ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল?
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন ডিজে সঞ্জয়
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে সঞ্জয়
‘ছিন্ন বিশ্বে’ একতার গান
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চান বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী
বিশ্বকাপের মাঝেই চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ব্রিতো
মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন
যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল
ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।
অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড়
ফ্যাশন কোলাবোরেশনে। ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড 'লোয়েভে' (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে 'বোগি মিলানো' (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া। ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের
জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে। একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে। পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'গ্যাপ' (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে 'আর্বান আউটফিটার্স'-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে। স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই
পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ। একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ
উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।
ফ্যাশন কোলাবোরেশনে। ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড 'লোয়েভে' (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে 'বোগি মিলানো' (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া। ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের
জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে। একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে। পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'গ্যাপ' (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে 'আর্বান আউটফিটার্স'-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে। স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই
পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ। একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ
উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।



