শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ জুন, ২০২৬

শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ জুন, ২০২৬ |
কোনো কোনো আঘাত আছে, তা প্রত্যাঘাত হয়ে জ্বলে ওঠে। আবার কোনো কোনো আঘাত আছে, নিস্তব্ধ করে দেয়। বিপরীতধর্মী এই প্রতিক্রিয়া কার ওপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করবে, সেটা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। কথাটা ছন্দময়, আনন্দদায়ক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পূজারী ব্রাজিলকে নিয়ে। পঞ্চাশ দশকে মারাত্মক একটা মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা খেয়ে দলটি এমনভাবে জেগে উঠে, অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে আরেকটি গ্লানিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে দলটি যেন দিশা হারিয়ে ফেলেছে। প্রত্যাবর্তনের পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলে হেরে যাওয়াটা ছিল এক তীব্র জাতীয় ট্র্যাজেডি, যা ইতিহাসে 'মারাকানাজো' নামে পরিচিত। এই হারের বেদনার গভীরতা

ছিল অসীম। কারণ শিরোপা জেতার জন্য ব্রাজিলের কেবল একটি ড্র প্রয়োজন ছিল এবং গোটা দেশ আগে থেকেই উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। ম্যাচটিতে ব্রাজিল প্রথমে এগিয়ে গেলেও উরুগুয়ে দুটি গোল করে ম্যাচ ও শিরোপা ছিনিয়ে নেয়। জয়ের জন্য উন্মুখ প্রায় দুই লাখ দর্শকের সেই বিশাল স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মারাকানা। ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, ব্রাজিলের সংস্কৃতির অংশ। এই অপ্রত্যাশিত হারে গোটা দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তা পরিণত হয় দুঃখ ও হতাশায়। অনেকে এই ধাক্কা মানতে না পেরে কান্নাকাটি শুরু করেন। এমনকি স্টেডিয়ামে ও এর বাইরে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছিল। পত্রিকায় শোকবার্তা ছাপা হয়েছিল

এবং ফুটবলারদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখা হয়েছিল। এই হারের জন্য সবচেয়ে বেশি বলি হতে হয়েছিল ব্রাজিলের কৃষ্ণাঙ্গ গোলরক্ষক মোয়াসির বারবোসাকে। আজীবন খলনায়ক বনে যান। একটি ভুলের জন্য তাকে সারাজীবন অপরাধবোধ ও সামাজিক বয়কটের শিকার হতে হয়েছিল, যা তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বয়ে বেড়িয়েছেন। এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাটি ব্রাজিলীয়দের মধ্যে এতই মানসিক আঘাত তৈরি করে, এটি তাদের ফুটবল সংস্কৃতির এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেই লজ্জাজনক হারের পর ব্রাজিল দল তাদের আগের 'অভিশপ্ত' সাদা জার্সি পুরোপুরি বর্জন করে। ১৯৫৩ সালে সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী নকশা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে হলুদ, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে নতুন আইকনিক জার্সি তৈরি করা হয়। নতুন এই

জার্সি ব্রাজিলের ফুটবলে জয় ও আনন্দের প্রতীক হয়ে ওঠে। ঐ হারের পর ব্রাজিল ফুটবলে মানসিক জোর, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। আবেগ বা অতি আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে ফুটবলকে নিখুঁত করার প্রেরণা হিসেবে এই ট্র্যাজেডি ভূমিকা রাখে। এই বেদনার আগুন থেকেই ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পণ করে ব্রাজিল। পরবর্তীতে পেলের মতো কিংবদন্তিদের হাত ধরে 'সেলেসাও'রা বিশ্বকাপ মঞ্চে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, যা ওই শোককে শক্তিতে রূপ দেওয়ার একটি দারুণ দৃষ্টান্ত। কোনো জাতীয় বিপর্যয় বা গভীর বেদনা কেবল বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি বংশপরম্পরায় বয়ে বেড়াতে হয়। মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও জৈবিক—এই তিন স্তরে এর প্রভাব যুগের

পর যুগ ধরে প্রবাহিত হতে পারে।আধুনিক বিজ্ঞান ও জেনেটিক্স গবেষণা প্রমাণ করেছে, পূর্বপুরুষদের সহ্য করা চরম মানসিক আঘাত বা ভয় তাঁদের জিনগত গঠনে এমন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আনে, যা পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানদের মধ্যে বাহিত হয়। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্ম অকারণে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক ট্রমা ও বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, গণহত্যা বা বড় কোনো মহামারির মতো জাতীয় বিপর্যয়গুলো পুরো সমাজের মনস্তত্ত্বে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই ট্রমার শিকার মানুষের আচরণ, ভয় ও দৃষ্টিভঙ্গি পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে পরবর্তী প্রজন্মে সংক্রমিত হয়। অভিভাবকের অতিরিক্ত ভয় বা অসহায়ত্ব দেখে বেড়ে উঠা সন্তানরাও অবচেতনভাবে সেই মানসিকতা আত্মস্থ করে। বেদনাদায়ক জাতীয় ইতিহাস সাহিত্য বা

শিল্পের মাধ্যমে কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে মুখে লোকগাথা হিসেবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। এই আখ্যানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক বেদনার সঙ্গে যুক্ত রাখে। আর এ কারণে ১৯৫০ সালের এই ক্ষত এখনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি বড় প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবলের দলের সবারই ১৯৫০ সালের দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা ছিল। এমনকি সেই দলের দুজন খেলোয়াড় এই দলে ছিলেন। দলের সবচেয়ে জুনিয়র সদস্য পেলেও এই দুঃস্বপ্নের বাহক ছিলেন। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপেও সাফল্য না পাওয়ায় খেলোয়াড়রা হৃদয়ে গভীর ক্ষত নিয়ে খেলতে নামেন। এই জাতীয় ট্র্যাজেডি তাদের জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। তাদেরকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে, যে

কোনো মূল্যে দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৮ সালের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়রা এই বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পেরেছিলেন। ফাইনালের প্রথমার্ধে যখন সুইডেন ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, তখন লেফট উইঙ্গার মারিও জাগালোর মনে ১৯৫০ সালের ফাইনালের কথা মনে পড়ে যায় এবং তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, ব্রাজিল আবারও ট্র্যাজেডির শিকার হবে কি-না। তবে তিনি দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক উভয় ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন এবং ব্রাজিলের চতুর্থ গোলটি নিজে করেন ও পঞ্চম গোলে পেলেকে সহায়তা করেন। ১৯৫০ সালের দলে থাকলেও সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি লেফটব্যাক নিলটন সান্তোস আর মিডফিল্ডার ডিডি ছিলেন ১৯৫৪ সালের হতাশার অংশ। ১৯৫৮ সালের টুর্নামেন্টে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গ্রুপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তারা কোচ ভিনসেন্ট ফিওলাকে বুঝিয়েছিলেন যে, ১৯৫০-এর মতো অতিরিক্ত রক্ষণশীল না থেকে তরুণ ও প্রতিভাবান স্ট্রাইকার পেলে ও রাইট উইঙ্গার গারিঞ্চাকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কোচ তাদের পরামর্শ মেনে নিয়েছিলেন, যা দলের খেলার ধরন বদলে দেয় এবং শিরোপা জেতা সহজ করে। ১৭ বছর বয়সী পেলে ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দলের গর্বিত সদস্য হন। তবে ৯ বছর বয়সে ১৯৫০ সালের ওই হারের সময় তিনি নিজ বাড়িতে তার বাবাকে কাঁদতে দেখেছিলেন। সেই কান্নার দৃশ্য এবং বাবার হতাশাই তাঁকে প্ররোচিত করেছিল বড় হয়ে একদিন বিশ্বকাপ জিতে সেই বেদনার উপশম ঘটাতে। এ ছাড়া পুরো ব্রাজিল দল ১৯৫০ সালের সাদা জার্সির 'অভিশাপ' থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে নিজেদের প্রমাণ করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এরপর ব্রাজিল ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২ সালে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সর্বেসর্বা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে। আর কোনো দল পাঁচবার শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই এস্তাদিও মিনেইরাও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে কুখ্যাত 'সেভেন আপ' খ্যাত ৭-১ গোলে ব্রাজিলের হারটি কেবল একটি ম্যাচ ছিল না, এটি ছিল ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি বড় জাতীয় ট্র্যাজেডি বা 'মিনেইরাজো'। নিজ দেশের মাটিতে এমন বিধ্বস্ত ও অপমানজনক পরাজয় গোটা ব্রাজিলবাসীকে হতবাক ও গভীরভাবে শোকাহত করেছিল। ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমেছিল ব্রাজিল। মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যে জার্মানি ৫-০ গোলে এগিয়ে যায়, যা পুরো ব্রাজিলিয়ান গ্যালারিকে কান্নায় ভাসিয়ে দিয়েছিল। এটি ছিল ১৯৩৪ সালের পর ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার এবং নিজ মাটিতে ১৯৯৫ সালের পর প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পরাজয়। সমর্থকরা স্টেডিয়ামে বসে এবং টেলিভিশনের পর্দায় দলের এই করুণ পরিণতি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। হারের পর স্টেডিয়ামে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। হাজার হাজার দর্শক হতাশায় মাঠ ছাড়েন এবং অনেকে মাঠে বসেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন। খবরের কাগজগুলো একে 'ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবমাননাকর পরাজয়' বলে আখ্যা দেয়। দলের সেরা তারকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়েন এবং অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা নিষিদ্ধ ছিলেন। সেই মানসিক শূন্যতা ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ দলটির ডিফেন্সকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ডেভিড লুইজের মতো ডিফেন্ডারদের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য গোটা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। এই হারের বেদনা এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেক সমর্থক তাৎক্ষণিকভাবে খেলোয়াড়, কোচ ও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এমনকি হারের দুঃখ ভুলতে সমর্থক থেকে শুরু করে কোচ লুই ফেলিপ স্কলারি পর্যন্ত একে 'জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিন' বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই বেদনার পর ব্রাজিলের ফুটবল অনেকটা সময় ট্রমার মধ্য দিয়ে পার করেছে। ১৯৫০ সালের ট্র্যাজেডির ৮ বছর পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০১৪ সালে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর দলটি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব কটি আসরের চূড়ান্ত পর্বে খেলার অনন্য রেকর্ডটি কেবল ব্রাজিলের। অথচ এবারই প্রথম দলটি চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারবে কি-না তা নিয়ে বড় রকম সংশয় সৃষ্টি হয়। কোনো রকম ধুকতে ধুকতে কনমেবল গ্রুপে পঞ্চম হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা না বাড়লে কপালে খারাপি ছিল। একটা পর্যায়ে দলটি অনেকটা ছন্নছাড়ায় পরিণত হয়। প্রথম বিদেশি কোচ ইতালির কার্লো আনচেলত্তি দলের হাল ধরায় বেহাল দশা থেকে রক্ষা পেয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলটি বরাবরই টপ ফেবারিট থাকলেও এবার তেমনটা মনে করা হচ্ছে না। অতীত ঐতিহ্য ও গৌরবের কারণে দলটির নাম উচ্চারিত হলেও জোর দিয়ে কিছু বলার উপায় নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, কোচিং স্টাফদের ঘন ঘন পরিবর্তন এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে ব্রাজিলকে এবারের বিশ্বকাপের টপ ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ইউরোপীয় পরাশক্তি যেমন স্পেন, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডকে বাজি ধরার ক্ষেত্রে অনেকে এগিয়ে রাখছেন। বাছাইপর্বে ও প্রীতি ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল দলের পারফরম্যান্সে আশানুরূপ ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারা তাদের অন্যতম বড় দুর্বলতা। গত বিশ্বকাপের পর দলের কোচ এবং ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সে সময় নতুন কোচের অধীনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল, যার কারণে দল পুরোপুরি থিতু হতে সময় লাগছে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ডিফেন্সে বেশ কিছু দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান ফুটবলে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ডের স্কোয়াড অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এসব দলের খেলোয়াড়রা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে দারুণ ফর্মে থাকায় বিশ্লেষকদের চোখে তারা ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে আছে। সর্বশেষ দুটি প্রীতি ম্যাচে দুই জয় পেলেও তাতে খুব বেশি উৎফুল্ল হওযার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। রক্ষণভাগে ভঙ্গুরতা এবং আক্রমণভাগে ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা চোখে পড়েছে৷ তবে বর্তমান দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কার্লোস ক্যাসেমিরোর মতে, ফেবারিট হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু না করাটা ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক। এতে দলের ওপর বাড়তি কোনো চাপ থাকে না এবং তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবেন। সান্ত্বনাস্বরূপ এ কথা বলা হলেও ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাজির দর মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। এবার যদি চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার রেকর্ড গড়বে দলটি। ব্রাজিল কি উরুগুয়ের পথে হাঁটছে? যদি দুই দলের অনেক ব্যবধান। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে দুইবার হলেও আর কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দলটি। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্রাজিল এরপর 'ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি' আবার কবে নিজেদের ঘরে নিতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আরেকটা বিষয়, সাম্প্রতিককালে ইউরোপীয় দলগুলো নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাদের টেক্কা দিয়ে শীর্ষস্থান দখল করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রথমবার ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপের চারটি দল চ্যাম্পিয়ন হয়। গতবার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাতিন শিবিরে খানিকটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও সেটা কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তেমনটা হলে ব্রাজিলের দুর্দিন সহসা কাটবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না। আমেরিকান কবি ও অধিকারকর্মী মায়া অ্যাঞ্জেলোর কবিতার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য শক্তি এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে ব্রাজিল কি বলতে পারবে- 'ইতিহাসের লজ্জার কুঁড়েঘর থেকে আমি জেগে উঠি যন্ত্রণায় প্রোথিত এক অতীত থেকে আমি জেগে উঠি'।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ইরানে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন ডিজে সঞ্জয় যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় সেই শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার এডিসিকে ২৪ দিনে ৩ বার বদলি, নেপথ্যে কে? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ গ্রেফতার ২ ‘অপহৃত’ সেই শিবির নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা ফেসবুক-মেসেঞ্জারে হঠাৎ বিভ্রাট, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা ভারতের নতুন সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, ঢাকায় ৩ রাউজানে মাথায় গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা চার দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে গ্যাসের স্বল্পচাপ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে সঞ্জয় রাজধানীতে ৩ ঘণ্টার ঝুমবৃষ্টি তাপমাত্রা কমল ১০ ডিগ্রি নিউইয়র্ক উৎসবে তানভীর মোকাম্মেলের ‘মতুয়ামঙ্গল’ ‘ছিন্ন বিশ্বে’ একতার গান