বাকি!” এবং ভিডিও বার্তার ৬ সেকেন্ডে তিনি পরিষ্কার বাংলায় দাবি করেছেন- “আমি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে এখানে এসেছি”! এনসিপি’র সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ভেরিফায়েড পেইজ ‘Hasnat for Cumilla-4’ পেইজেও একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে লেখা: “অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে ঐতিহাসিক সেমিনার কক্ষে হাসনাত আব্দুল্লাহ”! একই পোস্টের টেক্সট ক্যাপশনে লেখা হয়: “’ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে মুখরিত অক্সফোর্ড ইউনিয়ণের ঐতিহাসিক সেমিনার কক্ষ”! এই অভিনব প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির বিষয়ে অক্সফোর্ড পড়ুয়া এক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি অবাক হন। জানান, “প্রতারণামূলকভাবে নাম কামানোর অভ্যাস বাংলাদেশীদের মাঝে রয়েছে। এ ধরণের ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অফিশিয়ালি আয়োজিত প্রতিটি অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ক্যালেন্ডার রয়েছে। তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও অনুষ্ঠানগুলোর প্রচারণা চালানো হয়। ওয়েবসাইটের ইভেন্ট সেকশনেও বিস্তারিত তথ্য থাকে। ছাত্ররাও আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইমেইলে আমন্ত্রণ পায়। কিন্তু উল্লিখিত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরণের কিছু আমার নজরে পড়েনি।” সংযুক্তি: সাদিক কায়েম গংয়ের অক্সফোর্ড সফর হলো ফ্রডিউলেন্ট মিসরেপ্রেজেন্টেশনের একটা টেক্সটবুক এক্সাম্পল। অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে অক্সফোর্ড নগরের বাংলা সোসাইটি। এবং এ ধরণের অনুষ্ঠান যে-কেউ অক্সফোর্ড ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে করতে পারে। যেরকম ১৩ই আগস্ট ২০২৬ তারিখের জন্য লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ভাড়া নিয়েছেন। একাডেমিক ও রাজনীতিক আলোচনামূলক অনুষ্ঠান হলে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ছাত্ররা পার্টনার হিসেবেও যুক্ত হয়। আপনি চাইলে আপনার অনুষ্ঠানের বিদেশী অতিথিদের জন্য ইউনিয়ন থেকে ভিসা লেটারও অনুরোধের মাধ্যমে ইস্যু করাতে পারবেন। উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন হলো অক্সফোর্ডের ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত একটি ক্লাব এবং এ ধরণের ক্লাব সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই কমবেশি থাকে। ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি ফিলিস্তিনের এক ছাত্রী, নাম Arwa Elrayess! আমাদের ছাত্ররা বেশি বেশি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখুক, সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিক, এটা আমরা কে না চাই? কিন্তু এই প্রতারণা কেন? নিজেকে হনুমান দেখানোর? ফিলিস্তিনী ছাত্রী Arwa Elrayess-এর সাথে কে কে যোগাযোগ করেছে, কী কী অনুরোধ ও তদবির করেছে, কীভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে, কে টাকা দিয়েছে, কীভাবে ভিসা লেটার নেয়া হয়েছে, এই তথ্যও কিন্তু আমাদের হাতে এসেছে। উল্লেখ্য যে, Arwa Elrayess-এর বিরুদ্ধে অক্সফোর্ডের ছাত্ররা বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগ এনে তার পদত্যাগ দাবি করছে।
ইউনিয়নের সাথে কোলাবোরেটও করা যায়, যদি একাডেমিক ও রাজনীতিক আলোচনামূলক হয়। আপনি ভাড়া নিয়ে ইভেন্টের ঘোষণাও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে পারেন অনুরোধের মাধ্যমে। এই সুযোগটাই নিয়েছে শিবির ও এনসিপি’র প্রতারকবাহিনী। নিজেরা নিজেদের লোক দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে ভাড়া নিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ডিবেটিং চেম্বার, সেজেছে নিজেদের অনুষ্ঠানে নিজেরাই অতিথি, এবং আহাম্মক ফেসবুকারদের সামনে প্রচার করেছে যে তারা ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণ ও আয়োজনে’ সেখানে গিয়েছে! প্রমাণ হিশেবে লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বার আগামী ১৩ই আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ‘Mohiuddin Mohammad Fan Club UK’ নামে বুকিং দিয়ে রেখেছেন, মাত্র ২০৪৮ পাউন্ড ফী’র
বিনিময়ে (বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা)। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া রিজার্ভেশন নাম্বার R19721053। শিবিরের সাদিক কায়েম ও এনসিপি’র হাসনাত আব্দুল্লাহ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ ও আয়োজনে সেখানে গিয়েছেন, এমন দাবি অনুসন্ধানের জন্য লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষকে নিচের ইমেইলটি করেন, সুনির্দিষ্টভাবে ৪টি বিষয় জানতে চেয়ে: “According to publicly circulated social media posts, two attendees or guest speakers, Mr. Hasnat Abdullah and Mr. Abu Sadik Kayem, have claimed that they were formally invited by the Oxford Union and/or Oxford University authorities, and that the event itself was officially organized by the Oxford Union or University authorities. In the interest of factual
accuracy and Oxford’s long old reputation, I would be grateful if you could kindly clarify the following: (1) Was this event officially organized, sponsored, or hosted by the Oxford Union Society? (2) Were Mr. Hasnat Abdullah and Mr. Abu Sadik Kayem from University of Dhaka formally invited by the Oxford Union in any official capacity? (3) Was the use of the Debating Chamber part of an official Oxford Union programme, or was it a privately organized or externally hired event? I know the Oxford Union debating chamber is available for private hire, open to the general public. (4) Did Oxford University or any of
its official authorities have any role in inviting, endorsing, or organizing this event? I fully appreciate the Oxford Union’s longstanding tradition of hosting a broad range of speakers and external events. My intention is solely to ascertain the factual authenticity of the public claims being made regarding institutional invitation and organization.” একই বিষয়ে তিনি টেলিফোনেও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান। জবাবে মহিউদ্দিন মোহাম্মদকে জানানো হয়, উল্লিখিত অনুষ্ঠানটি প্রাইভেট ক্যাপাসিটিতে করা, নির্ধারিত সময়ের জন্য ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া দেওয়া হয়েছে মাত্র। চাইলে যে-কেউ আমাদের ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে সামাজিক আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে। আপনি যে-অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করছেন, সে-অনুষ্ঠান আয়োজন, পরিকল্পনা, বা অতিথি
আমন্ত্রণের সাথে কোনোভাবেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ অফিসিয়াল ক্যাপাসিটিতে যুক্ত নয়। তবে আয়োজনকারী বা অতিথিরা যদি এই ধরণের প্রচারণা চালিয়ে থাকে যে, অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত বা বক্তাদেরকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাহলে আমরা ভবিষ্যতের জন্য তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করবো। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী পদক্ষেপও নেওয়া হবে। অর্থাৎ অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, উক্ত অনুষ্ঠান স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির লোকজন (সম্ভবত জামায়াত-এনসিপি’র যুক্তরাজ্য শাখা) দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত। এর সাথে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু শিবিরের সাদিক কায়েমের ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায়, তিনি সেই ভাড়া নেওয়া ডিবেটিং চেম্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন, যেখানে লিখেছেন: “অক্সফোর্ড
ইউনিয়নে একটি চমৎকার ও রোমাঞ্চকর সন্ধ্যা। আমি একসময় দেখতাম মেহেদী হাসান, শশী থারুর এবং থেরেসা মে-র মতো ব্যক্তিত্বরা এই মঞ্চেই অসাধারণ সব বক্তৃতা দিচ্ছেন। আমার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি যে কোনো একদিন আমি নিজেই এখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেব। কিন্তু আজ আমি এখানে, এই স্বপ্নের মতো জায়গায় বাংলাদেশ, ডাকসু (DUCSU) এবং গৌরবময় জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করছি। আরও অনেক পথ চলা বাকি!” এবং ভিডিও বার্তার ৬ সেকেন্ডে তিনি পরিষ্কার বাংলায় দাবি করেছেন- “আমি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে এখানে এসেছি”! এনসিপি’র সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ভেরিফায়েড পেইজ ‘Hasnat for Cumilla-4’ পেইজেও একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে লেখা: “অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে ঐতিহাসিক সেমিনার কক্ষে হাসনাত আব্দুল্লাহ”! একই পোস্টের টেক্সট ক্যাপশনে লেখা হয়: “’ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে মুখরিত অক্সফোর্ড ইউনিয়ণের ঐতিহাসিক সেমিনার কক্ষ”! এই অভিনব প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির বিষয়ে অক্সফোর্ড পড়ুয়া এক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি অবাক হন। জানান, “প্রতারণামূলকভাবে নাম কামানোর অভ্যাস বাংলাদেশীদের মাঝে রয়েছে। এ ধরণের ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন বা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অফিশিয়ালি আয়োজিত প্রতিটি অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ক্যালেন্ডার রয়েছে। তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও অনুষ্ঠানগুলোর প্রচারণা চালানো হয়। ওয়েবসাইটের ইভেন্ট সেকশনেও বিস্তারিত তথ্য থাকে। ছাত্ররাও আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইমেইলে আমন্ত্রণ পায়। কিন্তু উল্লিখিত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরণের কিছু আমার নজরে পড়েনি।” সংযুক্তি: সাদিক কায়েম গংয়ের অক্সফোর্ড সফর হলো ফ্রডিউলেন্ট মিসরেপ্রেজেন্টেশনের একটা টেক্সটবুক এক্সাম্পল। অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে অক্সফোর্ড নগরের বাংলা সোসাইটি। এবং এ ধরণের অনুষ্ঠান যে-কেউ অক্সফোর্ড ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে করতে পারে। যেরকম ১৩ই আগস্ট ২০২৬ তারিখের জন্য লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ ভাড়া নিয়েছেন। একাডেমিক ও রাজনীতিক আলোচনামূলক অনুষ্ঠান হলে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ছাত্ররা পার্টনার হিসেবেও যুক্ত হয়। আপনি চাইলে আপনার অনুষ্ঠানের বিদেশী অতিথিদের জন্য ইউনিয়ন থেকে ভিসা লেটারও অনুরোধের মাধ্যমে ইস্যু করাতে পারবেন। উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন হলো অক্সফোর্ডের ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত একটি ক্লাব এবং এ ধরণের ক্লাব সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই কমবেশি থাকে। ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি ফিলিস্তিনের এক ছাত্রী, নাম Arwa Elrayess! আমাদের ছাত্ররা বেশি বেশি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখুক, সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিক, এটা আমরা কে না চাই? কিন্তু এই প্রতারণা কেন? নিজেকে হনুমান দেখানোর? ফিলিস্তিনী ছাত্রী Arwa Elrayess-এর সাথে কে কে যোগাযোগ করেছে, কী কী অনুরোধ ও তদবির করেছে, কীভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে, কে টাকা দিয়েছে, কীভাবে ভিসা লেটার নেয়া হয়েছে, এই তথ্যও কিন্তু আমাদের হাতে এসেছে। উল্লেখ্য যে, Arwa Elrayess-এর বিরুদ্ধে অক্সফোর্ডের ছাত্ররা বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগ এনে তার পদত্যাগ দাবি করছে।



